ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি মহেশখালীতে ধানের শীষের ভোট প্রার্থনায় উপজেলা শ্রমিক দলের ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে ভবন নির্মাণ:বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু জামায়াত আমিরের ঘোষণা: ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী হবেন হামিদুর রহমান আযাদ! “আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, আমাদের ভোট দিন” — শাহাজাহান চৌধুরী ​‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই’: ডা. শফিকুর রহমান নারীদেরকে যারা অবমাননা করে তাদের পক্ষে এদেশের নারী সমাজ থাকতে পারেনা- সালাহউদ্দিন আহমদ সিঙ্গাপুর-হংকংয়ের চেয়েও কক্সবাজারকে উন্নত করা হবে: মহেশখালীতে জামায়াতের আমির কক্সবাজারে জামায়াতের জনসভায় দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন রাজবিহারী দাশ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ জামিন না মঞ্জুর: চকরিয়ার আ.লীগ নেতা সাঈদী কারাগারে কুতুপালংয়ে আগুনে পুড়েছে ৩ দোকান আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে শোকজ বিশ্বকাপে যাচ্ছে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত সরকারের

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

This will close in 6 seconds

আ’গু’ন নিয়ে বিভ্রান্তি:পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে নতুন গুজব!

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কোথাও পোশাক কারখানায়, কোথাও রাসায়নিক গুদামে, কোথাও আবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ভিডিও; যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি “সদরঘাটে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকে ভাবেন, এ ঘটনা সাম্প্রতিক। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের পুরোনো ভিডিও, যখন সদরঘাটে ‘ময়ূর-৭’ নামের একটি লঞ্চে আগুন লেগেছিল। ইনভিড টুলে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স সার্চে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন ঘটনার মতো প্রচার করা হয়েছে।

এমনই আরেকটি গুজব ছড়ানো হয় চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকে আগুন লেগেছে বলে। যাচাই করতে যাওয়া সাংবাদিক জানান, সেটিও পাঁচ দিন আগের ঘটনা, যা নতুন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, চট্টগ্রাম ইপিজেড কিংবা ঢাকার বিমানবন্দর; সবখানেই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড গুলো মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই শঙ্কিত করেছে। এর সঙ্গে আবার গুজবের আগুন জুড়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। ঠিক এই সময়ে মিথ্যা বা পুরোনো ভিডিও ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্যের বড় উৎস। কিন্তু এই উৎসে যদি যাচাই বিহীন তথ্য প্রবাহিত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক, সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তাই প্রত্যেক ব্যবহারকারীরই দায়িত্ব, কোনো খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা।

অনেকেই বলছেন, গুজব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে। কারণ, আগুন নেভানো যায় দমকলের জলে, কিন্তু গুজবের আগুন নেভাতে লাগে বুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা।

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, গবেষক ও চিন্তক।