ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর ভদ্রপল্লিতে আর ভদ্রতা নেই কক্সবাজারে ৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু হচ্ছে শুক্রবার : যা যা থাকছে টেকনাফে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ, আটক ২ কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো আশ্রিত রোহিঙ্গারা পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি : টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন:

৩৯ জন নারী শিশু আটকে ছিলো পাহাড়ে!

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে যারা ধরা দিয়েছিল মানবপাচারকারীদের ফাঁদে। অবশেষে রাতের আঁধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এসময় পাচারচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

নৌবাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদে বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস কমান্ডো দল এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে গহীন অরণ্যে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। অন্ধকার পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন। সেনাদের দেখা পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী, ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, ৮ জন রোহিঙ্গা শিশু ও ২ জন বাঙালি পুরুষকে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারীরা প্রথমে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। কারো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নেয় তারা।

নৌবাহিনীর টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম বলেন, “মানবপাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য, মানবপাচার ও মাদকসহ যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর

বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন:

৩৯ জন নারী শিশু আটকে ছিলো পাহাড়ে!

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে যারা ধরা দিয়েছিল মানবপাচারকারীদের ফাঁদে। অবশেষে রাতের আঁধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এসময় পাচারচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

নৌবাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদে বাহারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম কচ্ছপিয়া পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস কমান্ডো দল এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে গহীন অরণ্যে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। অন্ধকার পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুরা আতঙ্কে লুকিয়ে ছিলেন। সেনাদের দেখা পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একে একে উদ্ধার করা হয় ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী, ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, ৮ জন রোহিঙ্গা শিশু ও ২ জন বাঙালি পুরুষকে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারীরা প্রথমে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। কারো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও হাতিয়ে নেয় তারা।

নৌবাহিনীর টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম বলেন, “মানবপাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য, মানবপাচার ও মাদকসহ যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা।”

উদ্ধার হওয়া সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।