ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পটিয়ায় রেললাইনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পর সাগরে আবারও নতুন লঘুচাপ, ভারি বৃষ্টির আভাস মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক

জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-ই হলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনা সমর্থিত পার্লামেন্টে হওয়া ভোটে সহজে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন মিন অং হ্লাইং।

এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের করে নিলেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সু চিকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।

জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের এই উত্থান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হওয়া এক বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা সরকারগুলো একে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি ‘অপচেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।

সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে ভোট গণনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তাতে মিন অং হ্লাইংকে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে দেখা যায়।

‘স্বপ্ন এখন সত্যি’

২০১১ সাল থেকে যে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, তার শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েই কাঙ্ক্ষিত প্রেসিডেন্ট পদ নিজের করে নিলেন মিন অং হ্লাইং।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলেন।

তারা এই ক্ষমতার পরিবর্তনকে মিন অং হ্লাইংয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তিনি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি গত ছয় দশকের অধিকাংশ সময় দেশ শাসন করা সামরিক বাহিনীর স্বার্থও রক্ষা করছেন।

মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, “তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেনাপ্রধানের পদটি প্রেসিডেন্টের পদের সঙ্গে বিনিময় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছিলেন এবং তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।”

চলমান গৃহযুদ্ধ ও বিরোধীদের অবস্থান

হ্লাইং প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসলেও গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার এখনো লণ্ডভণ্ড। সু চির দলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে এই সপ্তাহেই জান্তার বিরুদ্ধে একটি নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য ইমার্জেন্স অব আ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো সামরিক স্বৈরশাসনসহ সব ধরনের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ভূখণ্ড গড়ে তোলা।”

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্লাইংয়ের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সক্রিয় হবে, তখন প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরও তীব্র সামরিক চাপ ও নজরদারির মুখে পড়বে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বিরোধীদের নিজেদের ঐক্য ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিশ্লেষক সাই কি জিন সোয়ে।

সংকট যত বাড়বে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বজায় রাখাও ততটাই চ্যালেঞ্জিং হবে, মত তার।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পটিয়ায় রেললাইনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-ই হলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় : ০৪:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনা সমর্থিত পার্লামেন্টে হওয়া ভোটে সহজে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন মিন অং হ্লাইং।

এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের করে নিলেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সু চিকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।

জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের এই উত্থান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হওয়া এক বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা সরকারগুলো একে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি ‘অপচেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।

সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে ভোট গণনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তাতে মিন অং হ্লাইংকে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে দেখা যায়।

‘স্বপ্ন এখন সত্যি’

২০১১ সাল থেকে যে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, তার শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েই কাঙ্ক্ষিত প্রেসিডেন্ট পদ নিজের করে নিলেন মিন অং হ্লাইং।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলেন।

তারা এই ক্ষমতার পরিবর্তনকে মিন অং হ্লাইংয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তিনি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি গত ছয় দশকের অধিকাংশ সময় দেশ শাসন করা সামরিক বাহিনীর স্বার্থও রক্ষা করছেন।

মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, “তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেনাপ্রধানের পদটি প্রেসিডেন্টের পদের সঙ্গে বিনিময় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছিলেন এবং তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।”

চলমান গৃহযুদ্ধ ও বিরোধীদের অবস্থান

হ্লাইং প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসলেও গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার এখনো লণ্ডভণ্ড। সু চির দলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে এই সপ্তাহেই জান্তার বিরুদ্ধে একটি নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য ইমার্জেন্স অব আ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো সামরিক স্বৈরশাসনসহ সব ধরনের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ভূখণ্ড গড়ে তোলা।”

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্লাইংয়ের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সক্রিয় হবে, তখন প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরও তীব্র সামরিক চাপ ও নজরদারির মুখে পড়বে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বিরোধীদের নিজেদের ঐক্য ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিশ্লেষক সাই কি জিন সোয়ে।

সংকট যত বাড়বে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বজায় রাখাও ততটাই চ্যালেঞ্জিং হবে, মত তার।

সূত্র: বিডিনিউজ