ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত গর্জনিয়ার সিজান দাখিলে জিপিএ ৫ পাওয়ায় মক্কা প্রাদেশিক বিএনপি পরিবারের অভিনন্দন এসএসসিতে ১২৪৭ নম্বর পেয়ে ফাউজিয়া আফিয়া করিম কক্সবাজার জেলায় চতুর্থ ইপসা’র উদ্যোগে মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শ সভা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ, বিলবোর্ড ৭টায় টিটিএনে সংবাদ প্রকাশের পর লোহাগাড়ায় সড়ক দখলকরে ছাগলের বাজার বসানো ইজারাদারকে জরিমানা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন এসএসসিতে পেকুয়ার সেরা মাহাথিরের পুলিশে রদবদল, বিদায় নিচ্ছেন কক্সবাজারের এসপি? রামু থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে ছিনতাই : রক্তাক্ত অবস্থায় চালককে পেকুয়া থেকে উদ্ধার  লোহাগাড়ার পদুয়ায় সড়ক দখল করে ছাগলের বাজার, মহাসড়কে তীব্র যানজট কক্সবাজার আদালতে গোলাগুলি, আত্মসমর্পণ করে কারাগারে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী এসএসসিতে কক্সবাজারে সেরা মুনতাকা সাইবা,বিজ্ঞান, ব্যবসা ও মানবিক বিভাগে সেরা যারা আবারও রিমান্ডে ডেভিড ইমন সার ছি’নতাইয়ে আলোচিত সেই কামাল মেম্বারের ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারালো দুই বন্ধু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

উখিয়া ও চন্দনাইশের ওসির প্রচেষ্টায় পিতার কোলে ফিরল ৩ বছরের অপহৃত শিশু

কক্সবাজারের উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলার সময় রোহিঙ্গা শিশু মোহাম্মদ ইছা (৩) কে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।

গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে ইছা নিখোঁজের পর দুশ্চিতায় পড়ে তার পরিবার, একই দিন অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন করে চাওয়া হয় দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

এঘটনায় ক্যাম্প প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ইছার পিতা মোহাম্মদ আমির আলী।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট থানায় অধিযাচন পত্র পাঠান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক।

বার্তা পেয়ে জরুরি সাড়া দিয়ে ইছাকে উদ্ধারে অভিযানে নামে চন্দনাইশ থানা পুলিশ। টানা একদিন চেষ্টার পর অক্ষত অবস্থায় সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে মুক্তিপণ ছাড়া ইছা’কে উপজেলার দোহাজারী থেকে উদ্ধার করা হয়।

চন্দনাইশের ওসি গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘ পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুক্তিপণের টাকা নিতে অপহরণকারীকে আসতে বলা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে আসলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইছা’কে অপহরণকারী পালিয়ে যায়।’

আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইছাকে সোমবার বিকালে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।

উখিয়ার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘ দুই থানার সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়া উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সরজমিনে উখিয়ার  ৪নং ক্যাম্পের বি ব্লকের শেডে গিয়ে দেখা যায়, পিতা-মাতার সাথে ইছার খুনসুটি। মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও ইছার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছে পরিবার।

পুত্রকে পেয়ে খুশি পিতা আমীর আলী বলেন, ‘ আমার ছেলেকে পাবো আশা করিনি, সে আমার কোলে ফিরে এসেছে এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই। উখিয়া ও চন্দনাইশের ওসি স্যার অনেক কষ্ট করেছেন তারা না থাকলে জানিনা কি হত।’

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্প ও উখিয়া-টেকনাফের সংলগ্ন এলাকা থেকে শিশু অপহরণ বেড়েছে। দুই কর্মকর্তার মতো প্রশাসন ও পুলিশ আন্তরিক হলে অপহরণকারীদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণ সহ এধরণের ঘটনায় প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

উখিয়া ও চন্দনাইশের ওসির প্রচেষ্টায় পিতার কোলে ফিরল ৩ বছরের অপহৃত শিশু

আপডেট সময় : ০৪:২২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলার সময় রোহিঙ্গা শিশু মোহাম্মদ ইছা (৩) কে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।

গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে ইছা নিখোঁজের পর দুশ্চিতায় পড়ে তার পরিবার, একই দিন অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন করে চাওয়া হয় দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

এঘটনায় ক্যাম্প প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ইছার পিতা মোহাম্মদ আমির আলী।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট থানায় অধিযাচন পত্র পাঠান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক।

বার্তা পেয়ে জরুরি সাড়া দিয়ে ইছাকে উদ্ধারে অভিযানে নামে চন্দনাইশ থানা পুলিশ। টানা একদিন চেষ্টার পর অক্ষত অবস্থায় সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে মুক্তিপণ ছাড়া ইছা’কে উপজেলার দোহাজারী থেকে উদ্ধার করা হয়।

চন্দনাইশের ওসি গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘ পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুক্তিপণের টাকা নিতে অপহরণকারীকে আসতে বলা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে আসলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইছা’কে অপহরণকারী পালিয়ে যায়।’

আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইছাকে সোমবার বিকালে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।

উখিয়ার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘ দুই থানার সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়া উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সরজমিনে উখিয়ার  ৪নং ক্যাম্পের বি ব্লকের শেডে গিয়ে দেখা যায়, পিতা-মাতার সাথে ইছার খুনসুটি। মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও ইছার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছে পরিবার।

পুত্রকে পেয়ে খুশি পিতা আমীর আলী বলেন, ‘ আমার ছেলেকে পাবো আশা করিনি, সে আমার কোলে ফিরে এসেছে এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই। উখিয়া ও চন্দনাইশের ওসি স্যার অনেক কষ্ট করেছেন তারা না থাকলে জানিনা কি হত।’

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্প ও উখিয়া-টেকনাফের সংলগ্ন এলাকা থেকে শিশু অপহরণ বেড়েছে। দুই কর্মকর্তার মতো প্রশাসন ও পুলিশ আন্তরিক হলে অপহরণকারীদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণ সহ এধরণের ঘটনায় প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।