কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসে কর্মীদের অংশগ্রহণে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ব্লাড গ্রুপিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে হোটেলের ক্যাপ্টেন কক্স বলরুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করে হোটেলের মানবসম্পদ বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে ২৫০ শয্যা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে হোটেলের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, “মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মহৎ কাজ, যা মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা করতে পারে। একজন সুস্থ মানুষ প্রতি চার মাস অন্তর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। রক্তদানে রক্ত কমে না, বরং পরিশুদ্ধ হয়।”
তিনি আরও বলেন, পর্যটন সেবার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ওশান প্যারাডাইসের কর্মীরা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকরা জানায়, দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে হোটেলের শতাধিক কর্মীর ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। এসময় ১২ জনের রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া অন্যান্য কর্মীদের তালিকা হাসপাতালের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্ত সংগ্রহ করা যায়।
২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের সমন্বয়ক আবু তাহের টিপু জানান, কক্সবাজার জেলায় বছরে প্রায় ৪০ হাজার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে সদর হাসপাতালেই লাগে প্রায় ২৫ হাজার ব্যাগ। তিনি বলেন, “ডোনারদের সহযোগিতায় এসব রক্ত সংগ্রহ করা হয়। তারকা হোটেলগুলোর কর্মীরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদানে এগিয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারে প্রায় ৬০০ থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে। সময়মতো রক্ত না পেলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। ওশান প্যারাডাইস থেকে সংগৃহীত রক্ত থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে।
রক্তদানকারী হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী এমদাদুল ও এফঅ্যান্ডবির কর্মী দিদারুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের সেবার পাশাপাশি অন্যের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
হোটেলের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “ওশান প্যারাডাইস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে। কর্মীদের নিয়মিত রক্তগ্রুপিং এবং নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিবছর এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।”
তিনি আরও জানান, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে কর্মীদের মধ্য থেকে দু’জনকে ওমরাহ হজ ও একজনকে কোরবানির হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
কর্মসূচিতে অর্থ বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলমগীর, রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপক আরাফাত, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিক সায়ীদ আলমগীর, নিরাপত্তা ইনচার্জ সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামসহ হোটেলের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 





















