ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তার বিপরীতে ক্ষোভ–বঞ্চনার প্রকাশ.. কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা কক্সবাজারে ৪ মাসব্যাপী বিআরটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু, অংশ নিচ্ছেন ১০০ জন জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয় টেকনাফে যুবক গুলিবিদ্ধ টেকনাফে কিশোর অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি কক্সবাজার চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হ্নীলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর/ অবশেষে জেটি ও টার্মিনালসহ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ আজ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সৈকত খেলাঘর আসর নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিললো গর্তে

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তার বিপরীতে ক্ষোভ–বঞ্চনার প্রকাশ..

কক্সবাজার সৈকতে ‘লোক সমুদ্র’

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

দুর্গোৎসব ও টানা ছুটিকে ঘিরে লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত দেখতে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) টানা চারদিনের ছুটির শেষ দিনেও সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকেরা।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আলাউল রণি বলেন, “সৈকতের ঢেউ মনে প্রশান্তি আনে। সুযোগ পেলেই চলে আসি কক্সবাজারে। এবারের আনন্দটা আলাদা, ফিরতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু জীবিকার টানে ফিরতেই হবে।”

স্থানীয়রাও কম যান না। রামুর বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের গর্ব এই কক্সবাজার সৈকত। যখন ইচ্ছে চলে আসি। এখানে জন্মেছি—এটাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।”

পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কলাতলী সৈকতসংলগ্ন এলাকায় আচার, ঝিনুক-শামুকের অলংকারসহ নানা পণ্যের দোকান চালান স্থানীয় ইসমাইল। তিনি বলেন, “গত কয়দিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দিন পর এমন ক্রেতা পেয়েছি।”

তবে অনেক পর্যটকের অভিযোগ, মৌসুমে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ঢাকার পর্যটক আলিম চৌধুরী বলেন, “একটি ঝিনুকের মালা ৩ হাজার টাকা চাইল! গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর এমন আচরণে পর্যটনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।”

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব কক্ষ অগ্রিম বুকড।
“কোথাও এখন রুম খালি নেই। আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি—অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের চাপ কয়েকদিন থাকবে,” বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা ও পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় দিন-রাত টহল দিচ্ছে পুলিশ।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।