ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর বসছে শনিবার- লালদীঘিতে জমবে বৈশাখী মেলা সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুর ইসলামের বিবৃতি রামুতে সড়ক সংস্কারে ঠিকাদার-এলজিইডি কর্তার অনিয়ম, কাজ শেষ হওয়ার আগেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গলায় ফাঁস দিয়ে নারীর আত্মহত্যা কুতুবদিয়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন  মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বনভূমিতে নতুন করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ উখিয়ায় পরিবেশ ও বন অপরাধ দমনে প্রশাসনের অভিযান: ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ড্রেজার জব্দ টেকনাফের জেলেপল্লীতে অগ্নিদুর্গতদের পাশে দাঁড়ালেন শাহজাহান চৌধুরী হ্নীলায় সহায়তা প্রদানকালে জেলা জামায়াত আমীর আনোয়ারী -অবিলম্বে নাফ নদী খুলে দিন ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা মেরিন ড্রাইভে ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ গেল পর্যটকের টেকনাফে পিস্তলসহ সিএনজি চালক আটক কক্সবাজারে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল কক্সবাজারে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না: সেনাপ্রধান আজ বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। সাগর উপকূলের মানুষের কাছে এটি এক দুঃসহ বেদনার দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলের জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। ।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকাও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙর করা জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্যও পাননি। সেসময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। ফলে মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় উপকূলীয় এলাকা।
দিনটি স্মরণে উপকূলীয় এলাকায় নানান আয়োজন করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর বসছে শনিবার- লালদীঘিতে জমবে বৈশাখী মেলা

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। সাগর উপকূলের মানুষের কাছে এটি এক দুঃসহ বেদনার দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলের জনপদ, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। ।

ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার, সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। এতে ডুবে যায় ফসলের মাঠ, ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদিপশু। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকাও তছনছ হয়ে যায়। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙর করা জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। ভেসে যায় নৌ ও বিমানবাহিনীর অবকাঠামো, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উড়োজাহাজ।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার সাগরের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এক রাতেই অসংখ্য মানুষ হারায় পরিবারের সদস্যদের। কেউ সন্তান, কেউ স্ত্রী, কেউ বা ভাই-বোন হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসে।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারেন না উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠে বুক। সেই রাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, কেউ কেউ তথ্যও পাননি। সেসময় আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে রয়ে যান নিজ ঘরে। ফলে মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয় উপকূলীয় এলাকা।
দিনটি স্মরণে উপকূলীয় এলাকায় নানান আয়োজন করা হয়।