ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরো ১০ ছিনতাইকারী আটক, ২৪ ঘন্টায় আটক ১৪ জন ট্রাকে করে পাচারের জন্য যাচ্ছিলো ১৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার, ইউএনওর অভিযানে জব্দ খুরুশকুল নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে দেশী অস্ত্রসহ ৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতারl আজিম মেম্বার এখন পেকুয়ার বিএনপির সুসময়ের বন্ধু! লামায় জব্দ করা ৮ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালুর নিলাম : সরকারি কোষাগারে জমা ২০ লাখ ২২ হাজার টাকা বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন : সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ১০ প্রার্থীর লড়াই সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না উখিয়ায় নিখোঁজের ২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ৭ বছর বয়সী পূর্ণ বড়ুয়া, পরিবারের কাছে হস্তান্তর উখিয়ায় মানসিক রোগী তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার রামুতে ​মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি জেলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো নতুন নৌকা কক্সবাজার সিটি কলেজ এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় মুবিন আটক রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিকতার সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে নিখোঁজ, ১৮ ঘণ্টা পর শামীমের মরদেহ উদ্ধার

উখিয়ার ক্যাম্পে নতুন রোহিঙ্গাদের ‘ঘর বিক্রি’ করেন সিএমও শরীফ!

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে গত দেড় বছরে নতুন করে বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে।

এসব রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফের ৩৩ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগে থেকেই আশ্রিত আত্মীয় স্বজনদের ঘরে, আবার ক্যাম্পের খালি অথবা নতুন নির্মানাধীন ঘরেও মিলছে ঠাঁই।

সম্প্রতি ক্যাম্প প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে নতুন ১১৮ টি ঘর (শেড) নির্মাণ করা হয়েছে।

টিটিএনের অনুসন্ধান বলছে, এসব ঘরের অধিকাংশই নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বরাদ্দ।

রোহিঙ্গা মাঝি আরফাত উল্লাহ ও আব্দুস সালামের যোগসাজশে এসব ঘরপ্রতি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীদের দাবী, বিপুল পরিমাণ অর্থের এই দুর্নীতির মূলহোতা সিআইসি কার্যালয়ে আরআরআরসি অফিস থেকে নিয়োগকৃত কেয়ার এন্ড মেইনটেইনেন্স অফিসার (সিএমও) এনাম মোহাম্মদ শরীফ।

সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে ১৮ নং ক্যাম্পে আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারীর শাশুড়ি।

ঐ নারী জানান, হেডমাঝি মৌলভি আরফাত উল্লাহকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তিনি একটি ঘর পান তবে একমাস না যেতে সিএমও’র অযুহাতে আবারও টাকা দাবি করেন ওই হেডমাঝি। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় (ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত) ।

পরবর্তীতে উচ্ছেদ হওয়া নারী ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে বিচার চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিচার চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয় বলে জানান ঐ নারী।

ওই ঘরে পরবর্তীতে নতুন আসা আরেক নারীকে উঠিয়ে দেন আরফাত উল্লাহ।

বি ব্লকের বাসিন্দা অন্তত ৬ জন রোহিঙ্গা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আরফাত ও আব্দুস সালামের সাথে মিলে সিএমও শরীফের এই বাণিজ্য ক্যাম্পে ‘ওপেন সিক্রেট। ‘

এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে শরীফকে ফোন দেওয়া হলে তিনি দাপ্তরিক ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

১৮ নং ক্যাম্পের সিআইসি মিনহাজুল ইসলাম টিটিএনকে জানিয়েছেন , সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

শরনার্থী ত্রাণও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা মাঝিরা অপরাধ করলে তাঁদের মাঝি থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে কোনো কর্মকর্তা যদি অপকর্মে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আরো ১০ ছিনতাইকারী আটক, ২৪ ঘন্টায় আটক ১৪ জন

উখিয়ার ক্যাম্পে নতুন রোহিঙ্গাদের ‘ঘর বিক্রি’ করেন সিএমও শরীফ!

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে গত দেড় বছরে নতুন করে বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে।

এসব রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফের ৩৩ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগে থেকেই আশ্রিত আত্মীয় স্বজনদের ঘরে, আবার ক্যাম্পের খালি অথবা নতুন নির্মানাধীন ঘরেও মিলছে ঠাঁই।

সম্প্রতি ক্যাম্প প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে নতুন ১১৮ টি ঘর (শেড) নির্মাণ করা হয়েছে।

টিটিএনের অনুসন্ধান বলছে, এসব ঘরের অধিকাংশই নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বরাদ্দ।

রোহিঙ্গা মাঝি আরফাত উল্লাহ ও আব্দুস সালামের যোগসাজশে এসব ঘরপ্রতি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীদের দাবী, বিপুল পরিমাণ অর্থের এই দুর্নীতির মূলহোতা সিআইসি কার্যালয়ে আরআরআরসি অফিস থেকে নিয়োগকৃত কেয়ার এন্ড মেইনটেইনেন্স অফিসার (সিএমও) এনাম মোহাম্মদ শরীফ।

সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে ১৮ নং ক্যাম্পে আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারীর শাশুড়ি।

ঐ নারী জানান, হেডমাঝি মৌলভি আরফাত উল্লাহকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তিনি একটি ঘর পান তবে একমাস না যেতে সিএমও’র অযুহাতে আবারও টাকা দাবি করেন ওই হেডমাঝি। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় (ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত) ।

পরবর্তীতে উচ্ছেদ হওয়া নারী ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে বিচার চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিচার চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয় বলে জানান ঐ নারী।

ওই ঘরে পরবর্তীতে নতুন আসা আরেক নারীকে উঠিয়ে দেন আরফাত উল্লাহ।

বি ব্লকের বাসিন্দা অন্তত ৬ জন রোহিঙ্গা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আরফাত ও আব্দুস সালামের সাথে মিলে সিএমও শরীফের এই বাণিজ্য ক্যাম্পে ‘ওপেন সিক্রেট। ‘

এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে শরীফকে ফোন দেওয়া হলে তিনি দাপ্তরিক ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

১৮ নং ক্যাম্পের সিআইসি মিনহাজুল ইসলাম টিটিএনকে জানিয়েছেন , সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

শরনার্থী ত্রাণও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা মাঝিরা অপরাধ করলে তাঁদের মাঝি থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে কোনো কর্মকর্তা যদি অপকর্মে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।