ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার ‘আমার মতো মানুষকে’ নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায় না কমিটি, ট্রাম্পের আক্ষেপ প্রত্যেক উপজেলায় জরুরি নির্দেশনা সরকারের ৫ শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭% রোহিঙ্গা: গবেষণা মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি

১৮ মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, গত ১৮ মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলতে থাকায় প্রতিনিয়ত হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। এই আগমন প্রবাহ ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেছে ইউএনএইচসিআর। ওই বছর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মুখে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের অতি ঘনবসতিপূর্ণ ২৪ বর্গকিলোমিটারে আগে থেকেই প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিলেন। নতুন করে আগতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত নতুন করে আসা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাকিরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন শিবিরে অবস্থান করছেন।

তবে আশ্রয় ও মৌলিক সেবা দিতে গিয়ে বিদ্যমান মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে চাপে পড়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, দ্রুত অর্থ সহায়তা না পেলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং রান্নার জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে থমকে যাবে।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ফুরিয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু—যাদের মধ্যে ৬৩ হাজারই নতুন আসা—শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়বে।

রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে সহায়তা কমে যাওয়ার তীব্র প্রভাব টের পাচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ এবং বিজিবির নজরদারিতে রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থায় কক্সবাজারে আগত রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে সরকার অনুমতি দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন মিয়ানমারের সংঘাত কবলিত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের যে সহায়তা দিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে অর্থায়নের ঘাটতি এখন প্রতিটি খাতে প্রভাব ফেলছে।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া একা কিছু করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর। রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার

১৮ মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, গত ১৮ মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলতে থাকায় প্রতিনিয়ত হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। এই আগমন প্রবাহ ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেছে ইউএনএইচসিআর। ওই বছর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মুখে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের অতি ঘনবসতিপূর্ণ ২৪ বর্গকিলোমিটারে আগে থেকেই প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিলেন। নতুন করে আগতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত নতুন করে আসা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাকিরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন শিবিরে অবস্থান করছেন।

তবে আশ্রয় ও মৌলিক সেবা দিতে গিয়ে বিদ্যমান মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে চাপে পড়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, দ্রুত অর্থ সহায়তা না পেলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং রান্নার জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে থমকে যাবে।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ফুরিয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু—যাদের মধ্যে ৬৩ হাজারই নতুন আসা—শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়বে।

রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে সহায়তা কমে যাওয়ার তীব্র প্রভাব টের পাচ্ছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ এবং বিজিবির নজরদারিতে রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থায় কক্সবাজারে আগত রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে সরকার অনুমতি দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন মিয়ানমারের সংঘাত কবলিত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের যে সহায়তা দিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে অর্থায়নের ঘাটতি এখন প্রতিটি খাতে প্রভাব ফেলছে।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া একা কিছু করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর। রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন