ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার,ট্রলি সরবরাহ এবং দালালের দৌরাত্ম বন্ধের নির্দেশ রমজান মাসের অমূল্য রত্ন রোজাদারের দোয়া মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে? ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ঘরে ফিরলেন অভিনেতা ‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল’ হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ: জিনিয়া শারমিন রিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ রামুতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, দাম্পত্যকলহ নাকি পরকীয়া?  নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ ‘সুপ্রভাত কক্সবাজার’-এর ইফতার ও শুভেচ্ছা আড্ডা অনুষ্ঠিত পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় ফরিদুল আলম ফরিদ উখিয়ায় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলাতলী গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

রামু এসিল্যান্ডের গাড়ি চালক পিয়েস, দুর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদের মালিক!

সময়টা তখন ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর,  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের গাড়ি চালক আব্দুল মালেক’কে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

গ্রেফতারের পর স্বল্প বেতনে চাকরি করা মালেকের শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলে, সারাদেশে যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এবার কক্সবাজারের রামুতে মিলেছে আরেক
গাড়ি চালকের সন্ধান, যিনিও অনিয়ম করে বনে গেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক।

সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র গাড়ি চালক হওয়ার সুবাদে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লালন বড়ুয়া’র পুত্র পিয়েস বড়ুয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়’কে বানিয়েছেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর।

২০১১ সালে রামুর তৎকালীন ইউএনও সাইদুল হকের সময়কালে চুক্তিভিত্তিক চাকরি হওয়া স্বত্ত্বেও দাপুটে হয়ে উঠেন পিয়েস।

ঐ সময় রামুর বিভিন্ন এলাকায় খাস জমির খতিয়ান করিয়ে বিপুল টাকা অনৈতিকভাবে আয় করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, পিয়েস ছিলেন অঘোষিত ক্যাশিয়ার।

রামুর বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, “সিন্ডিকেটের কবল থেকে রক্ষা পাননি তৎকালীন রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাম্মদুল হক চৌধুরী। বদলি হতে হয় তৎকালীন এসিল্যান্ডকেও।”

এক ভুক্তভোগী দুর্নীতি দমন কমিশনে পিয়েসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

সেই অভিযোগ বলছে, পিয়েসের রয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা সমমূল্যের ৪ তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল ভবন। উপজেলার মেরংলোয়া, হিমছড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় পিয়েস নিজের বোন ও স্ত্রীর নামে কিনেছেন কোটি টাকা মূল্যের জমি, এছাড়াও লিজ নিয়েছেন সরকারি দোকান।

গিয়াস উদ্দীন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন , ” পিয়েস বড়ুয়া ক্ষমতা দেখিয়ে নিজের ও তার বোনের নামে ২টি সরকারি দোকান বরাদ্দ নিয়ে মোটা অংকের সেলামি ও অতিরিক্ত ভাড়ায় অন্য ব্যবসায়ীকে ভাড়া দিয়ে আসছেন।”

বিষয়টি অভিযোগ দেওয়ায় তাকে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান গিয়াস।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা জানান, ” পাহাড়খেকোদের প্রিয় বন্ধু পিয়েস! অভিযানের আগেই যাদের সতর্ক করে সে, প্রতিমাসে দেওয়া হয় লাখ টাকা মাসোয়ারা।”

অভিযুক্ত পিয়েসকে ফোন করা হলে তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখান এবং বলেন,” আমি অসুস্থ, অযথা আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।”

অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামু এসিল্যান্ডের গাড়ি চালক পিয়েস, দুর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদের মালিক!

আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

সময়টা তখন ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর,  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের গাড়ি চালক আব্দুল মালেক’কে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

গ্রেফতারের পর স্বল্প বেতনে চাকরি করা মালেকের শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলে, সারাদেশে যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এবার কক্সবাজারের রামুতে মিলেছে আরেক
গাড়ি চালকের সন্ধান, যিনিও অনিয়ম করে বনে গেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক।

সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র গাড়ি চালক হওয়ার সুবাদে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লালন বড়ুয়া’র পুত্র পিয়েস বড়ুয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়’কে বানিয়েছেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর।

২০১১ সালে রামুর তৎকালীন ইউএনও সাইদুল হকের সময়কালে চুক্তিভিত্তিক চাকরি হওয়া স্বত্ত্বেও দাপুটে হয়ে উঠেন পিয়েস।

ঐ সময় রামুর বিভিন্ন এলাকায় খাস জমির খতিয়ান করিয়ে বিপুল টাকা অনৈতিকভাবে আয় করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, পিয়েস ছিলেন অঘোষিত ক্যাশিয়ার।

রামুর বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, “সিন্ডিকেটের কবল থেকে রক্ষা পাননি তৎকালীন রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাম্মদুল হক চৌধুরী। বদলি হতে হয় তৎকালীন এসিল্যান্ডকেও।”

এক ভুক্তভোগী দুর্নীতি দমন কমিশনে পিয়েসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

সেই অভিযোগ বলছে, পিয়েসের রয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা সমমূল্যের ৪ তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল ভবন। উপজেলার মেরংলোয়া, হিমছড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় পিয়েস নিজের বোন ও স্ত্রীর নামে কিনেছেন কোটি টাকা মূল্যের জমি, এছাড়াও লিজ নিয়েছেন সরকারি দোকান।

গিয়াস উদ্দীন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন , ” পিয়েস বড়ুয়া ক্ষমতা দেখিয়ে নিজের ও তার বোনের নামে ২টি সরকারি দোকান বরাদ্দ নিয়ে মোটা অংকের সেলামি ও অতিরিক্ত ভাড়ায় অন্য ব্যবসায়ীকে ভাড়া দিয়ে আসছেন।”

বিষয়টি অভিযোগ দেওয়ায় তাকে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান গিয়াস।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা জানান, ” পাহাড়খেকোদের প্রিয় বন্ধু পিয়েস! অভিযানের আগেই যাদের সতর্ক করে সে, প্রতিমাসে দেওয়া হয় লাখ টাকা মাসোয়ারা।”

অভিযুক্ত পিয়েসকে ফোন করা হলে তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখান এবং বলেন,” আমি অসুস্থ, অযথা আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।”

অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম।