ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
​গুরুতর রোগে আক্রান্ত রুমালিয়াছড়ার সৈয়দ আলম: টাকার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা, বাঁচতে চান তিনি টেকনাফে ব্যবসায়ীকে আইনশৃংখলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মাতারবাড়িতে ব্যবসায়ির মোবাইল চুরি, চুরি করা মোবাইল নিয়ে অনলাইন ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগ মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি!

তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার ইতিহাসে কক্সবাজারের নাম জড়িয়ে আছে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সঙ্গে। ২০০৬ সালের ২১ মে কক্সবাজারে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক তথ্য মহাসড়ক বা “ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে”-এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক সংযোগই আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত গড়ে দিয়েছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা সেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত এখন দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দুই দশক পর কক্সবাজারের সেই সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এখন দেশের আন্তর্জাতিক তথ্য ও টেলিযোগাযোগ সংযোগের প্রধান প্রবেশদ্বার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন SEA-ME-WE-4 ও SEA-ME-WE-5 সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম সফলভাবে পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৯ হাজার ৪০০ জিবিপিএস। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া আরও প্রায় ৫ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগের মধ্যেও বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ নিরাপদ, স্থিতিশীল ও পর্যাপ্ত সক্ষমতাসম্পন্ন। বিশেষ করে কক্সবাজার হয়ে স্থাপিত প্রধান সংযোগ সিঙ্গাপুর-চেন্নাই এবং সিঙ্গাপুর-ফ্রান্স রুটে পরিচালিত হওয়ায় বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় পড়ার আশঙ্কা খুবই কম।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, SEA-ME-WE-5 ক্যাবলে এখনও উল্লেখযোগ্য অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে এবং SEA-ME-WE-4-ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে “ব্যান্ডউইডথ সংকট” বা “ডিজিটাল অন্ধকার” নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয়।

এদিকে ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতি, ক্লাউড সেবা, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রজন্মের SEA-ME-WE-6 সাবমেরিন ক্যাবল বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে। ২০২৭ সালের শুরুতে এটি চালু হলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার জিবিপিএস সক্ষমতা অর্জন করবে। এতে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে কক্সবাজার হয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল কানেক্টিভিটি হাবে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনেও অনাড়ম্বর কিন্তু হৃদ্যতাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেক কেটে দুই দশকের সফল যাত্রা উদযাপন করেন এবং স্মরণ করেন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে, যখন কক্সবাজার থেকেই বাংলাদেশ প্রথমবার বৈশ্বিক তথ্য মহাসড়কে প্রবেশ করেছিল।

কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে প্রধান কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম, পিইঞ্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করেন। একই সময়ে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন।

বিএসসিপিএলসির মতে, নির্ভরযোগ্য ও সার্বভৌম আন্তর্জাতিক তথ্য অবকাঠামো এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি। আর সেই অগ্রযাত্রার সূতিকাগার হয়ে কক্সবাজার আজও দেশের ডিজিটাল ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

​গুরুতর রোগে আক্রান্ত রুমালিয়াছড়ার সৈয়দ আলম: টাকার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা, বাঁচতে চান তিনি

তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ

আপডেট সময় : ০২:৫০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার ইতিহাসে কক্সবাজারের নাম জড়িয়ে আছে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সঙ্গে। ২০০৬ সালের ২১ মে কক্সবাজারে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক তথ্য মহাসড়ক বা “ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে”-এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক সংযোগই আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত গড়ে দিয়েছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা সেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত এখন দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দুই দশক পর কক্সবাজারের সেই সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এখন দেশের আন্তর্জাতিক তথ্য ও টেলিযোগাযোগ সংযোগের প্রধান প্রবেশদ্বার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন SEA-ME-WE-4 ও SEA-ME-WE-5 সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম সফলভাবে পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৯ হাজার ৪০০ জিবিপিএস। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া আরও প্রায় ৫ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগের মধ্যেও বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ নিরাপদ, স্থিতিশীল ও পর্যাপ্ত সক্ষমতাসম্পন্ন। বিশেষ করে কক্সবাজার হয়ে স্থাপিত প্রধান সংযোগ সিঙ্গাপুর-চেন্নাই এবং সিঙ্গাপুর-ফ্রান্স রুটে পরিচালিত হওয়ায় বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় পড়ার আশঙ্কা খুবই কম।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, SEA-ME-WE-5 ক্যাবলে এখনও উল্লেখযোগ্য অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে এবং SEA-ME-WE-4-ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে “ব্যান্ডউইডথ সংকট” বা “ডিজিটাল অন্ধকার” নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয়।

এদিকে ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতি, ক্লাউড সেবা, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রজন্মের SEA-ME-WE-6 সাবমেরিন ক্যাবল বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে। ২০২৭ সালের শুরুতে এটি চালু হলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার জিবিপিএস সক্ষমতা অর্জন করবে। এতে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে কক্সবাজার হয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল কানেক্টিভিটি হাবে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনেও অনাড়ম্বর কিন্তু হৃদ্যতাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেক কেটে দুই দশকের সফল যাত্রা উদযাপন করেন এবং স্মরণ করেন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে, যখন কক্সবাজার থেকেই বাংলাদেশ প্রথমবার বৈশ্বিক তথ্য মহাসড়কে প্রবেশ করেছিল।

কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে প্রধান কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম, পিইঞ্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করেন। একই সময়ে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন।

বিএসসিপিএলসির মতে, নির্ভরযোগ্য ও সার্বভৌম আন্তর্জাতিক তথ্য অবকাঠামো এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি। আর সেই অগ্রযাত্রার সূতিকাগার হয়ে কক্সবাজার আজও দেশের ডিজিটাল ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।