ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন: বঙ্গভবন জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়: শফিকুর রহমান গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার : ফখরুল পুলিশের কাজ মানুষের সেবা করা-ইলিয়াছ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ সুপার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার মানুষ পুলিশ বান্ধব- রামুর ওসি মুনিরুল জেলা শিল্পকলা একাডেমির “বর্ষায় নজরুল” স্মরণ অনুষ্ঠান ‘প্রশ্নটা বিব্রতকর’, পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ​রাজু ভাস্কর্যে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সাইফুল ইসলাম জিহাদী খুনিয়া পালংয়ে কলেজ ছাত্রকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ উখিয়ায় বিএসটিআইয়ের লোগো লাগিয়ে চলছিলো বেকারি পণ্য, এসিল্যান্ডের অভিযানে জরিমানা পেকুয়ায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ: স্বস্তিতে ১০ হাজার মানুষ হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে বৈঠকে হামলা, পরিষদে ভাঙচুর : আহত কয়েকজন কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব গড়তে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্তব্য কলাম

কি হতে পারে: নির্বাচন, না নতুন অন্তর্বর্তী সরকার?

সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে আঙুলের উপরের ভাগে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি কি ভেস্তে যাবে জেদের রাজনীতিতে? প্রশ্নটা আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে।

পাঁচ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় দ্রুত সংস্কার আনবে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং আস্থার সংকট দূর করবে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, সরকারের ভেতরে বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক সন্দেহ ততই প্রকট হয়ে উঠছে।

উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ববোধের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বক্তব্যে একরূপতা হারাচ্ছে, এমনকি কিছু মুখ এখন নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দলীয়ধর্মী মন্তব্য, পরিবেশ উপদেষ্টার অস্পষ্ট অবস্থান, কিংবা প্রধান উপদেষ্টার দফতরে যোগাযোগের ঘাটতি, সবকিছু মিলিয়ে সরকারের ভেতরে এক ধরনের দিক হীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র সংগঠনের দুর্বলতা, মাঠ পর্যায়ের ভঙ্গুর কাঠামো এবং নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা মানুষের হতাশা আরও গভীর করছে। জুলাই সনদ, যা একসময় সংস্কারের প্রতীক হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল, এখন সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন এক শব্দে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে হিসাব-নিকাশের নতুন খেলা। বিএনপি মনে করছে, আগামীকাল যদি নির্বাচন হয়, তারা ক্ষমতায় ফিরবে; তাই তারা দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে। জামায়াত এখনো মাঠে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, তারা সময় টানতে চাইছে। জাতীয় পার্টি অপেক্ষা করছে তফসিল ঘোষণার। তাদের আশা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ে আবারও ক্ষমতার অংশীদার হবে। আর আওয়ামী লীগ কৌশলগত ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই। দলটি প্রতিটি আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করছে, যেন যে কোনো সময় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও তারা প্রস্তুত থাকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে নতুন সমীকরণও গড়ে উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বিএনপির সঙ্গে নরম সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছেন। এনসিপি-ও হয়তো বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে পারে! জামায়াত হয়তো একাই নির্বাচনে নামবে, আর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য জোট নাঙ্গল প্রতীকে ভোটযুদ্ধে নামবে বলেই অনেকে বিশ্বাস করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পথ খোলা। এক: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি জোট বিজয়ী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে, সংস্কারের কিছু ধারা টিকে থাকবে। দুই: নির্বাচন স্থগিত হতে পারে, সরকারের মেয়াদ বাড়বে, উপদেষ্টা পরিবর্তন হবে, কিন্তু আস্থা সংকট আরও গভীর হবে। তিন: একটি নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী মডেল গঠিত হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা প্রভাব বজায় থাকবে, তবে বাহ্যিকভাবে বেসামরিক কাঠামোই থাকবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক রূপান্তর কালের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার থেকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফেরার এই যাত্রা সহজ নয়। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক শক্তি হয়তো সামনে এসে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে প্রাধান্য পাবে দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের আদর্শ। তবে প্রশ্ন একটাই, এই রূপান্তর কি শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘটবে, না আমরা আবারও ফিরে যাব সেই পুরনো অস্থিরতার বৃত্তে?

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন: বঙ্গভবন

মন্তব্য কলাম

কি হতে পারে: নির্বাচন, না নতুন অন্তর্বর্তী সরকার?

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে আঙুলের উপরের ভাগে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি কি ভেস্তে যাবে জেদের রাজনীতিতে? প্রশ্নটা আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে।

পাঁচ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় দ্রুত সংস্কার আনবে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং আস্থার সংকট দূর করবে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, সরকারের ভেতরে বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক সন্দেহ ততই প্রকট হয়ে উঠছে।

উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ববোধের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বক্তব্যে একরূপতা হারাচ্ছে, এমনকি কিছু মুখ এখন নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দলীয়ধর্মী মন্তব্য, পরিবেশ উপদেষ্টার অস্পষ্ট অবস্থান, কিংবা প্রধান উপদেষ্টার দফতরে যোগাযোগের ঘাটতি, সবকিছু মিলিয়ে সরকারের ভেতরে এক ধরনের দিক হীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র সংগঠনের দুর্বলতা, মাঠ পর্যায়ের ভঙ্গুর কাঠামো এবং নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা মানুষের হতাশা আরও গভীর করছে। জুলাই সনদ, যা একসময় সংস্কারের প্রতীক হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল, এখন সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন এক শব্দে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে হিসাব-নিকাশের নতুন খেলা। বিএনপি মনে করছে, আগামীকাল যদি নির্বাচন হয়, তারা ক্ষমতায় ফিরবে; তাই তারা দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে। জামায়াত এখনো মাঠে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, তারা সময় টানতে চাইছে। জাতীয় পার্টি অপেক্ষা করছে তফসিল ঘোষণার। তাদের আশা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ে আবারও ক্ষমতার অংশীদার হবে। আর আওয়ামী লীগ কৌশলগত ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই। দলটি প্রতিটি আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করছে, যেন যে কোনো সময় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও তারা প্রস্তুত থাকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে নতুন সমীকরণও গড়ে উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বিএনপির সঙ্গে নরম সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছেন। এনসিপি-ও হয়তো বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে পারে! জামায়াত হয়তো একাই নির্বাচনে নামবে, আর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য জোট নাঙ্গল প্রতীকে ভোটযুদ্ধে নামবে বলেই অনেকে বিশ্বাস করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পথ খোলা। এক: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি জোট বিজয়ী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে, সংস্কারের কিছু ধারা টিকে থাকবে। দুই: নির্বাচন স্থগিত হতে পারে, সরকারের মেয়াদ বাড়বে, উপদেষ্টা পরিবর্তন হবে, কিন্তু আস্থা সংকট আরও গভীর হবে। তিন: একটি নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী মডেল গঠিত হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা প্রভাব বজায় থাকবে, তবে বাহ্যিকভাবে বেসামরিক কাঠামোই থাকবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক রূপান্তর কালের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার থেকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফেরার এই যাত্রা সহজ নয়। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক শক্তি হয়তো সামনে এসে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে প্রাধান্য পাবে দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের আদর্শ। তবে প্রশ্ন একটাই, এই রূপান্তর কি শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘটবে, না আমরা আবারও ফিরে যাব সেই পুরনো অস্থিরতার বৃত্তে?

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।