ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২ উখিয়ার পর রামু : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা সভাপতির ঘোষনা অনুযায়ী বাইক শো ডাউন ও মিছিল আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ​টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও ৬ দফা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন’-এর বৈঠক ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি এ্যালায়েন্স’কক্সবাজার জেলা কমিটি ঘোষণা কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কক্সবাজারের মেয়ে ইয়াশনা ইকতার এসএসসি ফল প্রকাশের সাম্ভব্য তারিখ জানা গেল বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে : পুলিশ কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবির বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রথম কার্যদিবস আজ টিটিএনের সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে ডিডাব্লিউ একাডেমির ইন-হাউস প্রশিক্ষণ

পাঁচ দিনের টানা বিক্ষোভ, পিছু হটলো বিআইডব্লিউটিএ : স্থগিত হলো অভিযান

শহরের বাঁকখালীর তীরে নদী বন্দরের জন্য দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের পঞ্চম দিনের বিক্ষোভের মুখে অভিযান স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটএ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার থেকে কস্তুরাঘাট এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন লাগিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আসছিলো উচ্ছেদ হওয়া জমির মালিক দাবী করা স্থানীয়রা। এসবের কারণে সীমানা চিহ্নিতকরণ কাজ ও সীমানা প্রাচীরের পিলার স্থাপনের কাজ করা সম্ভব হয়নি।

রোববার থেকে নদী বন্দরের উদ্ধার হওয়া ৬৩ একর জমির সীমানা চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম শুরু করার পূর্ব কর্মসূচী অনুযায়ী সেখানে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। এসময় সীমানা চিহ্নিতকরণ কাজ স্থগিত করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাঁধাদান এবং গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ করে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি এই সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

গেলো সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাঁকখালী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। এতে ঘোষিত পাঁচদিনের অভিযানের প্রথম দুইদিনে ৫ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। দখলমুক্ত করা হয় নদী বন্দরের জন্য নির্ধারিত ৬৩ একর জায়গা। সেসময় চলা উচ্ছেদ অভিযানের তৃতীয়দিন থেকে স্থানীয়দের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা সংঘাতের কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়। এই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দুই হাজারের বেশী মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

নদী বন্দরের দখলমুক্ত ওই জায়গা পুনরায় দখল রোধে এবার স্থায়ীভাবে সীমানা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে,২০১৯ সালের যৌথ জরিপ ম্যাপ অনুযায়ী, নদী বন্দরের জন্য নির্ধারিত জায়গায় উচ্চ ও টেকসই সীমানা পিলার, সাইনবোর্ড বসানো আর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়। ৩ থেকে ১০ ডিসেম্বর পযন্ত এ কার্যক্রম কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিলো।কিন্তু কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা দেখা দেয় বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট এলাকায়।

জমির মালিক দাবি করা বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। বুধবার থেকে শুরু হয় তাদের এই বিক্ষোভ।

তাদের অভিযোগ, জায়গার মালিকানার স্বপক্ষে তাদের সবধরণের নথিপত্র রয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ। তাদের ব্যক্তিগত জমিতে জোর করে সীমানা নির্ধারণ করতে চাইছে। সরকারি সংস্থাটি আদালতের আদেশও মানছেন না বলে অভিযোগ জমির মালিক দাবী করা স্থানীয়দের।

পারুল আক্তার নামের এক নারী সাংবাদিকদের জানান,খতিয়ান আছে,খাজনা দিচ্ছি।ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বা আলোচনা না করে ঘরবাড়ি ভাঙ্গা বা কাঁটাতারের বেড়া দেয়া যাবেন।

সাবিনা ইয়াসমিন নামের অপর এক নারী বলেন ,আমাদের জমি আমাদের ফেরত দেয়া হোক।না হয় ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। তা না হলে এখানো স্থায়ী কোনো অবকাঠামো হতে দেবো না।

আন্দোলনকারীরা জানান,বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে হাইকোর্টে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান বন্ধ রাখার দাবী তাদের।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল জানান,উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে তিনিসহ ৭৭ জন মামলা দায়ের করেছেন।আদালত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানছে না বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

তবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, জায়গা থেকে কাউকে উচ্ছেদ বা মালিকানা বঞ্চিত করা উদ্দ্যেশে নয়; দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পিলার স্থাপন করে সীমানা দৃশ্যমানের কার্যক্রম চালানোর কর্মসূচী নেয়া হয়েছিল। কিছু স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি ভাড়াটে লোক এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হিসেবে গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাঁধাদান করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরবর্তীতে নদী বন্দরের দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণের কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান কক্সবাজার নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল।

১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার নদীর বন্দরের দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অভিযান স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। অভিযান আবারো চলবে বলে জানালেও তার দিন তারিখ জানাইনি বিআইডব্লিউটিএ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২

পাঁচ দিনের টানা বিক্ষোভ, পিছু হটলো বিআইডব্লিউটিএ : স্থগিত হলো অভিযান

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

শহরের বাঁকখালীর তীরে নদী বন্দরের জন্য দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের পঞ্চম দিনের বিক্ষোভের মুখে অভিযান স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটএ কর্তৃপক্ষ।

বুধবার থেকে কস্তুরাঘাট এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন লাগিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আসছিলো উচ্ছেদ হওয়া জমির মালিক দাবী করা স্থানীয়রা। এসবের কারণে সীমানা চিহ্নিতকরণ কাজ ও সীমানা প্রাচীরের পিলার স্থাপনের কাজ করা সম্ভব হয়নি।

রোববার থেকে নদী বন্দরের উদ্ধার হওয়া ৬৩ একর জমির সীমানা চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম শুরু করার পূর্ব কর্মসূচী অনুযায়ী সেখানে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। এসময় সীমানা চিহ্নিতকরণ কাজ স্থগিত করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাঁধাদান এবং গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ করে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি এই সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

গেলো সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাঁকখালী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। এতে ঘোষিত পাঁচদিনের অভিযানের প্রথম দুইদিনে ৫ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। দখলমুক্ত করা হয় নদী বন্দরের জন্য নির্ধারিত ৬৩ একর জায়গা। সেসময় চলা উচ্ছেদ অভিযানের তৃতীয়দিন থেকে স্থানীয়দের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা সংঘাতের কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়। এই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দুই হাজারের বেশী মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

নদী বন্দরের দখলমুক্ত ওই জায়গা পুনরায় দখল রোধে এবার স্থায়ীভাবে সীমানা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে,২০১৯ সালের যৌথ জরিপ ম্যাপ অনুযায়ী, নদী বন্দরের জন্য নির্ধারিত জায়গায় উচ্চ ও টেকসই সীমানা পিলার, সাইনবোর্ড বসানো আর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়। ৩ থেকে ১০ ডিসেম্বর পযন্ত এ কার্যক্রম কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিলো।কিন্তু কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা দেখা দেয় বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট এলাকায়।

জমির মালিক দাবি করা বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। বুধবার থেকে শুরু হয় তাদের এই বিক্ষোভ।

তাদের অভিযোগ, জায়গার মালিকানার স্বপক্ষে তাদের সবধরণের নথিপত্র রয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ। তাদের ব্যক্তিগত জমিতে জোর করে সীমানা নির্ধারণ করতে চাইছে। সরকারি সংস্থাটি আদালতের আদেশও মানছেন না বলে অভিযোগ জমির মালিক দাবী করা স্থানীয়দের।

পারুল আক্তার নামের এক নারী সাংবাদিকদের জানান,খতিয়ান আছে,খাজনা দিচ্ছি।ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বা আলোচনা না করে ঘরবাড়ি ভাঙ্গা বা কাঁটাতারের বেড়া দেয়া যাবেন।

সাবিনা ইয়াসমিন নামের অপর এক নারী বলেন ,আমাদের জমি আমাদের ফেরত দেয়া হোক।না হয় ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। তা না হলে এখানো স্থায়ী কোনো অবকাঠামো হতে দেবো না।

আন্দোলনকারীরা জানান,বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে হাইকোর্টে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান বন্ধ রাখার দাবী তাদের।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল জানান,উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে তিনিসহ ৭৭ জন মামলা দায়ের করেছেন।আদালত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানছে না বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

তবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, জায়গা থেকে কাউকে উচ্ছেদ বা মালিকানা বঞ্চিত করা উদ্দ্যেশে নয়; দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পিলার স্থাপন করে সীমানা দৃশ্যমানের কার্যক্রম চালানোর কর্মসূচী নেয়া হয়েছিল। কিছু স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি ভাড়াটে লোক এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হিসেবে গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাঁধাদান করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরবর্তীতে নদী বন্দরের দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণের কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান কক্সবাজার নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল।

১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার নদীর বন্দরের দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অভিযান স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। অভিযান আবারো চলবে বলে জানালেও তার দিন তারিখ জানাইনি বিআইডব্লিউটিএ।