ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরতে পারেন নেইমার, ব্রাজিলের ‘নাম্বার টেন’ সংকটে নতুন আশা উখিয়ায় আড়াই বছরের শিশু ‘নো সাইফা’ নিখোঁজ, সন্ধানে পরিবারের আর্তনাদ আইওএমের গাড়ি চাপায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যুতে মামলা দায়ের, চালক কারাগারে অস্থায়ী ইজারায় সরকারি জমি দখল করলেন বিএনপি নেতা ফোরকান! বাংলাদেশ পাকিস্তানকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা: ভূরাজনীতির নতুন বার্তা? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের অনুকরণ পরীমণির তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন সরকারের তিন মন্ত্রী জনসংখ্যা বাংলাদেশের অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ : শিক্ষামন্ত্রী গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিলে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক হাফিজ গর্জনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র ওয়াসিম নাপিতেরচর স্কুলে দাতা সদস্য নির্বাচিত ‘আমাকে মিস করছেন?’ বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পুরোনো ছকে ফিরছে ব্রাজিল

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের জন্মদিন আজ

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন আজ শনিবার (২৮ জুন)। ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তার বাবা দুলা মিঞা সওদাগর ও মাতার নাম সুফিয়া খাতুন। স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ। এ ছাড়া ড. ইউনূস দুই মেয়ের বাবা।
২০০৬ সালে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল ড. ইউনূসের।

এ ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় তিনি ১৬তম হন। পরে চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন ড. ইউনূস।
১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ফুলব্রাইট স্কলারশিপ লাভ করেন।

১৯৭১ সালে ভান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে পরে আমেরিকার মার্সিসবোরোতে মিডিল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আমেরিকায় একটি নাগরিক কমিটি গঠন করেন এবং অন্যান্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সমর্থন সংগ্রহ করতে ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ পরিচালনা করেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের পর ড. ইউনূস মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। চালু করেন গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প।

১৯৭৬ সালে পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প চালু করেন। ১৯৮৩ সালে এই প্রকল্পটি ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামে এর কর্মকাণ্ড বিস্তৃত। বাংলাদেশের বাইরেও আমেরিকাসহ গ্রামীণ ব্যাংক পদ্ধতি বিশ্বের ৪০টি দেশে এ মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।
অর্জন ও সম্মাননা

ড. ইউনূস ২০০৬ সালে তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন, যা তাকে বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি এনে দেয়। এছাড়া তিনি বিশ্বখাদ্য পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম ও কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। পরে শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করলে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যেখানে তিনি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

নোবেলবিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারকের জন্মদিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের জন্মদিন আজ

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন আজ শনিবার (২৮ জুন)। ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তার বাবা দুলা মিঞা সওদাগর ও মাতার নাম সুফিয়া খাতুন। স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ। এ ছাড়া ড. ইউনূস দুই মেয়ের বাবা।
২০০৬ সালে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল ড. ইউনূসের।

এ ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় তিনি ১৬তম হন। পরে চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন ড. ইউনূস।
১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ফুলব্রাইট স্কলারশিপ লাভ করেন।

১৯৭১ সালে ভান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে পরে আমেরিকার মার্সিসবোরোতে মিডিল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আমেরিকায় একটি নাগরিক কমিটি গঠন করেন এবং অন্যান্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সমর্থন সংগ্রহ করতে ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ পরিচালনা করেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের পর ড. ইউনূস মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। চালু করেন গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প।

১৯৭৬ সালে পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প চালু করেন। ১৯৮৩ সালে এই প্রকল্পটি ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামে এর কর্মকাণ্ড বিস্তৃত। বাংলাদেশের বাইরেও আমেরিকাসহ গ্রামীণ ব্যাংক পদ্ধতি বিশ্বের ৪০টি দেশে এ মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।
অর্জন ও সম্মাননা

ড. ইউনূস ২০০৬ সালে তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন, যা তাকে বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি এনে দেয়। এছাড়া তিনি বিশ্বখাদ্য পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম ও কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। পরে শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করলে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যেখানে তিনি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

নোবেলবিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারকের জন্মদিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ