ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওশানের ফুটবল টুর্নামেন্টে পরিচালক মিশু-ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক আয়োজন পর্যটন সেবায় কর্মীদের মনোবল বাড়ায় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি থেকে ২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কানায় কানায় পূর্ণ বাঁশখালীর সাগরপাড়ের সমাবেশস্থল পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চলমান মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী  প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মন্ত্রী-এমপিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।