ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাতের ডাক দেওয়ার ঘোষণা: গণতন্ত্রের সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক? বাংলা নববর্ষ উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় তনু হত্যা: ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ বাংলাদেশ সীমান্তের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়তে চায় ভারত কক্সবাজারে ক্রাইম ও অপারেশন দায়িত্বে নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: অহিদুর রহমান (পিপিএম) সচল হলো টেকনাফ স্থলবন্দর,সীমান্ত বাণিজ্য হবে মিয়ানমার সরকারের সাথে-নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহার পর ইউপি-পৌর ভোট সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে, তফসিল ৮ এপ্রিল ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২ জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ট্রাম্পের হুমকির পর ফের বাড়ল তেলের দাম দাম বাড়ছেই, হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসবে বড় বিপদ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর ‘আগের অবস্থায়’ ফিরবে না: ইরান সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাতের ডাক দেওয়ার ঘোষণা: গণতন্ত্রের সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক?

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।