ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মায়ানমার থেকে আসছিলো লুঙ্গি,বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছিলো সিমেন্ট: পৃথক অভিযানে আটক ২২ হোয়াইক্যংয়ে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ১ কারবারি গ্রেফতার কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিরিজ জিতলো পাকিস্তান স্ট্রোক হওয়ার প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টাকে কেন ‘সোনালি সময়’ বলা হয় সদর ইউএনওকে গ্রেফতার করতে বললো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া পর্যটক আপেল হাতে জয়ার বার্তা: আপেল হয়ো না ঢাকা ১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ কমান্ডার সোবাহান যে বীরের কন্ঠে আসে কক্সবাজার মুক্তির ঘোষনা… ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১: যেভাবে মুক্ত হয় কক্সবাজার যেভাবে দুআ -প্রার্থনা করলে আল্লাহ বেশি খুশি হন জুমার দিন আল্লাহর শেখানো ৪টি দোয়া পাঠ করুন কসউবিয়ান শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫: মেধা, মানবিকতা ও ১৫০ বছরের ঐতিহ্যে নতুন সংযোজন ব্যানার ফেস্টুন সরাতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের লুৎফুর রহমান কাজলের অনুরোধ অবশেষে শিশু সাজিদকে উদ্ধার তফসিল ঘোষনা জাতির আরেকটি বিজয়- কুতুবদিয়ায় বিএনপির আনন্দ মিছিলে বক্তারা

যেদিন সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজে আসবে না

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • 159

জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনটি এখনো আসেনি। সেদিন সম্পদের পাহাড় থাকলেও কোনো লাভ হবে না। সন্তান-কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব—কেউ পাশে দাঁড়াবে না। সেদিন শুধু একটি জিনিস কাজে লাগবে: একটি পরিচ্ছন্ন হৃদয়।

কোরআন মাজিদে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমাকে সেই দিন লাঞ্ছিত করো না, যেদিন মানুষকে উত্থিত করা হবে। যেদিন না সম্পদ কোনো কাজে আসবে, না সন্তান। কিন্তু যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আসবে।’ (সুরা শু‘আরা, আয়াত: ৮৭-৮৯)।

এই আয়াত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া। তিনি বুঝেছিলেন, কিয়ামতের দিন সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

সেই দিনকে কোরআন বলেছে ‘ইয়াওমুত তাগাবুন’—প্রতারণার দিন। যেদিন মানুষ বুঝবে, দুনিয়ায় যা ভেবেছিল স্থায়ী, তা সব মায়া। সম্পদ, সন্তান, পদমর্যাদা—কিছুই সঙ্গী হবে না।

ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদি (রহ.) বলেন, যদি কেউ সম্পদকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে, সন্তানকে সৎশিক্ষা দেয়, তাহলে সেটি কিয়ামতের দিন কাজে লাগবে। কারণ আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের কাছে আল্লাহর নৈকট্য এনে দেবে না, কিন্তু যে ইমান এনে সৎকর্ম করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৭)। (আবু মনসুর আল-মাতুরিদি, তা’ওয়িলাতু আহলিস সুন্নাহ, ৭/৪৫৬, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ২০০৪)।

দুনিয়ায় আমরা ভুল করি। শেষমেশ কেউ না কেউ এসে বাঁচিয়ে দেয়। কেউ সুপারিশ করে, কেউ সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু কিয়ামতের দিন? সেদিন কেউ কারো জন্য না।
কিন্তু যদি হৃদয় শিরক, পাপ ও দূষণে ভরা থাকে, তাহলে কোনো আমলই কাজে আসবে না। পরিচ্ছন্ন হৃদয় মানে শিরকমুক্ত, পাপমুক্ত, একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাওহিদ ধরে রাখতে হবে। মাতুরিদি (রহ.) বলেন, যদি শেষ মুহূর্তে তাওহিদ না থাকে, আগের সব আমল বৃথা। বু মনসুর আল-মাতুরিদি, তা’ওয়িলাতু আহলিস সুন্নাহ, ৭/৪৫৮, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ২০০৪)

দুনিয়ায় আমরা ভুল করি। পরিবারের প্রতি অবহেলা, দায়িত্বে গাফিলতি—কিন্তু শেষমেশ কেউ না কেউ এসে বাঁচিয়ে দেয়। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু—কেউ সুপারিশ করে, কেউ সান্ত্বনা দেয়।

কিন্তু কিয়ামতের দিন? সেদিন কেউ কারো জন্য একটি নেকিও দিতে পারবে না। নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে বলবেন, ‘বাবা, তোমার একটি নেকি দাও!’ কিন্তু সে নিজেই ভয়ে কাঁপছে। মা-বাবা পালিয়ে যাবে। যাদের জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছি, তারা মুখ ফিরিয়ে নেবে। কারণ তারাও নিজেদের মুক্তির জন্য হাহাকার করছে।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন বিবাদ এত তীব্র হবে যে, রূহ দেহের সঙ্গে ঝগড়া করবে।’ (আত-তাবারি, জামি‘উল বায়ান ফি তা’ওয়িলিল কোরআন, ১৯/১২৩, দারু ইহইয়া আত-তুরাস, বৈরুত, ২০০১)।

সেদিন কেউ কারো নয়। শুধু আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে একা।

তাই দুনিয়াতেই নিজের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এটা স্বার্থপরতা নয়, দায়িত্ব। শরীরের রোগ সারাই যেমন জরুরি, অন্তরের রোগ সারানো আরও জরুরি। শিরক, হিংসা, অহংকার—এগুলো অন্তরের ক্যান্সার। এগুলো থেকে মুক্ত না হলে, কিয়ামতের দিন কোনো ওষুধ কাজ করবে না।

আমরা প্রায়ই ভাবি, ‘আমার সন্তানরা আমাকে বাঁচাবে’, ‘আমার সম্পদ আমাকে সম্মান দেবে’। কিন্তু সেদিন বুঝব, সবই ধোঁকা। শুধু একটি জিনিস সঙ্গে যাবে: আমার আমলের খাতা আর আমার অন্তরের অবস্থা। যে অন্তর আল্লাহর জন্য খাঁটি, সে মুক্তি পাবে। বাকি সবাই—ধনী হোক বা গরিব, পিতা হোক বা সন্তান—সবাই একা।

ইবরাহিম (আ.)–র দোয়া আমাদের শেখায়, ‘হে আল্লাহ! আমাকে সেদিন অপমানিত করো না।’ তিনি জানতেন, সেদিন লাঞ্ছনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়—পরিচ্ছন্ন অন্তর।

চলুন, আজ থেকেই অন্তর পরিষ্কার করি। তাওবা করি। শিরক ত্যাগ করি। সৎকর্মে সম্পদ ব্যয় করি। সন্তানদের দ্বিন শেখাই। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা—নিজের অন্তরকে আল্লাহর জন্য খাঁটি রাখি। যাতে সেদিন যখন সবাই পালাবে, আল্লাহ আমাদের হাত ধরেন।

সূত্র: প্রথম আলো

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ানমার থেকে আসছিলো লুঙ্গি,বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছিলো সিমেন্ট: পৃথক অভিযানে আটক ২২

This will close in 6 seconds

যেদিন সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজে আসবে না

আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনটি এখনো আসেনি। সেদিন সম্পদের পাহাড় থাকলেও কোনো লাভ হবে না। সন্তান-কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব—কেউ পাশে দাঁড়াবে না। সেদিন শুধু একটি জিনিস কাজে লাগবে: একটি পরিচ্ছন্ন হৃদয়।

কোরআন মাজিদে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমাকে সেই দিন লাঞ্ছিত করো না, যেদিন মানুষকে উত্থিত করা হবে। যেদিন না সম্পদ কোনো কাজে আসবে, না সন্তান। কিন্তু যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আসবে।’ (সুরা শু‘আরা, আয়াত: ৮৭-৮৯)।

এই আয়াত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া। তিনি বুঝেছিলেন, কিয়ামতের দিন সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

সেই দিনকে কোরআন বলেছে ‘ইয়াওমুত তাগাবুন’—প্রতারণার দিন। যেদিন মানুষ বুঝবে, দুনিয়ায় যা ভেবেছিল স্থায়ী, তা সব মায়া। সম্পদ, সন্তান, পদমর্যাদা—কিছুই সঙ্গী হবে না।

ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদি (রহ.) বলেন, যদি কেউ সম্পদকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে, সন্তানকে সৎশিক্ষা দেয়, তাহলে সেটি কিয়ামতের দিন কাজে লাগবে। কারণ আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের কাছে আল্লাহর নৈকট্য এনে দেবে না, কিন্তু যে ইমান এনে সৎকর্ম করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৭)। (আবু মনসুর আল-মাতুরিদি, তা’ওয়িলাতু আহলিস সুন্নাহ, ৭/৪৫৬, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ২০০৪)।

দুনিয়ায় আমরা ভুল করি। শেষমেশ কেউ না কেউ এসে বাঁচিয়ে দেয়। কেউ সুপারিশ করে, কেউ সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু কিয়ামতের দিন? সেদিন কেউ কারো জন্য না।
কিন্তু যদি হৃদয় শিরক, পাপ ও দূষণে ভরা থাকে, তাহলে কোনো আমলই কাজে আসবে না। পরিচ্ছন্ন হৃদয় মানে শিরকমুক্ত, পাপমুক্ত, একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাওহিদ ধরে রাখতে হবে। মাতুরিদি (রহ.) বলেন, যদি শেষ মুহূর্তে তাওহিদ না থাকে, আগের সব আমল বৃথা। বু মনসুর আল-মাতুরিদি, তা’ওয়িলাতু আহলিস সুন্নাহ, ৭/৪৫৮, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ২০০৪)

দুনিয়ায় আমরা ভুল করি। পরিবারের প্রতি অবহেলা, দায়িত্বে গাফিলতি—কিন্তু শেষমেশ কেউ না কেউ এসে বাঁচিয়ে দেয়। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু—কেউ সুপারিশ করে, কেউ সান্ত্বনা দেয়।

কিন্তু কিয়ামতের দিন? সেদিন কেউ কারো জন্য একটি নেকিও দিতে পারবে না। নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে বলবেন, ‘বাবা, তোমার একটি নেকি দাও!’ কিন্তু সে নিজেই ভয়ে কাঁপছে। মা-বাবা পালিয়ে যাবে। যাদের জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছি, তারা মুখ ফিরিয়ে নেবে। কারণ তারাও নিজেদের মুক্তির জন্য হাহাকার করছে।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন বিবাদ এত তীব্র হবে যে, রূহ দেহের সঙ্গে ঝগড়া করবে।’ (আত-তাবারি, জামি‘উল বায়ান ফি তা’ওয়িলিল কোরআন, ১৯/১২৩, দারু ইহইয়া আত-তুরাস, বৈরুত, ২০০১)।

সেদিন কেউ কারো নয়। শুধু আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে একা।

তাই দুনিয়াতেই নিজের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এটা স্বার্থপরতা নয়, দায়িত্ব। শরীরের রোগ সারাই যেমন জরুরি, অন্তরের রোগ সারানো আরও জরুরি। শিরক, হিংসা, অহংকার—এগুলো অন্তরের ক্যান্সার। এগুলো থেকে মুক্ত না হলে, কিয়ামতের দিন কোনো ওষুধ কাজ করবে না।

আমরা প্রায়ই ভাবি, ‘আমার সন্তানরা আমাকে বাঁচাবে’, ‘আমার সম্পদ আমাকে সম্মান দেবে’। কিন্তু সেদিন বুঝব, সবই ধোঁকা। শুধু একটি জিনিস সঙ্গে যাবে: আমার আমলের খাতা আর আমার অন্তরের অবস্থা। যে অন্তর আল্লাহর জন্য খাঁটি, সে মুক্তি পাবে। বাকি সবাই—ধনী হোক বা গরিব, পিতা হোক বা সন্তান—সবাই একা।

ইবরাহিম (আ.)–র দোয়া আমাদের শেখায়, ‘হে আল্লাহ! আমাকে সেদিন অপমানিত করো না।’ তিনি জানতেন, সেদিন লাঞ্ছনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়—পরিচ্ছন্ন অন্তর।

চলুন, আজ থেকেই অন্তর পরিষ্কার করি। তাওবা করি। শিরক ত্যাগ করি। সৎকর্মে সম্পদ ব্যয় করি। সন্তানদের দ্বিন শেখাই। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা—নিজের অন্তরকে আল্লাহর জন্য খাঁটি রাখি। যাতে সেদিন যখন সবাই পালাবে, আল্লাহ আমাদের হাত ধরেন।

সূত্র: প্রথম আলো