ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আইভী কক্সবাজার রেল স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরাই বিক্রি করছেন টিকেট পালংখালী সীমান্তে আরএসওর গুলি, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার ভাবীর ঘাড়ে দা’র কোপ, দেবর ও শাশুড়ি আটক মাঝরাতে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল হোয়াইক্যং, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটালেন বাসিন্দারা টেকনাফে শ্রমিক দল সভাপতির ওপর হামলা পুত্রবধূকে জিম্মি করে আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতি তরুণদের নেতৃত্ব ও মানবিকতা গঠনে পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক ক্যাম্প টেকনাফে ৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার মধ্যরাতের ছুরিকাঘাতে আহত আসিফের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, নিহত বেড়ে ২ ভিকটিমের পরিচয় ফাঁসের অভিযোগে চকরিয়া থানার ওসিকে আইনি নোটিশ শহরের শীর্ষ ছিনতাইকারী জিয়া গ্রেফতার দীর্ঘ বিরতির পর চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে কক্সবাজারে ফিরছে সিনেমা, ৫-৬ জুন প্রদর্শিত হবে ৬ টি সিনেমা স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়কে ঝরলো স্ত্রীসহ দু’জনের প্রাণ

ঈদগাঁও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিশ্চুপ প্রশাসন

ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলেশ্বরী নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাগলবাজার এলাকার নজরুল মার্কেটের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোড সংলগ্ন ছাগলবাজার এলাকায় নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর পাড় ঘেঁষে গাইডওয়াল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে এ নির্মাণকাজ চলায় প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় রেজিস্ট্রারকৃত জায়গার ভেতরেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি। এটি কোনো অবৈধ দখল নয়।”

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীরা ফুলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে দখল করে একের পর এক স্থাপনা তুলছে। এতে নদীর প্রস্থ কমে গেছে, পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর প্রাণ ও সৌন্দর্য।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, “ফুলেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “নদী দখলের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা দখলকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে ফুলেশ্বরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আগের রূপ ও প্রবাহ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল

ঈদগাঁও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিশ্চুপ প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলেশ্বরী নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাগলবাজার এলাকার নজরুল মার্কেটের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোড সংলগ্ন ছাগলবাজার এলাকায় নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর পাড় ঘেঁষে গাইডওয়াল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে এ নির্মাণকাজ চলায় প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় রেজিস্ট্রারকৃত জায়গার ভেতরেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি। এটি কোনো অবৈধ দখল নয়।”

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীরা ফুলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে দখল করে একের পর এক স্থাপনা তুলছে। এতে নদীর প্রস্থ কমে গেছে, পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর প্রাণ ও সৌন্দর্য।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, “ফুলেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “নদী দখলের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা দখলকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে ফুলেশ্বরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আগের রূপ ও প্রবাহ।