ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, প্রথমবার বিরোধী দলে জামায়াত নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯ আসনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের খবর শাহজাহান চৌধুরীর তাক লাগানো বিজয় ‘আল্লাহ হলেন সহায়’ ‘পরীক্ষিত সন্তান’ কাজলের বাজিমাত দুই দ্বীপে তৃতীয়বার ভিড়ল আলমগীর ফরিদের জয়ের তরী! ‘বিএনপি বিজয় উল্লাস করবে না, দায়িত্ব বেশি’ – ৪র্থ বার জয়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ কক্সবাজার-১ আসনে ঐতিহাসিক বিজয়: সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই বিএনপির জয় জয়কার.. ১৭ বছর পর সংসদে ফিরছেন লুৎফুর রহমান কাজল দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ : ইসি সচিব সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় জোট দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কঠোর সেনাবাহিনী, মোড়ে মোড়ে তল্লাশি

১৮ মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, গত ১৮ মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলতে থাকায় প্রতিনিয়ত হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। এই আগমন প্রবাহ ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেছে ইউএনএইচসিআর। ওই বছর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মুখে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের অতি ঘনবসতিপূর্ণ ২৪ বর্গকিলোমিটারে আগে থেকেই প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিলেন। নতুন করে আগতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত নতুন করে আসা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাকিরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন শিবিরে অবস্থান করছেন।

তবে আশ্রয় ও মৌলিক সেবা দিতে গিয়ে বিদ্যমান মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে চাপে পড়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, দ্রুত অর্থ সহায়তা না পেলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং রান্নার জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে থমকে যাবে।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ফুরিয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু—যাদের মধ্যে ৬৩ হাজারই নতুন আসা—শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়বে।

রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে সহায়তা কমে যাওয়ার তীব্র প্রভাব টের পাচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ এবং বিজিবির নজরদারিতে রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থায় কক্সবাজারে আগত রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে সরকার অনুমতি দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন মিয়ানমারের সংঘাত কবলিত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের যে সহায়তা দিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে অর্থায়নের ঘাটতি এখন প্রতিটি খাতে প্রভাব ফেলছে।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া একা কিছু করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর। রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, প্রথমবার বিরোধী দলে জামায়াত

This will close in 6 seconds

১৮ মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, গত ১৮ মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলতে থাকায় প্রতিনিয়ত হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। এই আগমন প্রবাহ ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেছে ইউএনএইচসিআর। ওই বছর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মুখে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের অতি ঘনবসতিপূর্ণ ২৪ বর্গকিলোমিটারে আগে থেকেই প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিলেন। নতুন করে আগতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত নতুন করে আসা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাকিরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন শিবিরে অবস্থান করছেন।

তবে আশ্রয় ও মৌলিক সেবা দিতে গিয়ে বিদ্যমান মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে চাপে পড়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, দ্রুত অর্থ সহায়তা না পেলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং রান্নার জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে থমকে যাবে।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ফুরিয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু—যাদের মধ্যে ৬৩ হাজারই নতুন আসা—শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়বে।

রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে সহায়তা কমে যাওয়ার তীব্র প্রভাব টের পাচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ এবং বিজিবির নজরদারিতে রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থায় কক্সবাজারে আগত রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে সরকার অনুমতি দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন মিয়ানমারের সংঘাত কবলিত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের যে সহায়তা দিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে অর্থায়নের ঘাটতি এখন প্রতিটি খাতে প্রভাব ফেলছে।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া একা কিছু করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর। রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন