ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এটি আজ একটি প্রতীক, একটি স্বপ্ন

ঈদ মানেই ঘরে ফেরা, প্রিয়জনের সাথে মিলন, আনন্দের পূর্ণতা। কিন্তু কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে থাকা লক্ষাধিক রোহিঙ্গার জন্য ঈদ এখনো এক অসমাপ্ত অপেক্ষার নাম। তাদের কাছে ঈদ মানে, হারানো বাড়ির স্মৃতি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, আর একদিন ফিরে যাওয়ার নীরব প্রার্থনা।

সম্প্রতি মোহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন “আগামী ঈদ যেন তারা নিজ দেশে উদযাপন করতে পারে” তা নিঃসন্দেহে মানবিক এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু এই বক্তব্য বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে কতটা সম্ভব, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।

রাখাইন রাজ্যে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংঘাত, অনিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এখনো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, একজন রোহিঙ্গাও এখনো সাম্প্রতিক সময়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেনি।

রোহিঙ্গাদের প্রধান দাবি; নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং নিজস্ব ভূমিতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অধিকার। কিন্তু মিয়ানমার এখনো এই মৌলিক বিষয় গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে প্রত্যাবর্তনের যেকোনো পরিকল্পনা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়।

এর পাশাপাশি রয়েছে গভীর আস্থার সংকট। অতীতে একাধিকবার প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আজ রোহিঙ্গারা শুধু আশ্বাসে আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতাও এই সংকটকে জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভিন্ন স্বার্থ, সীমিত চাপ এবং ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা ইস্যুকে ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে দিচ্ছে। অথচ এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও নৈতিক সংকট, যার সমাধান বিলম্বিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাদেশ এই সংকটে মানবিক দায়িত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশটি বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে এই বোঝা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই একটি টেকসই, নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের দাবি।

ঈদ আমাদের শেখায় সহমর্মিতা, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি ন্যায় বিচারের প্রশ্ন। তাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা শুধু একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক কর্তব্য।

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এই বাক্যটি আজ একটি প্রতীক। এটি একটি স্বপ্ন, যা এখনো বাস্তবের কঠিন দেয়ালে আটকে আছে। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব প্রদান এবং আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ চাপ সৃষ্টি করা।

নইলে প্রতি বছর ঈদের চাঁদ উঠবে, আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য তা হয়ে থাকবে এক দূরবর্তী আলোর মতো, যা দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এটি আজ একটি প্রতীক, একটি স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০১:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই ঘরে ফেরা, প্রিয়জনের সাথে মিলন, আনন্দের পূর্ণতা। কিন্তু কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে থাকা লক্ষাধিক রোহিঙ্গার জন্য ঈদ এখনো এক অসমাপ্ত অপেক্ষার নাম। তাদের কাছে ঈদ মানে, হারানো বাড়ির স্মৃতি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, আর একদিন ফিরে যাওয়ার নীরব প্রার্থনা।

সম্প্রতি মোহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন “আগামী ঈদ যেন তারা নিজ দেশে উদযাপন করতে পারে” তা নিঃসন্দেহে মানবিক এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু এই বক্তব্য বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে কতটা সম্ভব, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।

রাখাইন রাজ্যে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংঘাত, অনিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এখনো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, একজন রোহিঙ্গাও এখনো সাম্প্রতিক সময়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেনি।

রোহিঙ্গাদের প্রধান দাবি; নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং নিজস্ব ভূমিতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অধিকার। কিন্তু মিয়ানমার এখনো এই মৌলিক বিষয় গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে প্রত্যাবর্তনের যেকোনো পরিকল্পনা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়।

এর পাশাপাশি রয়েছে গভীর আস্থার সংকট। অতীতে একাধিকবার প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আজ রোহিঙ্গারা শুধু আশ্বাসে আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতাও এই সংকটকে জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভিন্ন স্বার্থ, সীমিত চাপ এবং ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা ইস্যুকে ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে দিচ্ছে। অথচ এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও নৈতিক সংকট, যার সমাধান বিলম্বিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাদেশ এই সংকটে মানবিক দায়িত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশটি বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে এই বোঝা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই একটি টেকসই, নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের দাবি।

ঈদ আমাদের শেখায় সহমর্মিতা, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি ন্যায় বিচারের প্রশ্ন। তাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা শুধু একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক কর্তব্য।

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এই বাক্যটি আজ একটি প্রতীক। এটি একটি স্বপ্ন, যা এখনো বাস্তবের কঠিন দেয়ালে আটকে আছে। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব প্রদান এবং আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ চাপ সৃষ্টি করা।

নইলে প্রতি বছর ঈদের চাঁদ উঠবে, আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য তা হয়ে থাকবে এক দূরবর্তী আলোর মতো, যা দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।