ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি রামুতে প্রিতম শর্মা নামের কিশোরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, আদালতে জামিন ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে পেকুয়ায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মাদকের থেকেও ভয়াবহ: মানব পাচারের অন্ধকার বাস্তবতা চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও শিশুসহ নিহত ২, আহত ২০ ১৩ বছর নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুল খালেক সর্দার, সন্ধান চায় পরিবার বিশ্ব মহাসাগর দিবসে ইনানী সৈকতে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচ্ছন্নতা অভিযান বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আছেন মেসি পাহাড়তলীতে দুই খুনের পর পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন জিয়া, অবশেষে ধরা ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে ‘গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ ২০২৬’ যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত টেকনাফে অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে টমটম ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা
সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি

সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।