ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদগাঁওয়ের ফিরুজ-মিফতাসহ নিহত ৩ লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার: চুক্তি শেষ, সেবা বন্ধ; দুর্ঘটনাহতদের ‘শেষ আশ্রয়’ এখন অচল ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা মেসির দুর্দান্ত গোল! কিন্তু… অবশেষে র‍্যাবের জালে রাসেল হত্যা মামলার আসামি শাহজাহান উখিয়া-টেকনাফের উপর থেকে মাদকের অপবাদ ঘুচানোর দাবী এমপি শাহজাহান চৌধুরীর কক্সবাজার প্রেসক্লাবে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়া প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের চুনতির সীরত মাহফিলের সমাপনী দিন: মোনাজাতের অপেক্ষায় লাখো মানুষ চোরাই এসির তারসহ ভাঙ্গারি দোকানদার গ্রেপ্তার জেলার ৭১ ইউনিয়নের মধ্যে ৬২ টিতে ইউপি নির্বাচন হবে : তফসিল সেপ্টেম্বরেই অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম তৈরীর দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা; ধ্বংস করা হল তৈরি পণ্য প্রতিদিন ১ ঘন্টা পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দেয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর: কক্সবাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন পালংখালীতে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আলোচনায় রিজভী পেকুয়ায় চাচা-ভাতিজাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আটক

ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 213

সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইয়াবার চালান শহর কিংবা দেশের অন্য এলাকায় পৌঁছানোর আগেই আটকে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পরিকল্পনা করছে পুলিশ। কক্সবাজার ও বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।

প্রস্তাবিত এসব চেকপোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে সিসিটিভি, গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার এবং মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড। পুরো ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৩২১ জন পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গত ২৭ জুলাই প্রস্তাবটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিচিত ও সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারি এবং তাদের সহযোগীদের ছবি এআই ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে। তারা তল্লাশিচৌকির আওতায় এলে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে গাড়ি কিংবা লাগেজে লুকিয়ে রাখা মাদক ধরতে ব্যবহার করা হবে স্ক্যানার। প্রয়োজন হলে কাজে লাগানো হবে ডগ স্কোয়াড। সীমান্তের পাশাপাশি নজর থাকবে শহরে ঢোকার পথেও

পুলিশের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী, সমুদ্রপথ এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িকে ইয়াবা প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, শুধু সীমান্তে নজরদারি যথেষ্ট নয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর পাচারকারীরা পাহাড়ি ও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে মাদক বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। তাই এসব পথ মূল সড়কের সঙ্গে যেখানে মিলেছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে রাংকুট বৌদ্ধবিহার, পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু ও রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার সড়ক, চকরিয়ার হারবাং সড়ক, নাইক্ষ্যংছড়ির বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড়, বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড় এবং গর্জনিয়ার ডাকবাংলো মোড়।

১১টি প্রস্তাবিত তল্লাশিচৌকির মধ্যে কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের এই পয়েন্ট দিয়ে কক্সবাজার শহর ও পর্যটন এলাকায় মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বড় নজরদারিবলয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এখানে তিন পালায় দায়িত্ব পালনের জন্য ৪২ পুলিশ সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ডগ স্কোয়াড, একটি লাগেজ স্ক্যানার, একটি ভেহিক্যাল স্ক্যানার, তিনটি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা ও ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১১টি চেকপোস্টে ৩১টি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সঙ্গে থাকবে ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিন ও আটটি লাগেজ স্ক্যানার।

ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানারের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা—মোট ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আটটি লাগেজ স্ক্যানারের প্রতিটির দাম ৪৫ লাখ টাকা হিসেবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এআইভিত্তিক ফেস ডিটেকশন সফটওয়্যারের জন্য ৫ লাখ এবং ২৩টি ৬৫ ইঞ্চি টেলিভিশনের জন্য ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের পরও ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে।

পুলিশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সীমান্ত অতিক্রম করার পর ইয়াবার চালান যেন বিকল্প বা পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে কক্সবাজার শহরসহ দেশের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো প্রস্তাবটি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইয়াবার চালান শহর কিংবা দেশের অন্য এলাকায় পৌঁছানোর আগেই আটকে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পরিকল্পনা করছে পুলিশ। কক্সবাজার ও বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।

প্রস্তাবিত এসব চেকপোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে সিসিটিভি, গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার এবং মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড। পুরো ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৩২১ জন পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গত ২৭ জুলাই প্রস্তাবটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিচিত ও সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারি এবং তাদের সহযোগীদের ছবি এআই ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে। তারা তল্লাশিচৌকির আওতায় এলে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে গাড়ি কিংবা লাগেজে লুকিয়ে রাখা মাদক ধরতে ব্যবহার করা হবে স্ক্যানার। প্রয়োজন হলে কাজে লাগানো হবে ডগ স্কোয়াড। সীমান্তের পাশাপাশি নজর থাকবে শহরে ঢোকার পথেও

পুলিশের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী, সমুদ্রপথ এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িকে ইয়াবা প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, শুধু সীমান্তে নজরদারি যথেষ্ট নয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর পাচারকারীরা পাহাড়ি ও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে মাদক বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। তাই এসব পথ মূল সড়কের সঙ্গে যেখানে মিলেছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে রাংকুট বৌদ্ধবিহার, পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু ও রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার সড়ক, চকরিয়ার হারবাং সড়ক, নাইক্ষ্যংছড়ির বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড়, বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড় এবং গর্জনিয়ার ডাকবাংলো মোড়।

১১টি প্রস্তাবিত তল্লাশিচৌকির মধ্যে কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের এই পয়েন্ট দিয়ে কক্সবাজার শহর ও পর্যটন এলাকায় মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বড় নজরদারিবলয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এখানে তিন পালায় দায়িত্ব পালনের জন্য ৪২ পুলিশ সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ডগ স্কোয়াড, একটি লাগেজ স্ক্যানার, একটি ভেহিক্যাল স্ক্যানার, তিনটি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা ও ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১১টি চেকপোস্টে ৩১টি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সঙ্গে থাকবে ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিন ও আটটি লাগেজ স্ক্যানার।

ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানারের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা—মোট ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আটটি লাগেজ স্ক্যানারের প্রতিটির দাম ৪৫ লাখ টাকা হিসেবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এআইভিত্তিক ফেস ডিটেকশন সফটওয়্যারের জন্য ৫ লাখ এবং ২৩টি ৬৫ ইঞ্চি টেলিভিশনের জন্য ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের পরও ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে।

পুলিশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সীমান্ত অতিক্রম করার পর ইয়াবার চালান যেন বিকল্প বা পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে কক্সবাজার শহরসহ দেশের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো প্রস্তাবটি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো