ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ দিনে ৪ জনের মৃত্যু: চকরিয়ায় সড়কে ঝরল শিশুসহ ২ প্রাণ কুতুবদিয়ায় হাত ধোয়া প্রদর্শনী দুটি কিডনিই বিকল,পেশকার পাড়ার ফরহাদের পাশে দুবাই প্রবাসী আবছার চৌধুরী মায়া : বিত্তশালীদের কাছে সাহায্যের আবেদন ‎ উখিয়ায় মাদক মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম গ্রেফতার কক্সবাজারে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্কর গ্রেফতার টেকনাফে অস্ত্র-গুলিসহ রফিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার টেকনাফে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার ৪ সেন্টমার্টিনে রাতে থাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত লোহাগাড়ায় দুধ দিয়ে গোসল করে ফারুকের জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা অনলাইন জুয়ায় বাধা, স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ : বিচ্ছেদ চাওয়ায় হুমকি পেকুয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডালিমের মায়ের মৃত্যু : জানাজা বাদ এশা রামুতে স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ইনানীতে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আগুন জ্বলতে পারে আরও ৭ দিন ‘ইনজেকশন নিয়ে খেলেছি’, বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে রোমেরো

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৫ দিনে ৪ জনের মৃত্যু: চকরিয়ায় সড়কে ঝরল শিশুসহ ২ প্রাণ

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।