ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি নেইমারকে ছাড়াই পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা হিজাব পরায় তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, নিহত অন্তত ৯ দেশজুড়ে আরও বাড়বে গরম, চট্টগ্রামসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন নৌকার সমর্থক , উখিয়ার কৃষকদল আহবায়ক দিলেন সাংবাদিকদের হুমকি! নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক কোরবানির পশুর নামকরণ ও ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড ৪০০ জনকে ঔষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা দিলো কর্মবীর মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা যাত্রীর মৃত্যু  টেকনাফে মাদক মামলায় ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জহির গ্রেফতার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে জেলা বিএনপির খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

প্রথম চালানে ভারতে গেল সাড়ে ৩৭ টন ইলিশ

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথম চালানে ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আটটি ট্রাকে করে এসব ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে বেনাপোল বন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা সজীব সাহা জানান।

এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানি করেছে সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ ও লাকী ট্রেডিং। আর আমদানিকারক হচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল ও আরজে ইন্টারন্যাশনাল।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এজন্য ন্যূনতম দর প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেনি সরকার।

মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকেই রপ্তানি করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রপ্তানির অনুমোদনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানির এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

আবার সরকার প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানির এ আদেশ যেকোনো সময় বন্ধও করতে পারবে বলে অনুমোদনের শর্তে বলা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে দুর্গোৎসবে ভারতের বাঙালিদের এই মাছের স্বাদ দিতে বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যায়।

এর মধ্যে গতবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ২ হাজার ৪২০ টন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের অনুকূলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

২০২২ সালে ৫৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২১ সালে ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৯ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও তার সব পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৬ টন ইলিশ।

ইলিশ রপ্তানিকারক ও স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পাঠানো ইলিশগুলোর ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। সরকারের নির্ধারিত দামেই সেগুলো পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি সামনের দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করেন এ রপ্তানিকারক।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি

প্রথম চালানে ভারতে গেল সাড়ে ৩৭ টন ইলিশ

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথম চালানে ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আটটি ট্রাকে করে এসব ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে বেনাপোল বন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা সজীব সাহা জানান।

এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানি করেছে সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ ও লাকী ট্রেডিং। আর আমদানিকারক হচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল ও আরজে ইন্টারন্যাশনাল।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এজন্য ন্যূনতম দর প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেনি সরকার।

মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকেই রপ্তানি করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রপ্তানির অনুমোদনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানির এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

আবার সরকার প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানির এ আদেশ যেকোনো সময় বন্ধও করতে পারবে বলে অনুমোদনের শর্তে বলা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে দুর্গোৎসবে ভারতের বাঙালিদের এই মাছের স্বাদ দিতে বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যায়।

এর মধ্যে গতবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ২ হাজার ৪২০ টন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের অনুকূলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

২০২২ সালে ৫৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২১ সালে ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৯ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও তার সব পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৬ টন ইলিশ।

ইলিশ রপ্তানিকারক ও স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পাঠানো ইলিশগুলোর ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। সরকারের নির্ধারিত দামেই সেগুলো পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি সামনের দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করেন এ রপ্তানিকারক।

সূত্র: বিডিনিউজ