ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

১০ দিন, ছেলেটা আজও ফিরলো না…

প্রতিদিন জোয়ার আসে ভাটা হয়। উপকূলের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে অসংখ্য লোকের সাথে কথা বলছেন সাকিব হাসান। তার একমাত্র প্রিয় সন্তান অরিত্রের খোঁজ নেই আজ ১০ দিন।

গেলো সপ্তাহের মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজার সৈকতের হিমছড়িতে গোসেলে নেমে ভেসে যায় অরিত্রসহ তিন বন্ধু। দুই বন্ধুর লাশ ভেসে এলেও এখনো সন্ধান নেই অরিত্রের।

অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান ১০ দিন ধরে সন্তানের খোঁজে আছেন কক্সবাজার। তিনি বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সাথে কথা বলছি, তারা বলছিলেন, সাগর যা নিয়ে যায় তা ফিরিয়ে দেয়। আমি সে আশা নিয়েই ঘুরছি। যেকোন অবস্থায় আমি আমার ছেলেটাকে চাই। ”

নিখোঁজ অরিত্রের মা-বাবাসহ চাচা-চাচিরাও এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে যেতে। সবার দৃষ্টি সমুদ্রের অথৈ জলে। স্বজনদের চোখের নোনা জল শুকিয়ে এসেছে তবুও যেনো অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না।

পৃথিবীতে অপেক্ষা বলে শব্দটা যে কতটা দীর্ঘ হতে পারে তা হয়তো অরিত্রের পরিবারের চেয়ে কেউ বুঝতে পারছে না।

অরিত্রের বাবা করুণ কন্ঠে বারংবার বলছিলেন, “ওকে(অরিত্র) পেলে বলবো- বাবা আজকে থেকে চিরকাল আমি তোমার সাথে থাকবো। আমাকে তুমি কিন্তু ফিরাই দিয়ো না আমার কাছে থাকো। তোমার হাতটা ধরবো, তোমার ইউনিভার্সিটির পাশে একটা বাসা নিয়ে সাথে থাকবো।”

পিতার এ আকুতি অরিত্রের কানে কী পোঁছাবে?

অরিত্র নিখোঁজের চতুর্থ দিন তার মা জেসমিন আক্তারের সাথে কথা হয়েছিলো আমাদের। তিনি বারবার বলছিলেন- “এই অথৈ সমুদ্রে তো আমি আমার ছেলেকে রেখে যেতে পারবো না। ছেলেকে রেখে বাসায় আমি একটা মুহুর্তও থাকতে পারবো না। যে কোন অবস্থাতে হোক আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।”

“আমার ছেলে রেখে যেতে পারব আমি? আমার ছেলেটা আমার বুকে ফিরে আসুক এটাই আমি চাই।”

অরিত্রের মায়ের বুক তাকে ডাকছে।

পরিবারের সবার কাছে অরিত্র ছিলো প্রিয়জন। তার চাচাতো বোনও চেয়ে আছে সাগরের দিকে। বলছিলেন- “ভাইয়ের শেষ চিহ্নটুকু হলেও নিয়ে যেতে চাই। আমরা আট ভাইবোন তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হলেও একসাথে থাকতে চাই।”

সি-সেইফ লাইফ গার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী মোহাম্মদ ওসমান টিটিএনকে জানান, দশম দিনের মতো তারা আজকেও অরিত্রে খোঁজে সন্ধান অভিযান চালিয়েছেন।

মোহাম্মদ ওসমান বলেন, “আমরা খুঁজছি। বিভিন্ন জায়গায় জেলেদের বলে এসেছি। তারাও যেনো সন্ধান পেলে খবর দেন।”

গেলো সপ্তাহের সোমবার (৬জুলাই) পাঁচ বন্ধুসহ অরিত্র কক্সবাজার আসেন। ৭ জুলাই সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে গোসলে নেমে ভেসে যায় তিন বন্ধু। সেখান থেকে সাবাব ও আসিফ নামের অন্য দুজনের লাশ ভেসে আসলেই এখনো সন্ধান নেই অরিত্র হাসানের।

তারা প্রত্যেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে বেড়াতে আসেন কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা

১০ দিন, ছেলেটা আজও ফিরলো না…

আপডেট সময় : ০৭:৫২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

প্রতিদিন জোয়ার আসে ভাটা হয়। উপকূলের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে অসংখ্য লোকের সাথে কথা বলছেন সাকিব হাসান। তার একমাত্র প্রিয় সন্তান অরিত্রের খোঁজ নেই আজ ১০ দিন।

গেলো সপ্তাহের মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজার সৈকতের হিমছড়িতে গোসেলে নেমে ভেসে যায় অরিত্রসহ তিন বন্ধু। দুই বন্ধুর লাশ ভেসে এলেও এখনো সন্ধান নেই অরিত্রের।

অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান ১০ দিন ধরে সন্তানের খোঁজে আছেন কক্সবাজার। তিনি বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সাথে কথা বলছি, তারা বলছিলেন, সাগর যা নিয়ে যায় তা ফিরিয়ে দেয়। আমি সে আশা নিয়েই ঘুরছি। যেকোন অবস্থায় আমি আমার ছেলেটাকে চাই। ”

নিখোঁজ অরিত্রের মা-বাবাসহ চাচা-চাচিরাও এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে যেতে। সবার দৃষ্টি সমুদ্রের অথৈ জলে। স্বজনদের চোখের নোনা জল শুকিয়ে এসেছে তবুও যেনো অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না।

পৃথিবীতে অপেক্ষা বলে শব্দটা যে কতটা দীর্ঘ হতে পারে তা হয়তো অরিত্রের পরিবারের চেয়ে কেউ বুঝতে পারছে না।

অরিত্রের বাবা করুণ কন্ঠে বারংবার বলছিলেন, “ওকে(অরিত্র) পেলে বলবো- বাবা আজকে থেকে চিরকাল আমি তোমার সাথে থাকবো। আমাকে তুমি কিন্তু ফিরাই দিয়ো না আমার কাছে থাকো। তোমার হাতটা ধরবো, তোমার ইউনিভার্সিটির পাশে একটা বাসা নিয়ে সাথে থাকবো।”

পিতার এ আকুতি অরিত্রের কানে কী পোঁছাবে?

অরিত্র নিখোঁজের চতুর্থ দিন তার মা জেসমিন আক্তারের সাথে কথা হয়েছিলো আমাদের। তিনি বারবার বলছিলেন- “এই অথৈ সমুদ্রে তো আমি আমার ছেলেকে রেখে যেতে পারবো না। ছেলেকে রেখে বাসায় আমি একটা মুহুর্তও থাকতে পারবো না। যে কোন অবস্থাতে হোক আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।”

“আমার ছেলে রেখে যেতে পারব আমি? আমার ছেলেটা আমার বুকে ফিরে আসুক এটাই আমি চাই।”

অরিত্রের মায়ের বুক তাকে ডাকছে।

পরিবারের সবার কাছে অরিত্র ছিলো প্রিয়জন। তার চাচাতো বোনও চেয়ে আছে সাগরের দিকে। বলছিলেন- “ভাইয়ের শেষ চিহ্নটুকু হলেও নিয়ে যেতে চাই। আমরা আট ভাইবোন তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হলেও একসাথে থাকতে চাই।”

সি-সেইফ লাইফ গার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী মোহাম্মদ ওসমান টিটিএনকে জানান, দশম দিনের মতো তারা আজকেও অরিত্রে খোঁজে সন্ধান অভিযান চালিয়েছেন।

মোহাম্মদ ওসমান বলেন, “আমরা খুঁজছি। বিভিন্ন জায়গায় জেলেদের বলে এসেছি। তারাও যেনো সন্ধান পেলে খবর দেন।”

গেলো সপ্তাহের সোমবার (৬জুলাই) পাঁচ বন্ধুসহ অরিত্র কক্সবাজার আসেন। ৭ জুলাই সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে গোসলে নেমে ভেসে যায় তিন বন্ধু। সেখান থেকে সাবাব ও আসিফ নামের অন্য দুজনের লাশ ভেসে আসলেই এখনো সন্ধান নেই অরিত্র হাসানের।

তারা প্রত্যেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে বেড়াতে আসেন কক্সবাজার।