সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও ব্র্যাক-এর উদ্যোগে সেন্টমার্টিন দ্বীপে “ভূতুড়ে জাল (পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল) এবং ভাসমান প্লাস্টিক সংগ্রহ কর্মসূচি” আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল লতিফ জনী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক-এর গ্রীন ইনিশিয়েটিভস স্পেশালিস্ট আনোয়ার ইকবাল (ঢাকা), সিটি কো-অর্ডিনেটর মোস্তাক আহমেদ (কক্সবাজার) এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মংওয়ানলাইন (সেন্টমার্টিন)। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সেন্টমার্টিন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম আরমান ও যুবদলের আহ্বায়ক আলী হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী কার্যক্রমে ৫০ জন জেলে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ কেজি ভূতুড়ে জাল সংগ্রহ করা হয়।
বক্তারা বলেন, সমুদ্রে পরিত্যক্ত ভূতুড়ে জাল ও ভাসমান প্লাস্টিক সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব জালে কাছিমসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই জেলে সম্প্রদায়কে এ ধরনের ক্ষতিকর জাল সংগ্রহে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
জানা যায়, এই কর্মসূচি “সেন্ট মার্টিন দ্বীপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ” প্রকল্পের অংশ, যা পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড-এর অর্থায়নে ব্র্যাক বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ধীরে ধীরে একটি টেকসই ‘জিরো ওয়েস্ট আইল্যান্ড’-এ রূপান্তর করা।
উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও বর্তমানে এটি জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকটে রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ২-৩ টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় জনগণ ও স্টেকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ, পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মেরিন ক্লিনআপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া মেরিন ক্লিনআপ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে জেলে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একটি ‘বাই-ব্যাক স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় জেলেরা সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা পরিত্যক্ত জাল ও প্লাস্টিক নির্দিষ্ট কেন্দ্রে জমা দিয়ে প্রণোদনা পাবেন। এতে একদিকে সমুদ্র দূষণ কমবে, অন্যদিকে জেলেদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সংগৃহীত জালের বিনিময়ে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়, যা তাদের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে আরও উৎসাহিত করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আব্দুর রশিদ মানিক 


















