ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ টেকনাফের হ্নীলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ১০-১২টি বসতবাড়ি কক্সবাজার শহরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় ১৮ কেজি গাঁজা স্ত্রীর পাতা ফাঁদে অপহরণ, অপহৃতদের হাতে প্রাণ গেল তিন অপহরণকারীর কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে উশো-কারাতে ক্লাবের উদ্বোধন প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

১৬ ঘন্টায় ৬ মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজার উপকূলে

গত ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে একে একে ছয় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল থেকে। এরমধ্যে এখনো দুই মরদেহের পরিচয় সনাক্ত হয়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, সদর থানা এলাকার মধ্যে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনজন পর্যটক ও একজন স্থানীয়। আরেকজনের মরদেহ গলিত উদ্ধার, যার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ওসি ইলিয়াস খান বলেন, তিন পর্যটকের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হয় রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্টে। তিনি চট্টগ্রামের ডিসি রোড এলাকার নজির আহমদের ছেলে মো রাজিব। রাজিব বিকেল ৫টার দিকে সীগাল পয়েন্টে গোসলে নেমে ভেসে যায়।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে অন্য দুই পর্যটক বাবা- ছেলে একসাথে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় উদ্ধার হয় সৈকতের সায়মন পয়েন্ট থেকে। লাইফগার্ড কর্মীরা উদ্ধারের পর রাজশাহীর শাহীনুর রহমান ও তার ছেলে সিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।

এছাড়াও সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাগরের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হয় কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার নুরু সওদাগর এর মরদেহ। তিনি রোববার বিকেলে শখের বশে মাছ ধরে গিয়ে সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে ভেসে যায়।

পরে বেলা ১২টার দিকে খুরুশকুলের আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন এলাকা বাঁকখালীর মোহনা থেকে উদ্ধার হয় আরো একটি অজ্ঞাত গলিত মরদেহ। যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে রামু থানার ওসি মু. তৈয়বুর রহমান জানান, সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ এলাকায় সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার হয়। যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

সিসেইফ লাইফগার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী সাইফুল্লাহ সিফাত বিডিনিউজকে জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল নেমে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে গুপ্ত খালের তৈরি হয়। যেখানে পড়লেই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটকরা। নির্দিষ্ট স্থানে গোসলে না নেমে এর বাইরে গোসলে নামলেই মিসিং হচ্ছে। তারপরও লাইফগার্ড চেষ্টা করে যাচ্ছে। আজকে সকাল থেকেই বিপদগ্রস্ত ৬ জনকে আমরা জীবিত উদ্ধার করেছি।

সিফাত বলেন, যে পরিমাণ পর্যটক মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মী দিয়ে সম্ভব নয়। তাও আবার দুই সিফটে ভাগ হয়ে ১৩ জন করে তারা দায়িত্ব পালন করেন। যা খুবই অপ্রতুল।

বিগত কয়েকবছর ধরে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার অধীনে সিসেইফ লাইফ গার্ড কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কাজ করে থাকেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৬ ঘন্টায় ৬ মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজার উপকূলে

আপডেট সময় : ০৪:০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

গত ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে একে একে ছয় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল থেকে। এরমধ্যে এখনো দুই মরদেহের পরিচয় সনাক্ত হয়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, সদর থানা এলাকার মধ্যে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনজন পর্যটক ও একজন স্থানীয়। আরেকজনের মরদেহ গলিত উদ্ধার, যার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ওসি ইলিয়াস খান বলেন, তিন পর্যটকের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হয় রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্টে। তিনি চট্টগ্রামের ডিসি রোড এলাকার নজির আহমদের ছেলে মো রাজিব। রাজিব বিকেল ৫টার দিকে সীগাল পয়েন্টে গোসলে নেমে ভেসে যায়।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে অন্য দুই পর্যটক বাবা- ছেলে একসাথে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় উদ্ধার হয় সৈকতের সায়মন পয়েন্ট থেকে। লাইফগার্ড কর্মীরা উদ্ধারের পর রাজশাহীর শাহীনুর রহমান ও তার ছেলে সিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।

এছাড়াও সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাগরের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হয় কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার নুরু সওদাগর এর মরদেহ। তিনি রোববার বিকেলে শখের বশে মাছ ধরে গিয়ে সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে ভেসে যায়।

পরে বেলা ১২টার দিকে খুরুশকুলের আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন এলাকা বাঁকখালীর মোহনা থেকে উদ্ধার হয় আরো একটি অজ্ঞাত গলিত মরদেহ। যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে রামু থানার ওসি মু. তৈয়বুর রহমান জানান, সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ এলাকায় সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার হয়। যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

সিসেইফ লাইফগার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী সাইফুল্লাহ সিফাত বিডিনিউজকে জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল নেমে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে গুপ্ত খালের তৈরি হয়। যেখানে পড়লেই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটকরা। নির্দিষ্ট স্থানে গোসলে না নেমে এর বাইরে গোসলে নামলেই মিসিং হচ্ছে। তারপরও লাইফগার্ড চেষ্টা করে যাচ্ছে। আজকে সকাল থেকেই বিপদগ্রস্ত ৬ জনকে আমরা জীবিত উদ্ধার করেছি।

সিফাত বলেন, যে পরিমাণ পর্যটক মাত্র ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মী দিয়ে সম্ভব নয়। তাও আবার দুই সিফটে ভাগ হয়ে ১৩ জন করে তারা দায়িত্ব পালন করেন। যা খুবই অপ্রতুল।

বিগত কয়েকবছর ধরে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার অধীনে সিসেইফ লাইফ গার্ড কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কাজ করে থাকেন।