ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁও মানবিক ফাউন্ডেশনের কমিটি ঘোষনা : সভাপতি মোহাম্মদ জুবাইর, সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক হাদি ১৮২ জন বাংলাদেশী জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে: ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার নীতি মানছেনা মাসব্যাপী অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন কক্সবাজার থেকে বিশ্বমঞ্চে— WIN-DRR Rising Star Award 2025 পেলেন হাকিমুন নেছা খালেদা জিয়াকে এখনই বিদেশ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না- মির্জা ফখরুল ১০ হাজার কোটি টাকার কাজ ঠেকেছে ২৮ হাজার কোটিতে ‘খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ রামু রাবার বাগানে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশী:৯০ হাজার ইয়াবাসহ বাসের হেল্পার আটক বদরখালীতে অবৈধ বোটে অভিযানে জাল ও মাছ জব্দ : জরিমানা আদায় সাতকানিয়ায় শ্রমিক সেজে কাজ করা ২২ রোহিঙ্গা আটক জানুয়ারির শুরুতেই বই পৌঁছাবে শিক্ষার্থীদের হাতে : শিক্ষা উপদেষ্টা খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে যা বললেন এনসিপি নেতারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়: তারেক রহমান সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’, মাছ ধরা ট্রলারকে উপকূলে থাকার নির্দেশ ইনজুরি নিয়েই মাঠে নেইমার, গোল-অ্যাসিস্টে জয় পেল সান্তোস

কাঁচা আম নাকি পাকা আম, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?

আসছে আমের মৌসুম। অনন্য স্বাদ ছাড়াও আম অসাধারণ পুষ্টিতে ভরপুর যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য, শক্তির মাত্রা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর কাজ করে। আম বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যেতে পারে। কেউ কেউ পাকা, রসালো এবং মিষ্টি আম পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ কাঁচা আমের স্বাদ টক এবং সুস্বাদু বলে মনে করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা এবং পাকা উভয় আমেরই নিজস্ব সুবিধা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোনটি বেশি উপকারী-

কাঁচা আমের উপকারিতা

কাঁচা আমে ভিটামিন সি বেশি থাকে এবং পাকা আমের তুলনায় এটি বেশি অ্যাসিডিক। এটি তাদের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাঁচা আমে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার থাকে যা হজমের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মিত মলত্যাগের গতি বৃদ্ধি করে এবং অন্ত্রের সুস্থ মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করে।

কাঁচা আমে ভিটামিন সি-এর ঘনত্বও বেশি থাকে, যা একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। যা এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী বৈশিষ্ট্য, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব এবং কোলাজেন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখার জন্য পরিচিত। কাঁচা আম কাঁচা প্রকৃতির কারণে বেশি অ্যাসিডিক। এই অ্যাসিডিটি হজমের সুবিধা দেয়, পাচক এনজাইম উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং খাদ্য ভাঙনে সহায়তা করে।

কাঁচা আম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের একটি সমৃদ্ধ উৎস যা ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

পাকা আমের উপকারিতা

পাকা আমে বিটা-ক্যারোটিনের মতো কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে, যা এই ফলকে কমলা-হলুদ রঙ দেয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। এছাড়াও বিটা-ক্যারোটিনসহ এর ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ বেশ বৃদ্ধি পায়। এই ক্যারোটিনয়েড শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

পাকা আমে ভিটামিন এ বেশি থাকে, যা সুস্থ দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে পাকা আমে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, যা এই ফলকে মিষ্টি এবং আরও সুস্বাদু করে তোলে। এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে এবং মিষ্টির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।

কাঁচা বনাম পাকা আম: কোনটি ভালো?

এটি ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকাগত পছন্দ, স্বাস্থ্য লক্ষ্য এবং পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য: কাঁচা আম বেশি ভিটামিন সি উপাদানের কারণে পছন্দনীয় হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণের জন্য: পাকা আম বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে আরও উপকারী হতে পারে।

হজমের স্বাস্থ্যের জন্য: কাঁচা এবং পাকা উভয় আমই ফাইবার সরবরাহ করে, তবে কাঁচা আম এই ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দিতে পারে।

স্বাদের জন্য: পাকা আম অনেকের কাছে মিষ্টি এবং বেশি উপভোগ্য।

পরিশেষে, কাঁচা এবং পাকা উভয় আমেরই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। খাদ্যতালিকায় কাঁচা এবং পাকা আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফল যোগ করলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিত করা যায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদগাঁও মানবিক ফাউন্ডেশনের কমিটি ঘোষনা : সভাপতি মোহাম্মদ জুবাইর, সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক হাদি

This will close in 6 seconds

কাঁচা আম নাকি পাকা আম, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?

আপডেট সময় : ০২:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

আসছে আমের মৌসুম। অনন্য স্বাদ ছাড়াও আম অসাধারণ পুষ্টিতে ভরপুর যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য, শক্তির মাত্রা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর কাজ করে। আম বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যেতে পারে। কেউ কেউ পাকা, রসালো এবং মিষ্টি আম পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ কাঁচা আমের স্বাদ টক এবং সুস্বাদু বলে মনে করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা এবং পাকা উভয় আমেরই নিজস্ব সুবিধা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোনটি বেশি উপকারী-

কাঁচা আমের উপকারিতা

কাঁচা আমে ভিটামিন সি বেশি থাকে এবং পাকা আমের তুলনায় এটি বেশি অ্যাসিডিক। এটি তাদের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাঁচা আমে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার থাকে যা হজমের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মিত মলত্যাগের গতি বৃদ্ধি করে এবং অন্ত্রের সুস্থ মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করে।

কাঁচা আমে ভিটামিন সি-এর ঘনত্বও বেশি থাকে, যা একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। যা এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী বৈশিষ্ট্য, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব এবং কোলাজেন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখার জন্য পরিচিত। কাঁচা আম কাঁচা প্রকৃতির কারণে বেশি অ্যাসিডিক। এই অ্যাসিডিটি হজমের সুবিধা দেয়, পাচক এনজাইম উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং খাদ্য ভাঙনে সহায়তা করে।

কাঁচা আম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের একটি সমৃদ্ধ উৎস যা ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

পাকা আমের উপকারিতা

পাকা আমে বিটা-ক্যারোটিনের মতো কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে, যা এই ফলকে কমলা-হলুদ রঙ দেয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। এছাড়াও বিটা-ক্যারোটিনসহ এর ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ বেশ বৃদ্ধি পায়। এই ক্যারোটিনয়েড শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

পাকা আমে ভিটামিন এ বেশি থাকে, যা সুস্থ দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে পাকা আমে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, যা এই ফলকে মিষ্টি এবং আরও সুস্বাদু করে তোলে। এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে এবং মিষ্টির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।

কাঁচা বনাম পাকা আম: কোনটি ভালো?

এটি ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকাগত পছন্দ, স্বাস্থ্য লক্ষ্য এবং পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য: কাঁচা আম বেশি ভিটামিন সি উপাদানের কারণে পছন্দনীয় হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণের জন্য: পাকা আম বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে আরও উপকারী হতে পারে।

হজমের স্বাস্থ্যের জন্য: কাঁচা এবং পাকা উভয় আমই ফাইবার সরবরাহ করে, তবে কাঁচা আম এই ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দিতে পারে।

স্বাদের জন্য: পাকা আম অনেকের কাছে মিষ্টি এবং বেশি উপভোগ্য।

পরিশেষে, কাঁচা এবং পাকা উভয় আমেরই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। খাদ্যতালিকায় কাঁচা এবং পাকা আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফল যোগ করলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিত করা যায়।