ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এদেশের মানুষের মুক্তির সনদ: সালাহউদ্দিন আহমদ উপদেষ্টার বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরীর উদ্বেগ – ‘জিয়া পরিবারের সবাইকে এসএসএফ সুবিধা দিতে হবে’ সেন্টমার্টিনে ১৮৫০ কেজি বর্জ্য অপসারণ টেকনাফের সন্ত্রাসী মিজানের বাড়িতে নৌবাহিনীর অভিযান: বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সাগরে নৌবাহিনীর অভিযান: মায়ানমার পাচারকালে দেড়হাজার বস্তা সিমেন্টসহ আটক ৩০ টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী সাইফুল গ্রেফতার কক্সবাজারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায়- যথাযথ দায়িত্ব পালন যে করেনা তাকে শিক্ষক বলা যায় না সালাহউদ্দিন আহমেদ / শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অস্তিত্বে কখনো বিশ্বাস করেনি মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলেই আসবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিজয় দিবস ক্রিকেট: ‘অদম্য’ মিরাজের মুখোমুখি ‘অপরাজেয়’ শান্ত.. মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ, আটক ৮ উখিয়ায় ‘স্বপচূড়া’র ক্রীড়া উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত হলো ফুটবল উৎসব বাহারছড়ার অপহৃত ৪ কিশোরকে ছেড়ে দেয়ার নেপথ্যে মুক্তিপণ নাকি অন্যকিছু! মাতামুহুরিকে উপজেলা করা হবে: চকরিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমেদ বিজয়ের মাসে কক্সবাজারের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এদেশের মানুষের মুক্তির সনদ: সালাহউদ্দিন আহমদ

This will close in 6 seconds

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।