ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইংরেজি প্রথম পত্রে নকলের অভিযোগ, কক্সবাজারে ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার রামুর রাজারকুলে এপেক্সিয়ান আবুল কায়সারের সৌজন্যে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প টেকনাফে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি পাহাড় কেটে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ ! পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় মিললো বিপুল ইয়াবা প্রতিহিংসাবশত কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুয়াকের নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি আনোয়ার কামাল ও সাধারণ সম্পাদক আকতার নূর মহেশখালীর ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত ‘ফজল’ র‍্যাবের কব্জায় টেকনাফে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি ‘ল্যাংড়া রাসেল’ গ্রেফতার টেকনাফে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে ২১ মামলার আসামি ‘কলিম ডাকাত’ গ্রেপ্তার ঘুষ মামলার আসামি অনিক দে’র ‘ভালো পোস্টিং’: স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন টেকনাফে নতুন ৫টি ইউনিয়ন করার উদ্যোগ: এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সুপারিশে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ ইয়াবাসহ তিন নারী আটক

ঈদগাঁও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিশ্চুপ প্রশাসন

ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলেশ্বরী নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাগলবাজার এলাকার নজরুল মার্কেটের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোড সংলগ্ন ছাগলবাজার এলাকায় নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর পাড় ঘেঁষে গাইডওয়াল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে এ নির্মাণকাজ চলায় প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় রেজিস্ট্রারকৃত জায়গার ভেতরেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি। এটি কোনো অবৈধ দখল নয়।”

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীরা ফুলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে দখল করে একের পর এক স্থাপনা তুলছে। এতে নদীর প্রস্থ কমে গেছে, পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর প্রাণ ও সৌন্দর্য।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, “ফুলেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “নদী দখলের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা দখলকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে ফুলেশ্বরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আগের রূপ ও প্রবাহ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইংরেজি প্রথম পত্রে নকলের অভিযোগ, কক্সবাজারে ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ঈদগাঁও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিশ্চুপ প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলেশ্বরী নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাগলবাজার এলাকার নজরুল মার্কেটের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোড সংলগ্ন ছাগলবাজার এলাকায় নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর পাড় ঘেঁষে গাইডওয়াল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে এ নির্মাণকাজ চলায় প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় রেজিস্ট্রারকৃত জায়গার ভেতরেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি। এটি কোনো অবৈধ দখল নয়।”

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীরা ফুলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে দখল করে একের পর এক স্থাপনা তুলছে। এতে নদীর প্রস্থ কমে গেছে, পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর প্রাণ ও সৌন্দর্য।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, “ফুলেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “নদী দখলের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা দখলকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে ফুলেশ্বরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আগের রূপ ও প্রবাহ।