ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার আপত্তিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগে কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী বহিষ্কার জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদন্ড সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে ভুল ইংরেজিতে নারী এমপির বক্তব্য আলোচিত সেই শিশুধর্ষণ মামলার রায় আজ পেকুয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই লবণ শ্রমিকের বসতঘর, ক্ষতি ৫ লাখ টাকার কম্বোডিয়ায় সাইবার প্রতারণার জাল: চার দিনে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি হ্যাটট্রিক-রেকর্ড- ইতিহাস; আবেগে ভেজা চোখ- স্বপ্নের মত শুরু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ ও সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড এখন মেসির মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু আর্জেন্টিনার মাতারবাড়িতে জ্বিন তাড়ানোর নামে শরীরে আগুন, ৪ দিন পর বৃদ্ধের মৃত্যু অটোরিক্সাকে বাঁচাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূর্ঘটনার শিকার যাত্রীবাহী বাস ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ইয়াবাসহ মরিচ্যায় ২ পাচারকারী আটক

কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

তীব্র রোদের দিনগুলোই ছিল কক্সবাজারের লবণ চাষিদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। সূর্যের তাপকে তারা শত্রু নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতেন কারণ সেই রোদের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল তাদের স্বপ্ন, সংসার আর জীবনের হিসাব-নিকাশ। কিন্তু হঠাৎই বদলে গেল সবকিছু। বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টিপাত যেন এই শিল্পের ওপর নেমে এসেছে এক নীরব ধ্বংসযজ্ঞ ।

কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণের মাঠ যেখানে প্রতিদিন সাদা সোনার ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ত, সেখানে এখন জমে আছে বৃষ্টির পানি। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে হাজারো পরিবারের জীবনের ভিত।

সরজমিন খুরুশকুলের চৌফলদণ্ডী, নাপিতখালী আর ইসলামপুরের লবণ মাঠে গেলে দেখা যায় এক বুক ভারী করা দৃশ্য। বিশাল মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কালো পলিথিন, কোথাও জমে থাকা পানি, আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শ্রমিক ,যাদের চোখে ক্লান্তি নয়, যেন নিঃশব্দ কান্না জমে আছে। সরোয়ার , আব্দুল হালিম , আবুল হোসেন সহ ৩ জন লবণ চাষি বলেন যে লবণ আমরা কষ্ট করে তুলেছিলাম, সব বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কথাগুলো শেষ হয়, কিন্তু তাদের চোখের ভাষা বলে দেয় আরও অনেক কিছু।

এদিকে কক্সবাজারের লবণ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, আকস্মিক বৃষ্টিতে সাধারণত লবণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না, তবে এ বছর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। প্রায় ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে উৎপাদন অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ কম উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টি কমে এলে আবার তাপপ্রবাহ ফিরে আসতে পারে।

অন্যদিকে লবণ চাষীদের আবারও নতুন করে স্বপ্ন বুনেন , প্রতিটি ব্যর্থ মৌসুমের পরেও তারা নতুন করে মাঠে নামেন, পলিথিন বিছান, পানি শুকানোর অপেক্ষায় থাকেন, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন আগামী দিনটা নিশ্চয়ই ভালো হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার

কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

তীব্র রোদের দিনগুলোই ছিল কক্সবাজারের লবণ চাষিদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। সূর্যের তাপকে তারা শত্রু নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতেন কারণ সেই রোদের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল তাদের স্বপ্ন, সংসার আর জীবনের হিসাব-নিকাশ। কিন্তু হঠাৎই বদলে গেল সবকিছু। বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টিপাত যেন এই শিল্পের ওপর নেমে এসেছে এক নীরব ধ্বংসযজ্ঞ ।

কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণের মাঠ যেখানে প্রতিদিন সাদা সোনার ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ত, সেখানে এখন জমে আছে বৃষ্টির পানি। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে হাজারো পরিবারের জীবনের ভিত।

সরজমিন খুরুশকুলের চৌফলদণ্ডী, নাপিতখালী আর ইসলামপুরের লবণ মাঠে গেলে দেখা যায় এক বুক ভারী করা দৃশ্য। বিশাল মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কালো পলিথিন, কোথাও জমে থাকা পানি, আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শ্রমিক ,যাদের চোখে ক্লান্তি নয়, যেন নিঃশব্দ কান্না জমে আছে। সরোয়ার , আব্দুল হালিম , আবুল হোসেন সহ ৩ জন লবণ চাষি বলেন যে লবণ আমরা কষ্ট করে তুলেছিলাম, সব বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কথাগুলো শেষ হয়, কিন্তু তাদের চোখের ভাষা বলে দেয় আরও অনেক কিছু।

এদিকে কক্সবাজারের লবণ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, আকস্মিক বৃষ্টিতে সাধারণত লবণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না, তবে এ বছর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। প্রায় ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে উৎপাদন অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ কম উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টি কমে এলে আবার তাপপ্রবাহ ফিরে আসতে পারে।

অন্যদিকে লবণ চাষীদের আবারও নতুন করে স্বপ্ন বুনেন , প্রতিটি ব্যর্থ মৌসুমের পরেও তারা নতুন করে মাঠে নামেন, পলিথিন বিছান, পানি শুকানোর অপেক্ষায় থাকেন, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন আগামী দিনটা নিশ্চয়ই ভালো হবে।