ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক পেকুয়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৪০ শিক্ষার্থী চাকুরি পেছনে না ঘুরে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে চাকুরি দাতা হোন- জেলা প্রশাসক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ অবশেষে ইশরাকের ঘোষণা, পদত্যাগ করবেন দুপুরে

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। সাগর উপকূলের মানুষের কাছে এটি এক দুঃসহ বেদনার দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলের জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। ।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকাও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙর করা জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্যও পাননি। সেসময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। ফলে মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় উপকূলীয় এলাকা।
দিনটি স্মরণে উপকূলীয় এলাকায় নানান আয়োজন করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। সাগর উপকূলের মানুষের কাছে এটি এক দুঃসহ বেদনার দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলের জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। ।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকাও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙর করা জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্যও পাননি। সেসময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। ফলে মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় উপকূলীয় এলাকা।
দিনটি স্মরণে উপকূলীয় এলাকায় নানান আয়োজন করা হয়।