ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারে এসএসসির চেয়ে দাখিল-ভোকেশনালে পাসের হার বেশি কক্সবাজারে ডাবল মার্ডারের আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব সমুদ্র শহরের ‘চন্দন ডাক্তার’কে হারানোর এক বছর, আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় প্রথম নাবিহা নওরিন কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।