ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব গড়তে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন জাবির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ আক্তার চৌধুরীকে সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সমাজ কমিটির সংবর্ধনা নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী  গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের চিঠির পর : ইসি মাছউদ এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডাম্পার চালকের মৃত্যু লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ে:ভাইয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বন্যাদুর্গত কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় তিন মাসের জন্য ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত নৈতিক স্খলনের দায়ে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কার ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস

সোনার আংটি পরা কি হারাম?

  • ধর্ম ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • 408

ইসলামে আংটি পরা সাধারণভাবে বৈধ হলেও এর সঙ্গে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য সোনার আংটি হারাম বলে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মুসলমানদের আংটি পরা নিষিদ্ধ এমন কোনো দলিল নেই। তবে কিছু বিষয় মানা জরুরি—যেমন, পুরুষদের জন্য সোনা পরা নিষিদ্ধ, আল্লাহর নাম লেখা আংটি না পরা এবং অহংকার এবং প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে অলংকার পরা নিষেধ।

পুরুষদের জন্য সোনার আংটি হারাম

নবী করিম (সা.)-এর এক হাদিসে এসেছে, তিনি এক হাতে সিল্ক ও অন্য হাতে সোনা ধরে বলেন, ‘এই দুইটি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম, আর নারীদের জন্য হালাল।’ (ইবনে মাজাহ)

তাই ইসলামে পুরুষদের সোনা ব্যবহার করা, বিশেষ করে আংটি বা অলংকার হিসেবে নিষিদ্ধ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহর নাম বা কোরআনের আয়াত লেখা আংটি পরা শোভন নয়। কারণ, তা পরা অবস্থায় টয়লেটে যাওয়া অসম্মানজনক। কেউ চাইলে টয়লেটে যাওয়ার আগে আংটি খুলে রাখতে পারে, তবে এমন ঝামেলা এড়ানোই উত্তম।

এছাড়া অনেক সময় মানুষ ভুলবশত মনে করে, কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা আংটি পরলে তা বিপদ থেকে রক্ষা করবে। এ ধরনের বিশ্বাস শিরকের কাছাকাছি, কারণ রক্ষা একমাত্র আল্লাহর হাতেই, কোনো বস্তুর মাধ্যমে নয়।

প্রদর্শনীর জন্য অলংকারের ব্যবহার

আংটি বা গয়না পরা দোষণীয় নয়, যতক্ষণ তা নিজের পছন্দ, সৌন্দর্যের জন্য হয়। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় অন্যকে দেখানো, গর্ব করা বা সম্পদ জাহির করা, তাহলে তা ইসলামী দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।

বিয়ের আংটি কি বিদআত?

অনেকে মনে করেন, বিয়ের আংটি পরা বিদআত বা ইসলামবিরোধী উদ্ভাবন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিয়ের আংটি যদি কেউ ইসলামী রীতি হিসেবে না বরং সংস্কৃতি বা পারিবারিক প্রথা হিসেবে পরে, তবে তা বিদআত নয়।

বিয়ের আংটি ইসলামী বিয়ের শর্ত নয়; এটি শুধু ভালোবাসা ও অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা সাংস্কৃতিকভাবে বৈধ।

ইসলামে মূলত আংটি পরা নিয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে অহংকার, শিরক বা হারাম বস্তু ব্যবহারের ঝুঁকি যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সূত্র : অ্যাবাউট ইসলাম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব গড়তে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান

সোনার আংটি পরা কি হারাম?

আপডেট সময় : ০৩:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামে আংটি পরা সাধারণভাবে বৈধ হলেও এর সঙ্গে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য সোনার আংটি হারাম বলে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মুসলমানদের আংটি পরা নিষিদ্ধ এমন কোনো দলিল নেই। তবে কিছু বিষয় মানা জরুরি—যেমন, পুরুষদের জন্য সোনা পরা নিষিদ্ধ, আল্লাহর নাম লেখা আংটি না পরা এবং অহংকার এবং প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে অলংকার পরা নিষেধ।

পুরুষদের জন্য সোনার আংটি হারাম

নবী করিম (সা.)-এর এক হাদিসে এসেছে, তিনি এক হাতে সিল্ক ও অন্য হাতে সোনা ধরে বলেন, ‘এই দুইটি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম, আর নারীদের জন্য হালাল।’ (ইবনে মাজাহ)

তাই ইসলামে পুরুষদের সোনা ব্যবহার করা, বিশেষ করে আংটি বা অলংকার হিসেবে নিষিদ্ধ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহর নাম বা কোরআনের আয়াত লেখা আংটি পরা শোভন নয়। কারণ, তা পরা অবস্থায় টয়লেটে যাওয়া অসম্মানজনক। কেউ চাইলে টয়লেটে যাওয়ার আগে আংটি খুলে রাখতে পারে, তবে এমন ঝামেলা এড়ানোই উত্তম।

এছাড়া অনেক সময় মানুষ ভুলবশত মনে করে, কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা আংটি পরলে তা বিপদ থেকে রক্ষা করবে। এ ধরনের বিশ্বাস শিরকের কাছাকাছি, কারণ রক্ষা একমাত্র আল্লাহর হাতেই, কোনো বস্তুর মাধ্যমে নয়।

প্রদর্শনীর জন্য অলংকারের ব্যবহার

আংটি বা গয়না পরা দোষণীয় নয়, যতক্ষণ তা নিজের পছন্দ, সৌন্দর্যের জন্য হয়। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় অন্যকে দেখানো, গর্ব করা বা সম্পদ জাহির করা, তাহলে তা ইসলামী দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।

বিয়ের আংটি কি বিদআত?

অনেকে মনে করেন, বিয়ের আংটি পরা বিদআত বা ইসলামবিরোধী উদ্ভাবন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিয়ের আংটি যদি কেউ ইসলামী রীতি হিসেবে না বরং সংস্কৃতি বা পারিবারিক প্রথা হিসেবে পরে, তবে তা বিদআত নয়।

বিয়ের আংটি ইসলামী বিয়ের শর্ত নয়; এটি শুধু ভালোবাসা ও অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা সাংস্কৃতিকভাবে বৈধ।

ইসলামে মূলত আংটি পরা নিয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে অহংকার, শিরক বা হারাম বস্তু ব্যবহারের ঝুঁকি যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সূত্র : অ্যাবাউট ইসলাম