ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জিনিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন জেলা দলের গোলরক্ষক সাঈদী উপর হামলার প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ‍্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৪০ জন গ্রেপ্তার আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদগাঁওয়ের ফিরুজ-মিফতাসহ নিহত ৩ লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার: চুক্তি শেষ, সেবা বন্ধ; দুর্ঘটনাহতদের ‘শেষ আশ্রয়’ এখন অচল ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা মেসির দুর্দান্ত গোল! কিন্তু… অবশেষে র‍্যাবের জালে রাসেল হত্যা মামলার আসামি শাহজাহান উখিয়া-টেকনাফের উপর থেকে মাদকের অপবাদ ঘুচানোর দাবী এমপি শাহজাহান চৌধুরীর কক্সবাজার প্রেসক্লাবে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়া প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের চুনতির সীরত মাহফিলের সমাপনী দিন: মোনাজাতের অপেক্ষায় লাখো মানুষ চোরাই এসির তারসহ ভাঙ্গারি দোকানদার গ্রেপ্তার জেলার ৭১ ইউনিয়নের মধ্যে ৬২ টিতে ইউপি নির্বাচন হবে : তফসিল সেপ্টেম্বরেই

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জিনিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।