কক্সবাজারের চারটি উপজেলায় একদিনে পৃথক ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গৃহবধূ ও পুরোহিতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু এবং রহস্যজনকভাবে নিহত এক যুবকের লাশ উদ্ধার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রামুতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ :
রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নে তানিয়া আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তানিয়া ওই ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া এলাকার গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের ছেলে শাহরিয়াতের স্ত্রী। তাঁদের সংসারে এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যার দিকে সবার অজান্তে ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দেন তানিয়া। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও দাম্পত্য জীবনে কলহ ছিল। তবে কী কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মহেশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশুর :
একই দিন দুপুরে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাইরার ডেইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রাইয়ান (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাশের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর শুনে অন্যদের সঙ্গে দৌড়ে বের হয় রাইয়ান। বাড়ির সামনে সড়ক পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির একটি টমটম তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রাইয়ান ওই এলাকার রেদোয়ান ও সানজিদা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ঘাতক টমটমটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
খুরুশকুলে নিখোঁজ পুরোহিতের ঝুলন্ত লাশ :
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে নিখোঁজের তিন দিন পর নয়ন দাশ (৩৫) নামের এক পুরোহিতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। নয়ন দাশ খুরুশকুলের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার পুলিশশার ঘোনা নাগ পঞ্চমী মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারী এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৯ এপ্রিল রাতে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বুধবার দুপুরে পাহাড়ি এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় চাদর পেঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, “ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
চকরিয়ায় বেড়িবাঁধে যুবকের মরদেহ :
চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ান এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ থেকে সাকিব (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সকালে স্থানীয় লোকজন তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সাকিব দক্ষিণ হাজিয়ান আলীপাড়া এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে। এলাকাবাসীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রেখে গেছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
বাড়ছে উদ্বেগ :
একদিনে চারটি পৃথক ঘটনায় চারজনের মৃত্যু। যার মধ্যে একাধিক ঝুলন্ত মরদেহ ও রহস্যজনক লাশ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে খুরুশকুল ও চকরিয়ার ঘটনায় হত্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
ইমরান হোসাইন 


















