ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, সোমবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে  সেই নবদম্পতির জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসলেন উখিয়ার সেই ইউপি সদস্য, তদন্তের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে- ববি হাজ্জাজ  খুরুশকুলের শিশু উর্মি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা : আসামী ৩ জন কক্সবাজার: স্বপ্নের পথে মৃত্যু, আর কত? জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি স্বপ্না-নিরাপত্তা জোরদার, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে উখিয়ায় জামায়াত-এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপির কে? ইনানী সী পার্ল রিসোর্ট – চাকচিক্যের আড়ালে রাষ্ট্রের ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!  স্থানীয় সরকার নির্বাচন – কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর ও উখিয়ায় প্রার্থী দিল এনসিপি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কর্মশালায় ফারুক ওয়াসিফ-প্রযুক্তির এই যুগে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ববি হাজ্জাজ মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে ৫ জামায়াত-বিএনপি নেতা আটক কক্সবাজারে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম প্রশিক্ষণ
সায়ন্তন ভট্টাচার্যের ফিচার-

রোনালদো: সময়ের বিপরীতে এক অদম্য যোদ্ধা

আর্মেনিয়ার আকাশে হালকা শীতের আবেশ। রাতের ম্যাচে আলো ঝলমল করছে স্টেডিয়াম, দর্শকদের গর্জনে কাঁপছে চারদিক। পর্তুগালের তরুণেরা মাঠে নামছে তাজা উদ্যম আর গতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে। দলের গড় বয়স মাত্র ২৫.৭ বছর। আর সবার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন এক মানুষ, যিনি ৪০ বছর বয়সে এখনও সেই একই দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন গোলপোস্টের দিকে। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বয়স যেন সংখ্যার খেলাই বটে। রোনালদোর পরে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্যান্সেলোই যখন ৩১, তখনও রোনালদো তাঁর থেকে ৯ বছরের সিনিয়র। ১৪ বছরের বয়সের ব্যবধান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একদল তরুণ প্রতিভার সঙ্গে সমানে সমান। ফুটবলে যেখানে ২৭ বছরকেই ধরা হয় খেলোয়াড়দের সেরা বয়স, সেখানে রোনালদো সেই প্রাইমকে বহু আগেই অতিক্রম করেছেন। অথচ শরীরের ভাষা বলে অন্য কথা। মাঠে তাঁর দৌড়, লাফ, চিৎকার—সবকিছু এখনও যেন এক অদম্য যোদ্ধার মতোই।

রোনালদোর ২৩ বছরের ক্যারিয়ার এক মহাকাব্যের মতো। এত অর্জন, এত ট্রফি, এত গোল—যেখানে পাঁচ বছরের সাফল্য পেলেও যে কাউকে কিংবদন্তি বলা যেত। কিন্তু তাঁর জন্য সেটাই ন্যূনতম। ছোট্ট কোনো ভুল, সামান্য কোনো বিচ্যুতিই হয়তো সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলতে পারত। অথচ রোনালদোর ভেতরে নেই সে ভয়। নেই কোনও ইনসিকিউরিটি, নেই ব্যর্থতার আতঙ্ক। কারণ তিনি জানেন—খেলা মানেই তাঁর অস্তিত্ব।

স্টেডিয়ামের আলো যখন তাঁর মুখে পড়ে, চোখে দেখা যায় অদ্ভুত এক দৃঢ়তা। ২০ বছরের জোয়াও নেভেসের পাশে দাঁড়িয়েও তিনি নিজেকে ছোট ভাবেন না। বরং মনে করিয়ে দেন—বয়স কেবল একটি সংখ্যা নয়, বয়স কেবল একটি চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জ জেতাই তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র।

“Age is just a number”—সাধারণ মানুষের জন্য কথাটা যতটা অবাস্তব, রোনালদোর জন্য ততটাই বাস্তব। তিনি যেন প্রতিদিন লড়ছেন যুক্তির সঙ্গে, সময়ের সঙ্গে। প্রতিদিন প্রমাণ করছেন, লজিককে হার মানাতে পারে কেবল অনমনীয় মানসিকতা।

ট্রফি, রেকর্ড, গ্লোরি—এসব ভুলে গেলেও তাঁর মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। রোনালদো শুধু once in a generation নন, once in a lifetime নন—তিনি once in history।

স্টেডিয়ামের ভিড়ে যখন আবারও শোনা যায় তাঁর নাম ধ্বনিত হচ্ছে, বোঝা যায়—এমন একজন আর জন্মাবে না। না ফুটবলে, না অন্য কোথাও।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

সায়ন্তন ভট্টাচার্যের ফিচার-

রোনালদো: সময়ের বিপরীতে এক অদম্য যোদ্ধা

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আর্মেনিয়ার আকাশে হালকা শীতের আবেশ। রাতের ম্যাচে আলো ঝলমল করছে স্টেডিয়াম, দর্শকদের গর্জনে কাঁপছে চারদিক। পর্তুগালের তরুণেরা মাঠে নামছে তাজা উদ্যম আর গতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে। দলের গড় বয়স মাত্র ২৫.৭ বছর। আর সবার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন এক মানুষ, যিনি ৪০ বছর বয়সে এখনও সেই একই দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন গোলপোস্টের দিকে। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বয়স যেন সংখ্যার খেলাই বটে। রোনালদোর পরে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্যান্সেলোই যখন ৩১, তখনও রোনালদো তাঁর থেকে ৯ বছরের সিনিয়র। ১৪ বছরের বয়সের ব্যবধান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একদল তরুণ প্রতিভার সঙ্গে সমানে সমান। ফুটবলে যেখানে ২৭ বছরকেই ধরা হয় খেলোয়াড়দের সেরা বয়স, সেখানে রোনালদো সেই প্রাইমকে বহু আগেই অতিক্রম করেছেন। অথচ শরীরের ভাষা বলে অন্য কথা। মাঠে তাঁর দৌড়, লাফ, চিৎকার—সবকিছু এখনও যেন এক অদম্য যোদ্ধার মতোই।

রোনালদোর ২৩ বছরের ক্যারিয়ার এক মহাকাব্যের মতো। এত অর্জন, এত ট্রফি, এত গোল—যেখানে পাঁচ বছরের সাফল্য পেলেও যে কাউকে কিংবদন্তি বলা যেত। কিন্তু তাঁর জন্য সেটাই ন্যূনতম। ছোট্ট কোনো ভুল, সামান্য কোনো বিচ্যুতিই হয়তো সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলতে পারত। অথচ রোনালদোর ভেতরে নেই সে ভয়। নেই কোনও ইনসিকিউরিটি, নেই ব্যর্থতার আতঙ্ক। কারণ তিনি জানেন—খেলা মানেই তাঁর অস্তিত্ব।

স্টেডিয়ামের আলো যখন তাঁর মুখে পড়ে, চোখে দেখা যায় অদ্ভুত এক দৃঢ়তা। ২০ বছরের জোয়াও নেভেসের পাশে দাঁড়িয়েও তিনি নিজেকে ছোট ভাবেন না। বরং মনে করিয়ে দেন—বয়স কেবল একটি সংখ্যা নয়, বয়স কেবল একটি চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জ জেতাই তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র।

“Age is just a number”—সাধারণ মানুষের জন্য কথাটা যতটা অবাস্তব, রোনালদোর জন্য ততটাই বাস্তব। তিনি যেন প্রতিদিন লড়ছেন যুক্তির সঙ্গে, সময়ের সঙ্গে। প্রতিদিন প্রমাণ করছেন, লজিককে হার মানাতে পারে কেবল অনমনীয় মানসিকতা।

ট্রফি, রেকর্ড, গ্লোরি—এসব ভুলে গেলেও তাঁর মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে। রোনালদো শুধু once in a generation নন, once in a lifetime নন—তিনি once in history।

স্টেডিয়ামের ভিড়ে যখন আবারও শোনা যায় তাঁর নাম ধ্বনিত হচ্ছে, বোঝা যায়—এমন একজন আর জন্মাবে না। না ফুটবলে, না অন্য কোথাও।