ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফোর্টিফাই রাইটসের বিবৃতি – আরসা প্রধান আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দাবি কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হা’ম’লা চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত কুকুরের নৈপুণ্যে টায়ারের ভেতর মিলল ইয়াবা চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবার প্যাসিফিক বীচ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ কটেজ, ক্ষতি ৭০ লাখ টাকা খেলাঘরের মানববন্ধন :শিশুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দ্রুত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া নতুন আলোচনায় কারা?  / উখিয়ায় ৬ বছর ধরে ‘মেয়াদউর্ত্তীণ’ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি  চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা, জড়িতদের শাস্তি দাবি অভিযুক্ত ডিবি কার্যালয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে র‍্যাব ​টেকনাফে তরুণদের কারিগরি দক্ষতা মেলা ও ট্যালেন্ট হান্ট অনুষ্ঠিত কুতুবদিয়ায় ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন চকরিয়ায় পৃথক ঘটনায় একদিনে তিনজনের মৃত্যু

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।