ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারকে এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র করতে চায় সরকার প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২ মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী” শহরের লাইট হাউজ এলাকায় রিসোর্ট দখলের ঘটনায় আল-আমিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আটক ১ লোহাগাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে বেরিয়ে এলো জালনোটের কারবার : জালনোটসহ ‘কারবারি’ শাহ আলম আটক পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-শপিংমল রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের পেকুয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ জুন-জুলাইয়ের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, পুলিশের অধীনে হবে এসআরবি মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন পরিচয় গোপন রাখা হবে প্লট দখল নিয়ে প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ছফওয়ানের বিবৃতি, আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারি লোহাগাড়ায় ভোররাতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণ-টাকা ও মালামাল লুট গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন মুহিববুল্লাহ সৌদিয়া হোটেল থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার ‘সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে মিলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন’

ইউরোপ যদি ই’রা’ন আ/ক্র/ম/ণ করে, রাশিয়ার ইউরোপ আ/ক্র/ম/ণ সহজ হয়ে যাবে!

বিশ্ব রাজনীতি প্রায়ই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করে, যেখানে একটি আঞ্চলিক সংঘাত হঠাৎ করে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ, বিশেষ করে যদি ইউরোপীয় শক্তি সরাসরি ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভবিষ্যতের জন্য এক বড় ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হলো রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ইউরোপ বা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত মনোযোগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন কোনো শক্তি একাধিক ফ্রন্টে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার সামগ্রিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইউরোপকে সেই অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ তখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাবে। এতে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হতে পারে।

এই পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি ইউরোপের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধসহ পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা প্রশ্নে মস্কো আরও সাহসী অবস্থান নিতে পারে। শক্তির রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া একটি পরিচিত কৌশল, এবং নতুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউরোপের অর্থনীতি। জ্বালানি সংকট, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হলে সেই চাপ বহুগুণ বাড়তে পারে।

তাই প্রশ্নটি শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের নয়; প্রশ্নটি ইউরোপের কৌশলগত ভবিষ্যতের। যদি ইউরোপ এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যা তাকে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সেটি কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি শিক্ষা দেয়: অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিপদ আসে সেই যুদ্ধ থেকে, যেটিকে প্রথমে দূরের সমস্যা বলে মনে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধও হয়তো ইউরোপের জন্য তেমনই এক কৌশলগত ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারকে এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র করতে চায় সরকার

ইউরোপ যদি ই’রা’ন আ/ক্র/ম/ণ করে, রাশিয়ার ইউরোপ আ/ক্র/ম/ণ সহজ হয়ে যাবে!

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতি প্রায়ই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করে, যেখানে একটি আঞ্চলিক সংঘাত হঠাৎ করে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ, বিশেষ করে যদি ইউরোপীয় শক্তি সরাসরি ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভবিষ্যতের জন্য এক বড় ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হলো রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ইউরোপ বা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত মনোযোগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন কোনো শক্তি একাধিক ফ্রন্টে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার সামগ্রিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইউরোপকে সেই অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ তখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাবে। এতে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হতে পারে।

এই পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি ইউরোপের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধসহ পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা প্রশ্নে মস্কো আরও সাহসী অবস্থান নিতে পারে। শক্তির রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া একটি পরিচিত কৌশল, এবং নতুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউরোপের অর্থনীতি। জ্বালানি সংকট, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হলে সেই চাপ বহুগুণ বাড়তে পারে।

তাই প্রশ্নটি শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের নয়; প্রশ্নটি ইউরোপের কৌশলগত ভবিষ্যতের। যদি ইউরোপ এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যা তাকে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সেটি কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি শিক্ষা দেয়: অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিপদ আসে সেই যুদ্ধ থেকে, যেটিকে প্রথমে দূরের সমস্যা বলে মনে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধও হয়তো ইউরোপের জন্য তেমনই এক কৌশলগত ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।