দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কক্সবাজারে ফিরছে সিনেমা। কক্সবাজারে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করতে যাচ্ছে কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটি। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ এবং দেশে সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার টকিজ’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১টায় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন ফারুক আমিন, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক ফরহাদ জামান জনি এবং সদস্য আবদু রশিদ মানিক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৫ ও ৬ জুন (শুক্র ও শনিবার) কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। দুই দিনে তিনটি করে চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।
আয়োজকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্রচর্চার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের একত্রিত করার পাশাপাশি চলচ্চিত্রকে ঘিরে নতুন সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রদর্শনীর প্রথম দিন ৫ জুন বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে শাহীন দিল-রিয়াজ পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘রাকিব খান: দ্য প্রজেকশনিস্ট’ এবং সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হবে মোহাম্মদ তৌকীর ইসলাম ও তাঁর দলের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’।
দ্বিতীয় দিন ৬ জুন বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে ধ্রুব হাসান পরিচালিত ‘ফাতিমা’। বিকেল সাড়ে ৫টায় থাকবে ফজলে রাব্বী পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তাদাত্ম অন্বেষণ: দ্য ইটার্নাল জার্নি’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রদর্শিত হবে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন ফারুক আমিন জানান, প্রদর্শিত সব চলচ্চিত্রে ইংরেজি সাবটাইটেল থাকবে, ফলে দেশি-বিদেশি দর্শকরাও সহজে উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিদিনের প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা। অনলাইনের পাশাপাশি ভেন্যুতেও নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বলেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং চলচ্চিত্রচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ‘কক্সবাজার টকিজ’-এর মাধ্যমে কক্সবাজারে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও দর্শকভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
টিটিএন ডেস্ক: 






















