ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে এমপি কাজল-সৈকতকে আগের রুপে ফিরিয়ে আনতে হবে মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে শৃংখলা ফেরাতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত : যে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে নিতে হবে অনুমতি পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান : হত্যা ও চুরির আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১ উখিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, গাড়ি ও চালক আটক হোয়াইক্যংয়ে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে পালংখালীতে মাদক কারবারী রুবেলের গুলিবর্ষণ টেকনাফে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পাচারকারিদের ২০ আস্তানা

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এটি আজ একটি প্রতীক, একটি স্বপ্ন

ঈদ মানেই ঘরে ফেরা, প্রিয়জনের সাথে মিলন, আনন্দের পূর্ণতা। কিন্তু কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে থাকা লক্ষাধিক রোহিঙ্গার জন্য ঈদ এখনো এক অসমাপ্ত অপেক্ষার নাম। তাদের কাছে ঈদ মানে, হারানো বাড়ির স্মৃতি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, আর একদিন ফিরে যাওয়ার নীরব প্রার্থনা।

সম্প্রতি মোহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন “আগামী ঈদ যেন তারা নিজ দেশে উদযাপন করতে পারে” তা নিঃসন্দেহে মানবিক এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু এই বক্তব্য বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে কতটা সম্ভব, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।

রাখাইন রাজ্যে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংঘাত, অনিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এখনো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, একজন রোহিঙ্গাও এখনো সাম্প্রতিক সময়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেনি।

রোহিঙ্গাদের প্রধান দাবি; নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং নিজস্ব ভূমিতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অধিকার। কিন্তু মিয়ানমার এখনো এই মৌলিক বিষয় গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে প্রত্যাবর্তনের যেকোনো পরিকল্পনা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়।

এর পাশাপাশি রয়েছে গভীর আস্থার সংকট। অতীতে একাধিকবার প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আজ রোহিঙ্গারা শুধু আশ্বাসে আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতাও এই সংকটকে জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভিন্ন স্বার্থ, সীমিত চাপ এবং ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা ইস্যুকে ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে দিচ্ছে। অথচ এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও নৈতিক সংকট, যার সমাধান বিলম্বিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাদেশ এই সংকটে মানবিক দায়িত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশটি বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে এই বোঝা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই একটি টেকসই, নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের দাবি।

ঈদ আমাদের শেখায় সহমর্মিতা, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি ন্যায় বিচারের প্রশ্ন। তাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা শুধু একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক কর্তব্য।

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এই বাক্যটি আজ একটি প্রতীক। এটি একটি স্বপ্ন, যা এখনো বাস্তবের কঠিন দেয়ালে আটকে আছে। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব প্রদান এবং আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ চাপ সৃষ্টি করা।

নইলে প্রতি বছর ঈদের চাঁদ উঠবে, আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য তা হয়ে থাকবে এক দূরবর্তী আলোর মতো, যা দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে এমপি কাজল-সৈকতকে আগের রুপে ফিরিয়ে আনতে হবে

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এটি আজ একটি প্রতীক, একটি স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০১:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই ঘরে ফেরা, প্রিয়জনের সাথে মিলন, আনন্দের পূর্ণতা। কিন্তু কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে থাকা লক্ষাধিক রোহিঙ্গার জন্য ঈদ এখনো এক অসমাপ্ত অপেক্ষার নাম। তাদের কাছে ঈদ মানে, হারানো বাড়ির স্মৃতি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, আর একদিন ফিরে যাওয়ার নীরব প্রার্থনা।

সম্প্রতি মোহাম্মদ ইউনুস এবং আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন “আগামী ঈদ যেন তারা নিজ দেশে উদযাপন করতে পারে” তা নিঃসন্দেহে মানবিক এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু এই বক্তব্য বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে কতটা সম্ভব, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।

রাখাইন রাজ্যে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংঘাত, অনিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এখনো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, একজন রোহিঙ্গাও এখনো সাম্প্রতিক সময়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেনি।

রোহিঙ্গাদের প্রধান দাবি; নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং নিজস্ব ভূমিতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অধিকার। কিন্তু মিয়ানমার এখনো এই মৌলিক বিষয় গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে প্রত্যাবর্তনের যেকোনো পরিকল্পনা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়।

এর পাশাপাশি রয়েছে গভীর আস্থার সংকট। অতীতে একাধিকবার প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আজ রোহিঙ্গারা শুধু আশ্বাসে আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতাও এই সংকটকে জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভিন্ন স্বার্থ, সীমিত চাপ এবং ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা ইস্যুকে ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে দিচ্ছে। অথচ এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও নৈতিক সংকট, যার সমাধান বিলম্বিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাদেশ এই সংকটে মানবিক দায়িত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশটি বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে এই বোঝা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই একটি টেকসই, নিরাপদ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের দাবি।

ঈদ আমাদের শেখায় সহমর্মিতা, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি ন্যায় বিচারের প্রশ্ন। তাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা শুধু একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক কর্তব্য।

“ঈদে বার্মায় নামাজ” এই বাক্যটি আজ একটি প্রতীক। এটি একটি স্বপ্ন, যা এখনো বাস্তবের কঠিন দেয়ালে আটকে আছে। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব প্রদান এবং আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ চাপ সৃষ্টি করা।

নইলে প্রতি বছর ঈদের চাঁদ উঠবে, আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য তা হয়ে থাকবে এক দূরবর্তী আলোর মতো, যা দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।