ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজাহান চৌধুরীর তাক লাগানো বিজয় ‘আল্লাহ হলেন সহায়’ ‘পরীক্ষিত সন্তান’ কাজলের বাজিমাত দুই দ্বীপে তৃতীয়বার ভিড়ল আলমগীর ফরিদের জয়ের তরী! ‘বিএনপি বিজয় উল্লাস করবে না, দায়িত্ব বেশি’ – ৪র্থ বার জয়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ কক্সবাজার-১ আসনে ঐতিহাসিক বিজয়: সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই বিএনপির জয় জয়কার.. ১৭ বছর পর সংসদে ফিরছেন লুৎফুর রহমান কাজল দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ : ইসি সচিব সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় জোট দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কঠোর সেনাবাহিনী, মোড়ে মোড়ে তল্লাশি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ফলাফল না মানার হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন শাহজাহান ও আনোয়ারী ভোট দিলেন সেনাপ্রধান

বাঁকখালীতে উচ্ছেদ অভিযান – প্রশাসনকে লক্ষ্য করে হা’ম’লায় পুলিশ সদস্য আহত

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসনকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কস্তরাঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীর মোহনায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এই ঘটনা ঘটে। এতে মো. করিম নামে এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তিনি পুলিশ লাইনস কক্সবাজারে কর্মরত রয়েছেন।

সকালে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে পরিচালিত উচ্ছেদ কার্যক্রম অভিযান শুরুর সময় তারা স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়ে। এসময় ‘বদরমোকামস্থ উকিলপাড়া সমাজের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ ব্যানারে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক নারী বাসিন্দা বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাদের ক্রয়কৃত জমি নদী উদ্ধারের নামে জবর দখল করা হচ্ছে। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ-র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় চারজনকে আটক করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাঁকখালী উচ্ছেদ অভিযানে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

তবে এই পরিস্থিতি কিছুক্ষণের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় আবার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। দুপুর ১২টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান পুনরায় শুরু হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আতিকউল্লাহ প্রকাশ সিআইপি আতিকের দখলকৃত জায়গায় স্থাপনা উচ্ছেদ চলছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, গত ২৪ আগস্ট বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এক সপ্তাহ পর গত ৩০ আগস্ট নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন কক্সবাজার সফরে আসেন এবং তিনি এক সমন্বয় সভায় হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী বাঁকখালী নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর নির্ধারিত করা হবে নদীর সীমানা।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ২০১০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাঁকখালী নদী তীরের ৭২১ একর জমিকে নদীবন্দর ঘোষণা করে সরকার এবং জেলা প্রশাসনকে এই জমি বিআইডব্লিউটিএকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এসব জায়গার মধ্যে কমপক্ষে ৩০০ একর জায়গায় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে যা এতদিন দখল অবমুক্ত করা যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. খায়রুজ্জামান বলেন, নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। অভিযানের প্রথম দিনে গতকাল ৫ একরের বেশি জায়গা থেকে কমপক্ষে দুই শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে এবং আনুমানিক

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

বাঁকখালীতে উচ্ছেদ অভিযান – প্রশাসনকে লক্ষ্য করে হা’ম’লায় পুলিশ সদস্য আহত

আপডেট সময় : ১২:৫৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসনকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কস্তরাঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীর মোহনায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এই ঘটনা ঘটে। এতে মো. করিম নামে এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তিনি পুলিশ লাইনস কক্সবাজারে কর্মরত রয়েছেন।

সকালে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে পরিচালিত উচ্ছেদ কার্যক্রম অভিযান শুরুর সময় তারা স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়ে। এসময় ‘বদরমোকামস্থ উকিলপাড়া সমাজের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ ব্যানারে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক নারী বাসিন্দা বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাদের ক্রয়কৃত জমি নদী উদ্ধারের নামে জবর দখল করা হচ্ছে। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ-র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় চারজনকে আটক করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাঁকখালী উচ্ছেদ অভিযানে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

তবে এই পরিস্থিতি কিছুক্ষণের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় আবার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। দুপুর ১২টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান পুনরায় শুরু হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আতিকউল্লাহ প্রকাশ সিআইপি আতিকের দখলকৃত জায়গায় স্থাপনা উচ্ছেদ চলছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, গত ২৪ আগস্ট বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এক সপ্তাহ পর গত ৩০ আগস্ট নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন কক্সবাজার সফরে আসেন এবং তিনি এক সমন্বয় সভায় হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী বাঁকখালী নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর নির্ধারিত করা হবে নদীর সীমানা।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ২০১০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাঁকখালী নদী তীরের ৭২১ একর জমিকে নদীবন্দর ঘোষণা করে সরকার এবং জেলা প্রশাসনকে এই জমি বিআইডব্লিউটিএকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এসব জায়গার মধ্যে কমপক্ষে ৩০০ একর জায়গায় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে যা এতদিন দখল অবমুক্ত করা যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. খায়রুজ্জামান বলেন, নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। অভিযানের প্রথম দিনে গতকাল ৫ একরের বেশি জায়গা থেকে কমপক্ষে দুই শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে এবং আনুমানিক