ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিখোঁজের ৫ দিন পর পাহাড়ের ঢালুতে মিলল শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন: জেলার নতুন উপজেলা “মাতামুহুরি” সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই হত্যাকান্ডের ঘটনায় আটক ১১ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন হাসিনা ১২ মে থেকে ঈদ পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকবে এনসিপির কার্যালয়ে মার্কিন কূটনীতিক রবীন্দ্রজয়ন্তী: শুক্রবার, পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে পর্যটকের নিরাপত্তা সেমিনার, চুরি যাওয়া মোবাইল ফেরত দিল লামা থানা টেকনাফের উত্তর শিলখালীতে প্রাচীন খাল ভরাট: বিলীন হচ্ছে রেকর্ডীয় জমি, খননের দাবি ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ টেকনাফে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক: মোটর সাইকেল জব্দ কক্সবাজারে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে সাংবাদিকদের কর্মশালা কক্সবাজারের এডিসি ইমরান হোসাইন সজীবকে বান্দরবানে বদলী পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী তুলে নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ত্রীকে নির্যাতন শেষে ‘ঝুলিয়ে’ হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া এলাকায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূর নাম নূর আয়েশা (২৭)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মাহবুব আলম পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নূর আয়েশার মৃত্যুর খবর পান তার বাবা-মা। মাহবুব আলম উখিয়া উপজেলার নজির হোসেন ও হোসনে আরার ছেলে।

নিহতের মা নূর খাতুন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন মাহবুব। তাঁর ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতেও যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহবুব আলম নূর আয়েশাকে মারধর করেন। এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

মেয়ের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়া নূর খাতুন বিলাপ করে বলেন, “আমার মেয়েকে ওরা সুখে থাকতে দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতেও মারধর করা হয়েছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এই খুনের বিচার চাই।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক মাহবুব আলমকে গ্রেপ্তারে তারা অভিযান শুরু করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেছেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি নিশ্চিত করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা জানা যাবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের ৫ দিন পর পাহাড়ের ঢালুতে মিলল শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ

স্ত্রীকে নির্যাতন শেষে ‘ঝুলিয়ে’ হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া এলাকায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূর নাম নূর আয়েশা (২৭)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মাহবুব আলম পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নূর আয়েশার মৃত্যুর খবর পান তার বাবা-মা। মাহবুব আলম উখিয়া উপজেলার নজির হোসেন ও হোসনে আরার ছেলে।

নিহতের মা নূর খাতুন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন মাহবুব। তাঁর ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতেও যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহবুব আলম নূর আয়েশাকে মারধর করেন। এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

মেয়ের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়া নূর খাতুন বিলাপ করে বলেন, “আমার মেয়েকে ওরা সুখে থাকতে দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতেও মারধর করা হয়েছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এই খুনের বিচার চাই।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক মাহবুব আলমকে গ্রেপ্তারে তারা অভিযান শুরু করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেছেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি নিশ্চিত করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা জানা যাবে।