ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫ ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, ভাসমান ১৩ জেলে উদ্ধার কক্সবাজারে ৪৬ মামলার প্রায় ৯৯ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০ রাখাইনে আবারও সংঘাতের আগুন উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম

রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি

  • আহসানুল হক:
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • 926

কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুলে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শাহরিয়াতের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, তানিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের বড় বোন জানান, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ইমুতে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন তানিয়া। সেখানে তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন: “আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও! না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”

এই ভিডিও বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়ার মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া ও শাহরিয়াতের বিয়ে হয়েছিল প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে। শুরুতে পরিবার রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে তানিয়ার সুখের কথা চিন্তা করে মেনে নেয়। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে শাহরিয়াত পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি তানিয়ার স্বজনদের ।

তারা বলেন, স্বামী শাহরিয়াতের পরকীয়া জেনে ফেলায় তানিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

ঘটনার দিনও এই বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তানিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মারধরের চিহ্ন লুকাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
দেওয়া হয়।

নিহত তানিয়ার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অবুঝ এই শিশুটিকে এতিম করার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তানিয়ার স্বজনেরা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘাতক স্বামী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী শাহরিয়াত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি

আপডেট সময় : ১১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুলে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শাহরিয়াতের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, তানিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের বড় বোন জানান, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ইমুতে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন তানিয়া। সেখানে তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন: “আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও! না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”

এই ভিডিও বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়ার মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া ও শাহরিয়াতের বিয়ে হয়েছিল প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে। শুরুতে পরিবার রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে তানিয়ার সুখের কথা চিন্তা করে মেনে নেয়। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে শাহরিয়াত পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি তানিয়ার স্বজনদের ।

তারা বলেন, স্বামী শাহরিয়াতের পরকীয়া জেনে ফেলায় তানিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

ঘটনার দিনও এই বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তানিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মারধরের চিহ্ন লুকাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
দেওয়া হয়।

নিহত তানিয়ার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অবুঝ এই শিশুটিকে এতিম করার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তানিয়ার স্বজনেরা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘাতক স্বামী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী শাহরিয়াত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।