ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পোর্টস ও ইভি গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী মাতামুহুরী উপজেলার প্রথম ইউএনও শাহীন দেলোয়ার সীমান্তে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ, পিছু হটতে বাধ্য হলো ভারতীয় বাহিনী ফোর্টিফাই রাইটসের বিবৃতি – আরসা প্রধান আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দাবি কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হা’ম’লা চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত কুকুরের নৈপুণ্যে টায়ারের ভেতর মিলল ইয়াবা চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবার প্যাসিফিক বীচ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ কটেজ, ক্ষতি ৭০ লাখ টাকা খেলাঘরের মানববন্ধন :শিশুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দ্রুত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া নতুন আলোচনায় কারা?  / উখিয়ায় ৬ বছর ধরে ‘মেয়াদউর্ত্তীণ’ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি  চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা, জড়িতদের শাস্তি দাবি অভিযুক্ত ডিবি কার্যালয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে র‍্যাব

৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা

৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে সৈকতের কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে বিকেলের দিকে সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা গোসলের জন্য সমুদ্র অনিরাপদ ঘোষণা করে লাল-হলুদ পতাকার পরিবর্তে লাল পতাকা উত্তোলন করেন। এর আগে গত ৭ নভেম্বর দীর্ঘ সময় পর সৈকতে লাল পতাকার পরিবর্তে লাল-হলুদ পতাকা টাঙানো হয়েছিল, যা তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

লাবণী পয়েন্টে কর্মরত সিনিয়র লাইফগার্ড মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, “দুপুর পর্যন্ত সমুদ্রের অবস্থা স্বাভাবিক থাকায় লাল-হলুদ পতাকা ছিল। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সঙ্গে সঙ্গে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।”

সি সেইফ লাইফগার্ডের ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকলে লাল পতাকা টাঙানো হয়। এ সময় সৈকতে গর্ত ও ক্যানেল তৈরি হয়, যা পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট পতাকা জোনের বাইরে কোথাও গোসলে নামা যাবে না। যেখানে লাইফগার্ড সেবা রয়েছে, সেখানেই নামতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”

পর্যটকদের উপস্থিতি কম, আতঙ্কে অনেকে:

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অনেকেই সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, “সকালে সৈকতে এসে দেখি আবহাওয়া মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও বাতাস বেড়ে যায়। লাল পতাকা দেখে আর পানিতে নামার সাহস পাইনি।”

চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা মূলত গোসল করার জন্যই এসেছিলাম। কিন্তু লাল পতাকা টাঙানো দেখে ভয় লাগছে। নিরাপত্তার জন্য নামিনি।”

রংপুরের পর্যটক সুমন মিয়া বলেন, “কয়েকদিন আগে যখন এসেছিলাম তখন লাল-হলুদ পতাকা ছিল, তখন কিছুটা স্বস্তি ছিল। এখন আবার লাল পতাকা দেখে বুঝতে পারছি পরিস্থিতি খারাপ।”

বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতে প্রাণহানি:

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

এদিন সকালে সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকায় বজ্রপাতে এক লবণ চাষীর মৃত্যুর হয়েছে। যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

৪ দিনের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সতর্ক সংকেত জারি:

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, আজসহ টানা চার দিন (৯৬ ঘণ্টা) ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে লাল পতাকা টাঙানো অবস্থায় সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

লাইফগার্ডরা জানান, সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা নজরদারিতে থাকলেও আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা

আপডেট সময় : ০৯:১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে সৈকতের কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে বিকেলের দিকে সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা গোসলের জন্য সমুদ্র অনিরাপদ ঘোষণা করে লাল-হলুদ পতাকার পরিবর্তে লাল পতাকা উত্তোলন করেন। এর আগে গত ৭ নভেম্বর দীর্ঘ সময় পর সৈকতে লাল পতাকার পরিবর্তে লাল-হলুদ পতাকা টাঙানো হয়েছিল, যা তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

লাবণী পয়েন্টে কর্মরত সিনিয়র লাইফগার্ড মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, “দুপুর পর্যন্ত সমুদ্রের অবস্থা স্বাভাবিক থাকায় লাল-হলুদ পতাকা ছিল। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সঙ্গে সঙ্গে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।”

সি সেইফ লাইফগার্ডের ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকলে লাল পতাকা টাঙানো হয়। এ সময় সৈকতে গর্ত ও ক্যানেল তৈরি হয়, যা পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট পতাকা জোনের বাইরে কোথাও গোসলে নামা যাবে না। যেখানে লাইফগার্ড সেবা রয়েছে, সেখানেই নামতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”

পর্যটকদের উপস্থিতি কম, আতঙ্কে অনেকে:

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অনেকেই সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, “সকালে সৈকতে এসে দেখি আবহাওয়া মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও বাতাস বেড়ে যায়। লাল পতাকা দেখে আর পানিতে নামার সাহস পাইনি।”

চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা মূলত গোসল করার জন্যই এসেছিলাম। কিন্তু লাল পতাকা টাঙানো দেখে ভয় লাগছে। নিরাপত্তার জন্য নামিনি।”

রংপুরের পর্যটক সুমন মিয়া বলেন, “কয়েকদিন আগে যখন এসেছিলাম তখন লাল-হলুদ পতাকা ছিল, তখন কিছুটা স্বস্তি ছিল। এখন আবার লাল পতাকা দেখে বুঝতে পারছি পরিস্থিতি খারাপ।”

বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতে প্রাণহানি:

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

এদিন সকালে সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকায় বজ্রপাতে এক লবণ চাষীর মৃত্যুর হয়েছে। যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

৪ দিনের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সতর্ক সংকেত জারি:

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, আজসহ টানা চার দিন (৯৬ ঘণ্টা) ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে লাল পতাকা টাঙানো অবস্থায় সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

লাইফগার্ডরা জানান, সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা নজরদারিতে থাকলেও আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।