ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিএনজির মিটার বক্সে ইয়াবা, চালক আটক কক্সবাজারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ টেকনাফে ওয়াই-ফাই লাইনের কাজের অজুহাতে জাল নোটের কারখানা পেকুয়াকে পৌরসভা রুপান্তর করায় আনন্দ মিছিল সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ৬ জন উদ্ধার, মায়ানমার মুদ্রাসহ নারী গ্রেফতার ঘুমধুম সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, আটক যুবক রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট জমা আজ, ছুটিতে বিশেষ কোর্টে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচার বাংলাদেশ দ্রুতই সবুজ-টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী শিশুর আচরণ দেখে বুঝে নিন শরীরে পুষ্টির অভাব আছে কি না কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১, বিদেশি পিস্তল সহ আটক ১ বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, নিহত ৫ রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন ৪১ জন পেলেন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক

টেকনাফে ওয়াই-ফাই লাইনের কাজের অজুহাতে জাল নোটের কারখানা

কক্সবাজারের টেকনাফে ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড লাইনের কাজ করার অজুহাতে ভাড়া নেওয়া একটি টিনশেড ঘরে গড়ে তোলা হয়েছিল জালনোট তৈরির কারখানা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজার ও পশুর হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অবশেষে ১২ লাখ টাকার জালনোটসহ দুইজনকে আটকের পর অভিযান চালিয়ে সেই গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হ্নীলা মোচনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজনকে আটক করে বিজিবি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ লাখ টাকার জালনোট।

আটকরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার আলাউদ্দিনের ছেলে ফেরিওয়ালা নাজমুল (৩০) এবং টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে টমটমচালক আজিজুর রহমান (৩৬)।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২-বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার জানান, জালনোট পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির তিনটি আভিযানিক দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মোচনী এলাকায় স্থাপন করা চেকপোস্টের সংকেত অমান্য করে একটি টমটম পালানোর চেষ্টা করলে মোটরসাইকেল টহল দল ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। পরে টমটমে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে ১২টি এক হাজার টাকার নোটের বান্ডেলসহ মোট ১২ লাখ টাকার জালনোট এবং ৫ হাজার টাকার আসল বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

তার দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাজমুল ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব জালনোট হ্নীলা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে জানান।

এরপর আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাদিমুড়া বাজারের পূর্বপাশে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় বিজিবি। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জালনোট কারবারিরা ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান, ছোট্ট সেই টিনশেড ঘরেই গড়ে তোলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ জালনোট তৈরির কারখানা। সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুইটি অত্যাধুনিক প্রিন্টার, জালনোট ছাপানোর কালি, বিশেষ কাগজ এবং আনুমানিক কোটি টাকার ছাপানো জালনোট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র তিন দিন আগে দুই যুবক নিজেদের ব্রডব্যান্ড ও ওয়াই-ফাই লাইনের কর্মী পরিচয় দিয়ে ঘরটি ভাড়া নেন। মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় নেওয়া সেই ঘরেই গোপনে চলছিল জালনোট তৈরির কাজ।

বাড়ির মালিক রশিদ আহমদের স্ত্রী নুর হাবিবা বলেছেন, “ওরা বলেছিল ইন্টারনেট লাইনের কাজ করবে। তাই ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতাম না।”

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, “রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পশুর হাট ও স্থানীয় বাজারকে টার্গেট করা হয়েছে।”

বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার অবগত করেন, “ঈদুল আজহায় গবাদিপশু কেনাবেচার সময় জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল হোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনজির মিটার বক্সে ইয়াবা, চালক আটক

টেকনাফে ওয়াই-ফাই লাইনের কাজের অজুহাতে জাল নোটের কারখানা

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড লাইনের কাজ করার অজুহাতে ভাড়া নেওয়া একটি টিনশেড ঘরে গড়ে তোলা হয়েছিল জালনোট তৈরির কারখানা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজার ও পশুর হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অবশেষে ১২ লাখ টাকার জালনোটসহ দুইজনকে আটকের পর অভিযান চালিয়ে সেই গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হ্নীলা মোচনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজনকে আটক করে বিজিবি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ লাখ টাকার জালনোট।

আটকরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার আলাউদ্দিনের ছেলে ফেরিওয়ালা নাজমুল (৩০) এবং টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে টমটমচালক আজিজুর রহমান (৩৬)।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২-বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার জানান, জালনোট পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির তিনটি আভিযানিক দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মোচনী এলাকায় স্থাপন করা চেকপোস্টের সংকেত অমান্য করে একটি টমটম পালানোর চেষ্টা করলে মোটরসাইকেল টহল দল ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। পরে টমটমে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে ১২টি এক হাজার টাকার নোটের বান্ডেলসহ মোট ১২ লাখ টাকার জালনোট এবং ৫ হাজার টাকার আসল বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

তার দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাজমুল ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব জালনোট হ্নীলা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে জানান।

এরপর আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাদিমুড়া বাজারের পূর্বপাশে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় বিজিবি। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জালনোট কারবারিরা ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান, ছোট্ট সেই টিনশেড ঘরেই গড়ে তোলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ জালনোট তৈরির কারখানা। সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুইটি অত্যাধুনিক প্রিন্টার, জালনোট ছাপানোর কালি, বিশেষ কাগজ এবং আনুমানিক কোটি টাকার ছাপানো জালনোট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র তিন দিন আগে দুই যুবক নিজেদের ব্রডব্যান্ড ও ওয়াই-ফাই লাইনের কর্মী পরিচয় দিয়ে ঘরটি ভাড়া নেন। মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় নেওয়া সেই ঘরেই গোপনে চলছিল জালনোট তৈরির কাজ।

বাড়ির মালিক রশিদ আহমদের স্ত্রী নুর হাবিবা বলেছেন, “ওরা বলেছিল ইন্টারনেট লাইনের কাজ করবে। তাই ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতাম না।”

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, “রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পশুর হাট ও স্থানীয় বাজারকে টার্গেট করা হয়েছে।”

বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার অবগত করেন, “ঈদুল আজহায় গবাদিপশু কেনাবেচার সময় জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল হোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”