ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ কক্সবাজারে একদিনে চার মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ গুপ্ত লিখে ফেইসবুক পোস্ট,উখিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

  • ইমরান হোসাইন
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 144

রামু উপজেলার ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলী (৪১) অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে অপহরণের শিকার হওয়ার পর একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফিরে আসেন। তবে তাঁর মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।স্বজনদের দাবি, ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। আর পুলিশের বক্তব্য, অভিযান চালিয়েই তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও থেকে নিজ বাড়ি ঈদগড়ে যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রুস্তম আলীর পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে পাহাড়ি গভীর বনে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একইসঙ্গে, টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী দাবি করেন, দিনভর দেনদরবারের পর অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা থেকে নেমে ৮ লাখ টাকায় রাজি হয়। তার ভাষ্য, “রাতে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের স্বপ্নতরী এলাকার পাহাড়ি বনের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে আমি নিজেই ৮ লাখ টাকা নগদ দিই। এরপর তারা আমার ভাতিজাকে ছেড়ে দেয়।”

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কাশেমও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুক্তিপণের টাকা বুঝে নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয়। পরে তিনি ঈদগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তাঁকে উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময়ের অভিযানের একপর্যায়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “মুক্তিপণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম জানান, পাহাড়ি এলাকায় টানা অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রুস্তম আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি চেষ্টা, চুরি, মারামারি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ, নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপহরণচক্র নির্মূলে সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়াছ উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত। তার ভাষ্য, “দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।”

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কণ্ঠে হতাশা। তার ভাষ্য, “এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রামু উপজেলার ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলী (৪১) অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে অপহরণের শিকার হওয়ার পর একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফিরে আসেন। তবে তাঁর মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।স্বজনদের দাবি, ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। আর পুলিশের বক্তব্য, অভিযান চালিয়েই তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও থেকে নিজ বাড়ি ঈদগড়ে যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রুস্তম আলীর পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে পাহাড়ি গভীর বনে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একইসঙ্গে, টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী দাবি করেন, দিনভর দেনদরবারের পর অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা থেকে নেমে ৮ লাখ টাকায় রাজি হয়। তার ভাষ্য, “রাতে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের স্বপ্নতরী এলাকার পাহাড়ি বনের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে আমি নিজেই ৮ লাখ টাকা নগদ দিই। এরপর তারা আমার ভাতিজাকে ছেড়ে দেয়।”

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কাশেমও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুক্তিপণের টাকা বুঝে নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয়। পরে তিনি ঈদগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তাঁকে উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময়ের অভিযানের একপর্যায়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “মুক্তিপণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম জানান, পাহাড়ি এলাকায় টানা অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রুস্তম আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি চেষ্টা, চুরি, মারামারি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ, নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপহরণচক্র নির্মূলে সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়াছ উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত। তার ভাষ্য, “দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।”

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কণ্ঠে হতাশা। তার ভাষ্য, “এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।”