ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে বৈঠকে হামলা, পরিষদে ভাঙচুর : আহত কয়েকজন কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব গড়তে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন জাবির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ আক্তার চৌধুরীকে সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সমাজ কমিটির সংবর্ধনা নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী  গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের চিঠির পর : ইসি মাছউদ এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডাম্পার চালকের মৃত্যু লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ে:ভাইয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বন্যাদুর্গত কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় তিন মাসের জন্য ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত নৈতিক স্খলনের দায়ে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কার ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিসর্জনের সুরে ‘ফিলিস্তিন মুক্তির’ প্রার্থনা

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিদায়ের মুহূর্ত এবার ভিন্ন আবেগ ছুঁয়ে গেল কক্সবাজারে। সমুদ্র সৈকতের বালুকাবেলায় বিসর্জনের সুরের সঙ্গে মিশে গেল ফিলিস্তিন মুক্তির প্রার্থনা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো মানুষের সমাগমে এমন আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অরুপ শর্মা বলছিলেন, “আমরা আজ দেবী দুর্গার বিদায় জানাচ্ছি। কিন্তু মানবতার সংগ্রাম চিরন্তন। তাই এই মুহূর্তে আমরা ফিলিস্তিনের মানুষের শান্তি ও মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছি।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শঙ্কর পাল জানান, “কক্সবাজারে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু ধর্মীয় সম্প্রীতি নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও প্রকাশ ঘটেছে এই আয়োজনের মাধ্যমে। বিদায়ের সুরে ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রার্থনা আমাদের সমবেদনা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ।”

সৈকতের বালুচরে এসময় একদল তরুণ-তরুণী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে অতসী দে বলেন, “বিজয়ার শুভেচ্ছার পাশাপাশি আমরা চাই বিশ্বশান্তি। ফিলিস্তিনের মানুষ যেনো মুক্তভাবে বাঁচতে পারে, সেটাই আমাদের আহ্বান।”
একই দলে থাকা আবদু রশিদ মানিক বলেন, “ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গানই আজ এখানে শোনা যাচ্ছে। বিজয়ার আনন্দকে আমরা ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রার্থনার সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছি।”

সাধারণ পূণ্যার্থীরাও ছিলেন আবেগে আপ্লুত। রামু থেকে আসা পূণ্যার্থী সীমা দত্ত বলেন, “আজকের দিনটা কেবল বিদায়ের নয়, মানবতার ডাকও শোনা গেল। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ফিলিস্তিন মুক্তির আহ্বান শুনে সত্যিই অন্যরকম লাগছে।”

স্থানীয় দর্শনার্থী নুরুল হাসান বলেন, “আমি মুসলিম হয়েও বিজয়া দশমীর এই দৃশ্যে উপস্থিত থেকে অভিভূত হয়েছি। এখানে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নেই, আছে শুধু সম্প্রীতি।”

তবে প্রকৃতি যেন বিদায়ের সুরে বিষণ্নতা ছড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিতে আচ্ছন্ন ছিল কক্সবাজার। বিকেলে গুড়িগুড়ি ফোঁটা পড়লেও বালুকাবেলায় জমজমাট ছিল লাখো মানুষের সমাবেশ। যারা বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই মেতে উঠেন বিজয়ার আনুষ্ঠানিকতায়।

বিদায়ের সুরে শেষ পর্যন্ত উচ্চারিত হয়েছে সুন্দর আগামীর বাণী- “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” আর সেই স্লোগানের সাথেই এবার যুক্ত হলো মানবতার প্রার্থনা- “ফিলিস্তিন হোক মুক্ত।”

জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এবারের বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রায় পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। সেনাবাহিনীও মাঠে ছিলো। নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। এত বড় সমাবেশে যেনো কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুরো সৈকত এলাকা কাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়।”

বিজয়ার মঞ্চে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সকলে একসাথে সম্প্রীতির বার্তা দেন।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের দুর্গোৎসব জেলায় ৩১৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে বৈঠকে হামলা, পরিষদে ভাঙচুর : আহত কয়েকজন

বিসর্জনের সুরে ‘ফিলিস্তিন মুক্তির’ প্রার্থনা

আপডেট সময় : ০৮:১৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিদায়ের মুহূর্ত এবার ভিন্ন আবেগ ছুঁয়ে গেল কক্সবাজারে। সমুদ্র সৈকতের বালুকাবেলায় বিসর্জনের সুরের সঙ্গে মিশে গেল ফিলিস্তিন মুক্তির প্রার্থনা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো মানুষের সমাগমে এমন আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অরুপ শর্মা বলছিলেন, “আমরা আজ দেবী দুর্গার বিদায় জানাচ্ছি। কিন্তু মানবতার সংগ্রাম চিরন্তন। তাই এই মুহূর্তে আমরা ফিলিস্তিনের মানুষের শান্তি ও মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছি।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শঙ্কর পাল জানান, “কক্সবাজারে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু ধর্মীয় সম্প্রীতি নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও প্রকাশ ঘটেছে এই আয়োজনের মাধ্যমে। বিদায়ের সুরে ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রার্থনা আমাদের সমবেদনা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ।”

সৈকতের বালুচরে এসময় একদল তরুণ-তরুণী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে অতসী দে বলেন, “বিজয়ার শুভেচ্ছার পাশাপাশি আমরা চাই বিশ্বশান্তি। ফিলিস্তিনের মানুষ যেনো মুক্তভাবে বাঁচতে পারে, সেটাই আমাদের আহ্বান।”
একই দলে থাকা আবদু রশিদ মানিক বলেন, “ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গানই আজ এখানে শোনা যাচ্ছে। বিজয়ার আনন্দকে আমরা ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রার্থনার সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছি।”

সাধারণ পূণ্যার্থীরাও ছিলেন আবেগে আপ্লুত। রামু থেকে আসা পূণ্যার্থী সীমা দত্ত বলেন, “আজকের দিনটা কেবল বিদায়ের নয়, মানবতার ডাকও শোনা গেল। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ফিলিস্তিন মুক্তির আহ্বান শুনে সত্যিই অন্যরকম লাগছে।”

স্থানীয় দর্শনার্থী নুরুল হাসান বলেন, “আমি মুসলিম হয়েও বিজয়া দশমীর এই দৃশ্যে উপস্থিত থেকে অভিভূত হয়েছি। এখানে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নেই, আছে শুধু সম্প্রীতি।”

তবে প্রকৃতি যেন বিদায়ের সুরে বিষণ্নতা ছড়িয়ে দিয়েছে। ভোর থেকে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিতে আচ্ছন্ন ছিল কক্সবাজার। বিকেলে গুড়িগুড়ি ফোঁটা পড়লেও বালুকাবেলায় জমজমাট ছিল লাখো মানুষের সমাবেশ। যারা বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই মেতে উঠেন বিজয়ার আনুষ্ঠানিকতায়।

বিদায়ের সুরে শেষ পর্যন্ত উচ্চারিত হয়েছে সুন্দর আগামীর বাণী- “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” আর সেই স্লোগানের সাথেই এবার যুক্ত হলো মানবতার প্রার্থনা- “ফিলিস্তিন হোক মুক্ত।”

জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এবারের বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রায় পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। সেনাবাহিনীও মাঠে ছিলো। নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। এত বড় সমাবেশে যেনো কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুরো সৈকত এলাকা কাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়।”

বিজয়ার মঞ্চে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সকলে একসাথে সম্প্রীতির বার্তা দেন।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের দুর্গোৎসব জেলায় ৩১৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়।