ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলার সাথে থাকতে চেয়ে ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি কক্সবাজারে বহুল প্রত্যাশিত মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ‎ একরাম হত্যায় মিফতাহ ও বদিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাতকানিয়ার জাবেদের মৃত্যু মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ লোহাগাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রবীণ আইনজীবী প্রফেসর নুর আহমদ এডভোকেটের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী ২৬ আগস্ট আশ্রয়প্রার্থী বিদেশিদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আমেরিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন : কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের নতুন হোস্টেল একনেকে অনুমোদন ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখণ্ডিত, নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের ৩ সদস্য উদ্ধার: শিশু নিখোঁজ অশ্রুজলে ২৫ আগস্ট স্মরণ: বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট চাইলো লাখো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি দ্রুত সকল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে ৫ জেলে নিখোঁজ

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।