ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুটাখালীতে ইয়াবার চালান নিয়ে পালাতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু উখিয়ায় মহাসড়কে পশু হাট, শর্ত লঙ্ঘন করে অনুমোদন দিলেন ইউএনও! যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, মাঠে থেকে কাজ করে যাব ‘ডগ হেনরি’ ধরিয়ে দিলো ১৬ হাজার ইয়াবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পোস্ট, এনসিপি নেতার ১৫ ঘন্টা হাজতবাস সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ শুরু করেছে : তথ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য: মহেশখালীতে এনসিপি নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ আইনমন্ত্রীর একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু, দিশেহারা পরিবার রামুতে ৪০ হাজার ইয়াবা নিয়ে বিএনপি নেতার স্ত্রীসহ আটক ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক লামা-ফাইতং সড়কে যাত্রী বেশে সিএনজি ছিনতাই: চালককে ছুরিকাঘাত জোয়ারিয়ানালার মরহুম জালাল আহমদ চৌধুরী’র ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুতুবদিয়ায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার ফিল স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

‘আগামী বছরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না বলা যাচ্ছে না’

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এর ফলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না— এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, বার্মিজ জান্তাকে খুশি করতে গিয়ে তথাকথিত ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’র চাটুকার ও কূটনীতিকরা একটি নতুন শব্দ FDMN (Forcibly Displaced Myanmar National) এর উদ্ভাবন ঘটান। এই শব্দটি শুধু একটি কৌশল নয়, এটি বার্মিজ গণহত্যার বর্ণনাকে বৈধতা দেয়ার এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা। এতে বোঝানো হয় যে রোহিঙ্গা বলে কেউ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গারা কোনো ‘FDMN’ নয়, তারা শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক একটি জাতি। ‘FDMN’ শব্দটি ব্যবহার করে তাদের প্রকৃত পরিচয়, সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের কুনমিং শহরে এবং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনা করে, তখন তারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত করে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে। জান্তার কর্মকর্তারাও শেষমেশ এই পরিচয় স্বীকার করতে বাধ্য হন। আমাদের সঙ্গে বৈঠকে তারাও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না। বিশেষ করে রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল প্রক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে গত কয়েকদিনে যেটা দেখেছি, তা আমাদের নেতৃত্ব এবং শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান। মিয়ানমার জান্তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এখন দরকার টানা কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুটাখালীতে ইয়াবার চালান নিয়ে পালাতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

‘আগামী বছরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না বলা যাচ্ছে না’

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এর ফলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না— এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, বার্মিজ জান্তাকে খুশি করতে গিয়ে তথাকথিত ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’র চাটুকার ও কূটনীতিকরা একটি নতুন শব্দ FDMN (Forcibly Displaced Myanmar National) এর উদ্ভাবন ঘটান। এই শব্দটি শুধু একটি কৌশল নয়, এটি বার্মিজ গণহত্যার বর্ণনাকে বৈধতা দেয়ার এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা। এতে বোঝানো হয় যে রোহিঙ্গা বলে কেউ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গারা কোনো ‘FDMN’ নয়, তারা শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক একটি জাতি। ‘FDMN’ শব্দটি ব্যবহার করে তাদের প্রকৃত পরিচয়, সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের কুনমিং শহরে এবং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনা করে, তখন তারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত করে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে। জান্তার কর্মকর্তারাও শেষমেশ এই পরিচয় স্বীকার করতে বাধ্য হন। আমাদের সঙ্গে বৈঠকে তারাও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না। বিশেষ করে রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল প্রক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে গত কয়েকদিনে যেটা দেখেছি, তা আমাদের নেতৃত্ব এবং শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান। মিয়ানমার জান্তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এখন দরকার টানা কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়।