ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের জার্সির পেছনে ১৮৯৩ লেখা কেন আকাশপথে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ আটক হলো এক নারী বাংলাদেশের কাছেও ৭ গোল খেয়েছিল ব্রাজিল! তিউনিসিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করলো জাপান প্রথম বিদেশ সফরে আজ মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বাবা দিবস আজ শাহনেওয়াজ চৌধুরী পুনরায় ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত নাসিরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন তাসনিমুর রহমান হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করলো ইরান “জনগণ কে সাথে নিয়ে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে” কক্সবাজারে এইচআইভি আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা, বাড়ছে উদ্বেগ “মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের সমুদ্র বিষয়ক জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচী ও শিক্ষামূলক সফর রশিতে ঝুলছিলো গৃহবধুর মরদেহ, পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা ​‘ঘরে বসে খেলা বিশ্বের প্রথম ফুটবলার নেইমার’, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে অর্ধশত দোকানপাট উচ্ছেদ

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে তোলা অর্ধশতাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেয় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা। উচ্ছেদ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয় একটি এক্সকাভেটরও।

এর আগে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে নতুন স্থাপনা ১১ অক্টোবর রাতের মধ্যে এবং পুরোনো স্থাপনা ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সৈকতের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) আপেল মাহমুদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অন্তত ৫০টি দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুপুর ২টার মধ্যে মালিকদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা না করায় প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, “শনিবার রাতের মধ্যে স্থাপনা সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অমান্য করায় রবিবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, সোনারপাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতে শতাধিক দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে ওঠে। বিশেষ করে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের বদলির পরপরই সুগন্ধা সৈকতে দ্রুতগতিতে টংঘর ও দোকান বসানো হয়।

সরকার ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে ‘প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা’ (ECA) ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট আইনে জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালেও একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে অর্ধশত দোকানপাট উচ্ছেদ

আপডেট সময় : ০৪:১৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে তোলা অর্ধশতাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেয় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা। উচ্ছেদ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয় একটি এক্সকাভেটরও।

এর আগে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে নতুন স্থাপনা ১১ অক্টোবর রাতের মধ্যে এবং পুরোনো স্থাপনা ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সৈকতের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) আপেল মাহমুদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অন্তত ৫০টি দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুপুর ২টার মধ্যে মালিকদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা না করায় প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, “শনিবার রাতের মধ্যে স্থাপনা সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অমান্য করায় রবিবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, সোনারপাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতে শতাধিক দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে ওঠে। বিশেষ করে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের বদলির পরপরই সুগন্ধা সৈকতে দ্রুতগতিতে টংঘর ও দোকান বসানো হয়।

সরকার ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে ‘প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা’ (ECA) ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট আইনে জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালেও একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন।