ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাস ভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১১ পয়সা, কোন ভাড়া কত হলো বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শামীম আরা বেগম স্বপ্নাসহ বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র বৈধ টেকনাফে দুই সাজাপ্রাপ্ত পলাতক গ্রেপ্তার ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ কক্সবাজারে একদিনে চার মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ গুপ্ত লিখে ফেইসবুক পোস্ট,উখিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রার্থীতা ফিরে পাচ্ছেন হামিদুর রহমান আযাদ!

মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিল করা হয়েছে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন পত্র।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার পরই রাতে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির এই কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।’

আযাদ আইনি ব্যাখা তুলে ধরে বলেন , ‘যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই নেতার দাবী, ‘ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানিয়েছেন , ‘তিনি উল্লেখিত মামলায় তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন। এটি আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যার জন্য আমরা আপিলে যাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

আইন ও আযাদের আইনজীবীর তথ্য মোতাবেক তিনি ইতিমধ্যেই সাজাভোগ করেছেন এবং তার ভোগ করা সাজা দুই বছরেরও কম।

২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সাজাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

যেহেতু, উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন আছে সেক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অনুসরণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আপিলে লিপিবদ্ধ করলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর্যাপ্ত সম্ভাবনা আছে।

তবে বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের উপর এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ তারিখ আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১১ পয়সা, কোন ভাড়া কত হলো

প্রার্থীতা ফিরে পাচ্ছেন হামিদুর রহমান আযাদ!

আপডেট সময় : ১০:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিল করা হয়েছে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন পত্র।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার পরই রাতে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির এই কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।’

আযাদ আইনি ব্যাখা তুলে ধরে বলেন , ‘যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই নেতার দাবী, ‘ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানিয়েছেন , ‘তিনি উল্লেখিত মামলায় তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন। এটি আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যার জন্য আমরা আপিলে যাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

আইন ও আযাদের আইনজীবীর তথ্য মোতাবেক তিনি ইতিমধ্যেই সাজাভোগ করেছেন এবং তার ভোগ করা সাজা দুই বছরেরও কম।

২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সাজাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

যেহেতু, উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন আছে সেক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অনুসরণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আপিলে লিপিবদ্ধ করলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর্যাপ্ত সম্ভাবনা আছে।

তবে বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের উপর এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ তারিখ আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত।