ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা

হরমুজ প্রণালি থেকে যেভাবে বের হয়ে এলো বাংলার জয়যাত্রা

ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে আটকে থাকার পর অবশেষে ৩১ জন নাবিক নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। বাংলাদেশের সময় রোববার ভোর রাত তিনটার কিছু পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বা বিএসসি’র জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিলেও শিগগিরই দেশে ফিরছে না বলেও জানিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে জাহাজের তলদেশে শ্যাওলা জমা পড়েছে। এছাড়াও ফুজাইরাহ থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারেনি। বরং, এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

জাহাজটিতে নাবিক-ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তেও দেখছেন তারা।

অনেকটা বন্দিদশা থেকে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার অবসান হিসেবে দেখছেন জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা।

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমাদের বন্দিদশা শেষ হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই একটি মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা”।

এদিকে, বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঘটনাকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সূত্র: BBC বাংলা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত

হরমুজ প্রণালি থেকে যেভাবে বের হয়ে এলো বাংলার জয়যাত্রা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে আটকে থাকার পর অবশেষে ৩১ জন নাবিক নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। বাংলাদেশের সময় রোববার ভোর রাত তিনটার কিছু পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বা বিএসসি’র জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিলেও শিগগিরই দেশে ফিরছে না বলেও জানিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে জাহাজের তলদেশে শ্যাওলা জমা পড়েছে। এছাড়াও ফুজাইরাহ থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারেনি। বরং, এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

জাহাজটিতে নাবিক-ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তেও দেখছেন তারা।

অনেকটা বন্দিদশা থেকে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার অবসান হিসেবে দেখছেন জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা।

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমাদের বন্দিদশা শেষ হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই একটি মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা”।

এদিকে, বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঘটনাকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সূত্র: BBC বাংলা