ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ খালেদা জিয়াসহ যারা পাচ্ছেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবাসীর স্ত্রীর মামলা, উখিয়ার জামায়াত নেতা কারাগারে নাফ নদীর তীরে মিলল বিপুল পরিমাণের অস্ত্র-গোলাবারুদ আদালতের আদেশে স্ব-পদে ফিরলেন জালিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান ইরানি জাহাজে হামলার কঠিন অনুশোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র: আরাঘচি কক্সবাজারে ৫০ হাজার ইয়াবা ও নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ৩ তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার : বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা কলাতলী গ্যাসপাম্প অগ্নিকাণ্ড: চমেকে দগ্ধ মোতাহেরের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩ জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার,ট্রলি সরবরাহ এবং দালালের দৌরাত্ম বন্ধের নির্দেশ রমজান মাসের অমূল্য রত্ন রোজাদারের দোয়া মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে? ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ঘরে ফিরলেন অভিনেতা
সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ

সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।