ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ : ৯ মাসে আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮২ জন, ১০ জনের মৃত্যু পেকুয়ায় ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা পরকীয়া ও অর্থ লেনদেনের বিরোধে চকরিয়ার ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা-পুলিশ : আরো ২ ঘাতক আটক জলদস্যু প্রতিরোধে বঙ্গোপসাগরে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে জাল কাগজপত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন, যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড টেকনাফে এসআরবির অভিযান ৫ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছোলামুড়ি বিক্রির আড়ালে মাদক কারবার, ইয়াবাসহ আটক করলো পুলিশ কবি অমিত চৌধুরীর নাগরিক শোক সভা ৩১ অক্টোবর থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

এক যু/দ্ধের বিনিময়ে আরেক যু/দ্ধের অবসান: বাস্তবতা নাকি কল্পনা?

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায়ই একটি ধারণা সামনে আসে, একটি বড় সংঘাতকে “সমঝোতার মাধ্যমে” থামাতে গেলে অন্য কোথাও ছাড় দিতে হয়। আজকের প্রেক্ষাপটে সেই প্রশ্নটি নতুনভাবে উত্থাপিত হয়েছে: যদি ইউক্রেন কে বলির পাঁঠা করা হয়, যদি ন্যাটো দুর্বল বা বিলীন হয়, তাহলে কি ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনা বা সম্ভাব্য যুদ্ধ থেমে যাবে?

প্রথম দর্শনে এই ধারণা কৌশলগত বলে মনে হতে পারে। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে প্রভাবের ক্ষেত্র ভাগ করে নিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা সেই পুরনো সরল সমীকরণকে অনেকটাই অকার্যকর করে দিয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, একটি আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে। এখানে ইউক্রেন নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। কিন্তু তাকে “বলির পাঁঠা” হিসেবে উৎসর্গ করলে কি সত্যিই বিশ্ব শান্ত হবে? নাকি এটি আরও বড় অস্থিরতার পথ খুলে দেবে?

একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে বা তার সার্বভৌমত্বকে বিসর্জন দিয়ে অন্যত্র শান্তি কেনা, এই ধারণা নৈতিকভাবে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, তেমনি কৌশলগতভাবেও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে একটি বিপজ্জনক বার্তা যায়: শক্তিশালী রাষ্ট্র চাইলে দুর্বল রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। এর ফল হতে পারে নতুন আগ্রাসন, নতুন সংঘাত।

একইভাবে, ন্যাটো এর বিলুপ্তি নিয়ে যে তত্ত্ব প্রচলিত আছে, সেটিও এক পাক্ষিক। সত্য যে, ন্যাটো এর সম্প্রসারণ রাশিয়া এর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্য, এই জোট বহু দেশের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এটি হঠাৎ বিলীন হয়ে গেলে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা কি নতুন সংঘাতের জন্ম দেবে না?

অন্যদিকে, ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার নিজস্ব বাস্তবতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নির্ধারিত হয় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মতাদর্শ, এবং দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব দ্বারা, বিশেষ করে ইসরাইল এর সঙ্গে সম্পর্ক, উপসাগরীয় শক্তির ভারসাম্য, এবং অভ্যন্তরীণ কৌশলগত হিসাব। এই জটিল বাস্তবতা ইউক্রেন বা ন্যাটো এর ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়।

অতএব, “এক যুদ্ধের বিনিময়ে আরেক যুদ্ধ থামানো” এই ধারণাটি বাস্তবে অনেকটাই কল্পনাপ্রসূত। এটি এমন একটি সরলীকরণ, যা বিশ্বরাজনীতির বহুস্তরীয় বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। বরং একটি সংঘাতে ছাড় দিলে অন্যত্র শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, শান্তি কখনোই অন্যায়ের বিনিময়ে টেকসই হয় না। একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে যদি সাময়িক স্থিতি আসে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অস্থিরতার ভিত্তি তৈরি করে।

আজকের বিশ্বে প্রয়োজন “বিনিময়ের শান্তি” নয়, বরং “ন্যায়ভিত্তিক শান্তি” যেখানে কোনো রাষ্ট্রকে বলির পাঁঠা হতে হবে না, এবং কোনো শক্তিকেই অন্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দেওয়া হবে না।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

এক যু/দ্ধের বিনিময়ে আরেক যু/দ্ধের অবসান: বাস্তবতা নাকি কল্পনা?

আপডেট সময় : ১২:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায়ই একটি ধারণা সামনে আসে, একটি বড় সংঘাতকে “সমঝোতার মাধ্যমে” থামাতে গেলে অন্য কোথাও ছাড় দিতে হয়। আজকের প্রেক্ষাপটে সেই প্রশ্নটি নতুনভাবে উত্থাপিত হয়েছে: যদি ইউক্রেন কে বলির পাঁঠা করা হয়, যদি ন্যাটো দুর্বল বা বিলীন হয়, তাহলে কি ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনা বা সম্ভাব্য যুদ্ধ থেমে যাবে?

প্রথম দর্শনে এই ধারণা কৌশলগত বলে মনে হতে পারে। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে প্রভাবের ক্ষেত্র ভাগ করে নিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা সেই পুরনো সরল সমীকরণকে অনেকটাই অকার্যকর করে দিয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, একটি আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে। এখানে ইউক্রেন নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। কিন্তু তাকে “বলির পাঁঠা” হিসেবে উৎসর্গ করলে কি সত্যিই বিশ্ব শান্ত হবে? নাকি এটি আরও বড় অস্থিরতার পথ খুলে দেবে?

একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে বা তার সার্বভৌমত্বকে বিসর্জন দিয়ে অন্যত্র শান্তি কেনা, এই ধারণা নৈতিকভাবে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, তেমনি কৌশলগতভাবেও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে একটি বিপজ্জনক বার্তা যায়: শক্তিশালী রাষ্ট্র চাইলে দুর্বল রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। এর ফল হতে পারে নতুন আগ্রাসন, নতুন সংঘাত।

একইভাবে, ন্যাটো এর বিলুপ্তি নিয়ে যে তত্ত্ব প্রচলিত আছে, সেটিও এক পাক্ষিক। সত্য যে, ন্যাটো এর সম্প্রসারণ রাশিয়া এর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্য, এই জোট বহু দেশের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এটি হঠাৎ বিলীন হয়ে গেলে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা কি নতুন সংঘাতের জন্ম দেবে না?

অন্যদিকে, ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার নিজস্ব বাস্তবতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নির্ধারিত হয় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মতাদর্শ, এবং দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব দ্বারা, বিশেষ করে ইসরাইল এর সঙ্গে সম্পর্ক, উপসাগরীয় শক্তির ভারসাম্য, এবং অভ্যন্তরীণ কৌশলগত হিসাব। এই জটিল বাস্তবতা ইউক্রেন বা ন্যাটো এর ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়।

অতএব, “এক যুদ্ধের বিনিময়ে আরেক যুদ্ধ থামানো” এই ধারণাটি বাস্তবে অনেকটাই কল্পনাপ্রসূত। এটি এমন একটি সরলীকরণ, যা বিশ্বরাজনীতির বহুস্তরীয় বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। বরং একটি সংঘাতে ছাড় দিলে অন্যত্র শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, শান্তি কখনোই অন্যায়ের বিনিময়ে টেকসই হয় না। একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে যদি সাময়িক স্থিতি আসে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অস্থিরতার ভিত্তি তৈরি করে।

আজকের বিশ্বে প্রয়োজন “বিনিময়ের শান্তি” নয়, বরং “ন্যায়ভিত্তিক শান্তি” যেখানে কোনো রাষ্ট্রকে বলির পাঁঠা হতে হবে না, এবং কোনো শক্তিকেই অন্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার দেওয়া হবে না।