ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর জাতিসংঘে আবেদন  মেয়েদের শিক্ষা হবে ‘ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি’, আসছে ‘এলপিজি কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি রোধে কক্সবাজারে ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি, পছন্দের পদে ফেরাতে তদবিরে সক্রিয় অসাধুরা নির্মাণ শ্রমিককে চাপা দিয়ে পালানো পিকআপ ৩০ কিমি পর জব্দ ‘অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক’ গর্জনিয়া বাজারে রাজস্ব ‘গায়েব’ – অ্যাডভোকেট স্বপ্নাকে জেলা বারের সংবর্ধনা: সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি টেকনাফে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ কারবারি আটক বিজিবি দেখে ২৮২ রাউন্ড তাজা গুলি ফেলে পালাল দুষ্কৃতকারীরা ইংরেজি প্রথম পত্রে নকলের অভিযোগ, কক্সবাজারে ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার রামুর রাজারকুলে এপেক্সিয়ান আবুল কায়সারের সৌজন্যে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প টেকনাফে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি পাহাড় কেটে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ ! পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় মিললো বিপুল ইয়াবা

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর জাতিসংঘে আবেদন 

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।