লিবিয়াকেন্দ্রিক মানবপাচার, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়ার দুই সহোদর মোহাম্মদ মুজিব ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে মহিউদ্দিনকে একটি মানবপাচার ও অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত দুই ভাই পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বখশিয়াঘোনা এলাকার নুর আহমদের ছেলে। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন সম্প্রতি লিবিয়া থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী পেকুয়া পৌরসভার সিকদার পাড়ার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া সোলতানা কল্পনা। তার ছেলে নাবিরুল ইসলাম ফাহিমকে লিবিয়ায় মানবপাচারের পর একটি চক্র জিম্মি করে রাখে এবং মুক্তির বিনিময়ে দফায় দফায় টাকা আদায় করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজিয়া সোলতানার দাবি, তার ছেলেকে প্রায় দুই বছর জিম্মি করে রেখে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। পরে সরকারি সহযোগিতায় ফাহিমকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে মহিউদ্দিন ও মুজিবসহ আরো কয়েকজনের নাম উঠে আসে বলে তিনি জানান।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মহিউদ্দিনকে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পেকুয়া থানা পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে লিবিয়ায় অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি মহিউদ্দিন ও তার ভাই মুজিবের বিরুদ্ধে আরও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন।
পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব বাইম্যাখালী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে শওকত হোসেন এবং গোঁয়াখালী মাতবরপাড়ার কাজী কলিম উল্লাহর ছেলে টুটুলের অভিযোগ, লিবিয়া থেকে দেশে ফেরার সময় মহিউদ্দিন তারাসহ নজির আহমদ, শরীফ, আবদু রহমান ও আবদুল মালেক থেকে কৌশলে প্রায় ৯ লাখ টাকা নিয়ে দেশে চলে আসেন।
লিবিয়া থেকে মোবাইল ফোনে শওকত ও টুটুল বলেন, মহিউদ্দিন ও মুজিবের সঙ্গে একটি মানবপাচারকারী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, বিদেশে নেওয়ার পর বিভিন্নভাবে লোকজনকে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাইয়ের মধ্যে মুজিব বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বাংলাদেশিদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলেমঅভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন লিবিয়ায় অবস্থানের পর সম্প্রতি দেশে ফিরলে পেকুয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়া ছাড়াও মাদারীপুরে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
রাজিয়া সোলতানা বলেন, “আমার ছেলেকে লিবিয়া থেকে অপহরণ করে প্রায় দুই বছর জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। দফায় দফায় আমাদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে সরকারি সহযোগিতায় ছেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর আমরা মামলা করি। সেই মামলায় মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং চার দিনের রিমান্ডও শেষ হয়েছে।”
ছেলেকে যারা জিম্মি করে অর্থ আদায় করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চান তিনি।
পেকুয়া প্রতিনিধি 






















